ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম

গাজায় ইসরাইলের গুলিবর্ষণ বন্ধ, বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে

প্রতিনিধির নাম :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শুক্রবার গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের বিধ্বস্ত ঘর-বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে, গাজা নগর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মানুষের ফিরে আসার ঢল নেমেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দুই বছরের নৃশংস যুদ্ধের পর গাজায় ইসরাইলের অবশিষ্ট জিম্মিদের পরিবারগুলোও আশা করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় সই হওয়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। ট্রাম্প নিজেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধবিরতি ‘বহাল থাকবে’, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইসরাইল এবং হামাস ‘যুদ্ধে ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য’ তারা স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (০৯০০ জিএমটি) গুলিবর্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন ঘন্টা পর, পেন্টাগন নিশ্চিত করে যে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ ইসরাইল সম্পন্ন করেছে। ইসরাইলি বাহিনী এখনও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ দখলে রেখেছে।

এই প্রত্যাহারের ফলে হামাসের জন্য একটি ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হলো, যার মধ্যে তাদের গাজায় আটক থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। এদিকে, ইসরাইল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর তালিকা প্রকাশ করেছে যাদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাস ইসরাইলের ওপর হামলার মাধ্যমে সর্বশেষ সংঘাত শুরু করার পর থেকে আটক ১ হাজার ৭শ’ জনকে মুক্তি দিবে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর, ফিলিস্তিনিরা, যারা দুই বছর ধরে প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ এবং জাতিসংঘের সতর্কতা  অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, খান ইউনিস থেকে তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বিশাল অংশ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার শুরু করেছে। ইতালি জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪ অক্টোবর একটি পথচারী ক্রসিং পুনরায় চালু করবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে, হামাস দুই বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলায় অপহৃত ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে ৪৭ জন জীবিত এবং মৃতকে হস্তান্তর করবে। ২০১৪ সাল থেকে গাজায় আটক এক জিম্মির মরদেহও ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সোমবার মিশরের এক সভায় ‘অনেক নেতা’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা নিয়ে আলোচনা হবে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক শান্তির দিকে নিয়ে যাবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
১৬ বার পঠিত হয়েছে

গাজায় ইসরাইলের গুলিবর্ষণ বন্ধ, বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে

আপডেট এর সময় : ০২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শুক্রবার গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের বিধ্বস্ত ঘর-বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে, গাজা নগর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মানুষের ফিরে আসার ঢল নেমেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দুই বছরের নৃশংস যুদ্ধের পর গাজায় ইসরাইলের অবশিষ্ট জিম্মিদের পরিবারগুলোও আশা করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় সই হওয়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। ট্রাম্প নিজেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধবিরতি ‘বহাল থাকবে’, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইসরাইল এবং হামাস ‘যুদ্ধে ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য’ তারা স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (০৯০০ জিএমটি) গুলিবর্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন ঘন্টা পর, পেন্টাগন নিশ্চিত করে যে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ ইসরাইল সম্পন্ন করেছে। ইসরাইলি বাহিনী এখনও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ দখলে রেখেছে।

এই প্রত্যাহারের ফলে হামাসের জন্য একটি ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হলো, যার মধ্যে তাদের গাজায় আটক থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। এদিকে, ইসরাইল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর তালিকা প্রকাশ করেছে যাদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাস ইসরাইলের ওপর হামলার মাধ্যমে সর্বশেষ সংঘাত শুরু করার পর থেকে আটক ১ হাজার ৭শ’ জনকে মুক্তি দিবে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর, ফিলিস্তিনিরা, যারা দুই বছর ধরে প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ এবং জাতিসংঘের সতর্কতা  অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, খান ইউনিস থেকে তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বিশাল অংশ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার শুরু করেছে। ইতালি জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪ অক্টোবর একটি পথচারী ক্রসিং পুনরায় চালু করবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে, হামাস দুই বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলায় অপহৃত ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে ৪৭ জন জীবিত এবং মৃতকে হস্তান্তর করবে। ২০১৪ সাল থেকে গাজায় আটক এক জিম্মির মরদেহও ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সোমবার মিশরের এক সভায় ‘অনেক নেতা’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা নিয়ে আলোচনা হবে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক শান্তির দিকে নিয়ে যাবে।