ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের কারবার

প্রতিনিধির নাম :

সারাদেশে অবাধে বেচাকেনা হচ্ছে মাদক। এটা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০১৮ সালের ৪ মে একযোগে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রায় ৪০০ মাদক কারবারি নিহত হয়। গ্রেফতার হয় দুই লক্ষাধিক মাদক কারবারি। কিন্তু তারপরও বন্ধ করা যায়নি মাদকের ব্যবসা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মাদক নির্মূল হোক এবং সে লক্ষ্যে তারা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বড়ো বড়ো শহরে মাদকবিরোধী অভিযানে তারা আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বেগ পেতে হচ্ছে উপজেলাগুলোতে। কারণ হিসেবে তারা একটি দুষ্ট চক্রকে দায়ী করেছেন। যারা যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলের আস্থাভাজন হয়ে নানা অপকর্ম করে।

এসব কর্মকর্তা আরো বলেন, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের প্রথম কয়েক মাসে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক মাদক কারবারি নিহত হতে থাকে। আর এ কারণে অনেক মাদক কারবারি প্রাণভয়ে এলাকা থেকে অন্যত্র আত্মগোপন করে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো ছিল মাদকসেবী শূন্য। কিন্তু সম্প্রতি আবার মাদক কারবারিরা বিশেষ করে উপজেলা শহরগুলোতে আগের মতোই মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। স্থানীয় সেই রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট দুষ্ট চক্র মাদক কারবারিদের আগের মতোই সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

এই দুষ্ট চক্র সম্পর্কে তারা বলেন, যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলের আশীর্বাদপুষ্ট এই দুষ্ট চক্র মাদক কারবারিদের শেল্টার দিয়ে থাকে। উপজেলাগুলোতে মাদক কারবারি ও মাদক স্পট সম্পর্কে সবারই ধারণা আছে। এদের সবাই চেনে। এই দুষ্ট চক্রের আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই চিহ্নিত মাদক কারবারিরা আবার এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তারা আবার আগের মতোই মাদক কারবার শুরু করেছে। জমে উঠতে শুরু করেছে চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো। স্থানীয় প্রশাসন এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু শেষটায় ঐ দুষ্ট চক্রের কারণে তারা না দেখার ভান করছেন। এমনকি মাদকসহ আটক কারবারিদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এ কারণেই মাদক নির্মূল অভিযান মফস্সল এলাকাতে সফল করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, তেমন মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। মাদককে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।’

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘মাদকের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক তাকে এই পেশা ছাড়তে হবে। কেউই র্যাবের অপারেশনের বাইরে থাকবে না। কার কী পরিচয়, অপারেশনকালে তা কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না।’

প্রসঙ্গত, সারাদেশে ৭০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি হবে না। মোট জনগোষ্ঠীর অনুপাতে এ সংখ্যা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিদিন সেবন হয় ২০ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট। মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে সেই মাদক। ২০১০ সালে ৮১ হাজার ট্যাবলেট আটক করা হয়েছিল। আর ২০১৯ সালে উদ্ধার হয়েছে ৫ কোটি ইয়াবা ট্যাবলেট। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হয়।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০
২৩ বার পঠিত হয়েছে

‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের কারবার

আপডেট এর সময় : ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০

সারাদেশে অবাধে বেচাকেনা হচ্ছে মাদক। এটা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০১৮ সালের ৪ মে একযোগে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রায় ৪০০ মাদক কারবারি নিহত হয়। গ্রেফতার হয় দুই লক্ষাধিক মাদক কারবারি। কিন্তু তারপরও বন্ধ করা যায়নি মাদকের ব্যবসা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মাদক নির্মূল হোক এবং সে লক্ষ্যে তারা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বড়ো বড়ো শহরে মাদকবিরোধী অভিযানে তারা আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বেগ পেতে হচ্ছে উপজেলাগুলোতে। কারণ হিসেবে তারা একটি দুষ্ট চক্রকে দায়ী করেছেন। যারা যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলের আস্থাভাজন হয়ে নানা অপকর্ম করে।

এসব কর্মকর্তা আরো বলেন, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের প্রথম কয়েক মাসে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক মাদক কারবারি নিহত হতে থাকে। আর এ কারণে অনেক মাদক কারবারি প্রাণভয়ে এলাকা থেকে অন্যত্র আত্মগোপন করে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো ছিল মাদকসেবী শূন্য। কিন্তু সম্প্রতি আবার মাদক কারবারিরা বিশেষ করে উপজেলা শহরগুলোতে আগের মতোই মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। স্থানীয় সেই রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট দুষ্ট চক্র মাদক কারবারিদের আগের মতোই সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

এই দুষ্ট চক্র সম্পর্কে তারা বলেন, যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলের আশীর্বাদপুষ্ট এই দুষ্ট চক্র মাদক কারবারিদের শেল্টার দিয়ে থাকে। উপজেলাগুলোতে মাদক কারবারি ও মাদক স্পট সম্পর্কে সবারই ধারণা আছে। এদের সবাই চেনে। এই দুষ্ট চক্রের আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই চিহ্নিত মাদক কারবারিরা আবার এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তারা আবার আগের মতোই মাদক কারবার শুরু করেছে। জমে উঠতে শুরু করেছে চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো। স্থানীয় প্রশাসন এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু শেষটায় ঐ দুষ্ট চক্রের কারণে তারা না দেখার ভান করছেন। এমনকি মাদকসহ আটক কারবারিদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এ কারণেই মাদক নির্মূল অভিযান মফস্সল এলাকাতে সফল করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, তেমন মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। মাদককে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।’

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘মাদকের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক তাকে এই পেশা ছাড়তে হবে। কেউই র্যাবের অপারেশনের বাইরে থাকবে না। কার কী পরিচয়, অপারেশনকালে তা কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না।’

প্রসঙ্গত, সারাদেশে ৭০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি হবে না। মোট জনগোষ্ঠীর অনুপাতে এ সংখ্যা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিদিন সেবন হয় ২০ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট। মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে সেই মাদক। ২০১০ সালে ৮১ হাজার ট্যাবলেট আটক করা হয়েছিল। আর ২০১৯ সালে উদ্ধার হয়েছে ৫ কোটি ইয়াবা ট্যাবলেট। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হয়।