ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তিতুমীরের Logo আজও সমুদ্র বন্দরে ৩, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত Logo এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর Logo যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে উৎসাহ দেবে পাকিস্তান Logo কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার Logo সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন Logo নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জোরালো সমর্থন চেয়েছেন উপদেষ্টা তিতুমীর Logo বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ভীষণ হতাশ : বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আক্ষেপ এমবাপ্পের

উৎসবমুখর নির্বাচন চাই, সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন বলে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর এবং সবার অংশগ্রহণমূলক একটি উৎসব হিসেবে দেখতে চান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার ১৯ নভেম্বর মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কোর্স ২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা। বক্তৃতায় তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ উৎসবে রূপ দিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা অপরিহার্য। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে আনন্দমুখর করতে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কারণেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতি সবসময়ই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তারাও তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি একজন কর্মকর্তা বলেন, ডিএসসিএসসিতে পাওয়া নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক জ্ঞান ভবিষ্যতে যে কোনো জাতীয় সংকটে প্রয়োগ করা যাবে। তিনি বলেন, অর্জিত অভিজ্ঞতা প্রয়োজনে নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনেও কাজে লাগবে।

চীনের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে সামরিক প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখছে। তার মতে, ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় তাদের বোঝাপড়া ও পেশাগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিজ নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজে আসবে।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে দেশব্যাপী আরেকটি বিষয়ও উঠে আসে। মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর ভারতকে হারিয়ে ২২ বছর পর ফুটবলে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ের জন্য তিনি জাতীয় ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানান। তার মতে, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, এটি জাতিকে নতুন অনুপ্রেরণা দেয়। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলের গৌরবময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক শক্তিতে উদ্বুদ্ধ করে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফুটবলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতের সরকারগুলোও এই সমর্থন ধরে রাখবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
৩ বার পঠিত হয়েছে

উৎসবমুখর নির্বাচন চাই, সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন বলে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট এর সময় : ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর এবং সবার অংশগ্রহণমূলক একটি উৎসব হিসেবে দেখতে চান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার ১৯ নভেম্বর মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কোর্স ২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা। বক্তৃতায় তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ উৎসবে রূপ দিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা অপরিহার্য। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে আনন্দমুখর করতে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কারণেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতি সবসময়ই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তারাও তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি একজন কর্মকর্তা বলেন, ডিএসসিএসসিতে পাওয়া নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক জ্ঞান ভবিষ্যতে যে কোনো জাতীয় সংকটে প্রয়োগ করা যাবে। তিনি বলেন, অর্জিত অভিজ্ঞতা প্রয়োজনে নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনেও কাজে লাগবে।

চীনের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে সামরিক প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখছে। তার মতে, ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় তাদের বোঝাপড়া ও পেশাগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিজ নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজে আসবে।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে দেশব্যাপী আরেকটি বিষয়ও উঠে আসে। মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর ভারতকে হারিয়ে ২২ বছর পর ফুটবলে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ের জন্য তিনি জাতীয় ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানান। তার মতে, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, এটি জাতিকে নতুন অনুপ্রেরণা দেয়। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলের গৌরবময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক শক্তিতে উদ্বুদ্ধ করে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফুটবলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতের সরকারগুলোও এই সমর্থন ধরে রাখবে।