ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

গাজায় নার্সকে গুলি করে মারল ইসরায়েলিরা

প্রতিনিধির নাম :

গাজায় আহত ফিলিস্তিনিদের সেবা দেয়ার সময় এক নার্সকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। গাজা সিটির পূর্ব দিকে খান ইউনিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও রয়টার্স।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সি রাজান আল নাজ্জার নামের ওই সেচ্ছাসেবি নার্সের বুকে গুলি করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরফলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, ইসরায়েলের গুলিতে আহত হওয়া এক ব্যক্তি মাঠে পড়ে ছিল। তাকে উদ্ধার করা ও সেবা দেয়ার জন্য দৌড় দেন রাজান। তখনই তাকে গুলি করা হয়।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, নার্সের সাদা ইউনিফর্ম পরা ছিল রাজানের। এছাড়া তিনি তার হাত উঁচু করেছিলেন। কিন্তু নার্সের পোশাক পরিধান এবং হাত উঁচু করা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী তার বুকে গুলি করে।

ফিলিস্তিনে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সংস্থার সূত্র দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সরাসরি গুলির কারণে ৪০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আড়াই মাস ধরে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। এসময় কয়েক সপ্তাহে এসব নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি করে সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৪ মে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে গুলি করে ৬০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও সংগঠন। এছাড়া এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় অনেক দেশ। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে গাজার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব উঠলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে। সর্বশেষ ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে মত দেয়।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮
১২ বার পঠিত হয়েছে

গাজায় নার্সকে গুলি করে মারল ইসরায়েলিরা

আপডেট এর সময় : ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

গাজায় আহত ফিলিস্তিনিদের সেবা দেয়ার সময় এক নার্সকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। গাজা সিটির পূর্ব দিকে খান ইউনিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও রয়টার্স।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সি রাজান আল নাজ্জার নামের ওই সেচ্ছাসেবি নার্সের বুকে গুলি করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরফলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, ইসরায়েলের গুলিতে আহত হওয়া এক ব্যক্তি মাঠে পড়ে ছিল। তাকে উদ্ধার করা ও সেবা দেয়ার জন্য দৌড় দেন রাজান। তখনই তাকে গুলি করা হয়।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, নার্সের সাদা ইউনিফর্ম পরা ছিল রাজানের। এছাড়া তিনি তার হাত উঁচু করেছিলেন। কিন্তু নার্সের পোশাক পরিধান এবং হাত উঁচু করা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী তার বুকে গুলি করে।

ফিলিস্তিনে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সংস্থার সূত্র দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সরাসরি গুলির কারণে ৪০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আড়াই মাস ধরে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। এসময় কয়েক সপ্তাহে এসব নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি করে সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৪ মে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে গুলি করে ৬০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও সংগঠন। এছাড়া এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় অনেক দেশ। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে গাজার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব উঠলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে। সর্বশেষ ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে মত দেয়।