ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে, কয়েকজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি

সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে শুরু হয়েছে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছে সমস্ত আস্তানা। অভিযানে ইতোমধ্যে চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান।

সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ অভিযান শুরু হয়েছে যা আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানা যায়। প্রায় ২ দুই যুগের বেশি সময় ধরে জঙ্গল সেলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এটিই সবচেয়ে বড় অভিযান।

অভিযানের কৌশল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান চলাকালে কোনো চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডগ স্কোয়াড।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানান, যৌথ বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৫৫০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র‌্যাব, ১২০ বিজিবি, ১৫ এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ অংশ নিয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

মূলত গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব-৭-এর একজন নায়েব সুবেদার নিহত এবং আহত হন আরও তিনজন। এঘটনার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, সোমবার রাতেই জঙ্গল সলিমপুরের সবগুলো প্রবেশমুখ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাহিনীর সদস্যরা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান থেকে ফিরে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের জানান, পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর খবর পেয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় পরে জানানো হবে।

অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
১৮ বার পঠিত হয়েছে

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে, কয়েকজন গ্রেফতার

আপডেট এর সময় : ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে শুরু হয়েছে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছে সমস্ত আস্তানা। অভিযানে ইতোমধ্যে চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান।

সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ অভিযান শুরু হয়েছে যা আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানা যায়। প্রায় ২ দুই যুগের বেশি সময় ধরে জঙ্গল সেলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এটিই সবচেয়ে বড় অভিযান।

অভিযানের কৌশল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান চলাকালে কোনো চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডগ স্কোয়াড।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানান, যৌথ বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৫৫০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র‌্যাব, ১২০ বিজিবি, ১৫ এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ অংশ নিয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

মূলত গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব-৭-এর একজন নায়েব সুবেদার নিহত এবং আহত হন আরও তিনজন। এঘটনার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, সোমবার রাতেই জঙ্গল সলিমপুরের সবগুলো প্রবেশমুখ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাহিনীর সদস্যরা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান থেকে ফিরে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের জানান, পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর খবর পেয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় পরে জানানো হবে।

অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।