ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম

জোহরান মামদানির ট্রানজিশন টিমের সহ-সভাপতি হিসাবে লিনা খান মনোনীত

প্রতিনিধির নাম :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি কয়েক দিন আগে তার ট্রানজিশন টিমের সহ-সভাপতি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান লিনা খানকে মনোনীত করেছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্র্যাট পারদর্শিতা ও কঠোর অ্যান্টিট্রাস্ট অবস্থানের কারণে বহু কোম্পানি ও করপোরেট মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। জানা যায়, তিনি যুক্তরাজ্যে জন্ম নিলেও ১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন।

লিনা খান কে?

লিনা খান ২০২১ সালের ১৫ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এফটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি মার্কিন অ্যান্টিট্রাস্ট ও ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান হয়ে দায়িত্ব নেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে।

এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুতেই তিনি বাজারে করপোরেট একীভবন ও আধিপত্য নিয়ে বিশেষ গবেষণা ও রিপোর্টিং করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নীতিগত লক্ষ্য ছিল অ্যান্টিট্রাস্ট আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, নন-কমপিট চুক্তি সীমিতকরণ, সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবাকে প্রভাবিত করে এমন অবৈধ কার্যচর্চা মোকাবিলা করা।এফটিসিতে যোগদানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির অ্যান্টিট্রাস্ট সাবকমিটির কাউন্সেল এবং কলম্বিয়া ল’ স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তার উচ্চশিক্ষা উইলিয়ামস কলেজ এবং ইয়েল ল’ স্কুল থেকে সম্পন্ন।

মামদানি’র টিমে লিনা খানের ভূমিকা

‘পড সেভ আমেরিকা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিনা খান জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি মেয়রের ক্ষমতার বিস্তৃতি ও প্রয়োগ নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক নীতি, জনবল নিয়োগ এবং শহরকে আরও সাশ্রয়ী করতে নতুন প্রশাসনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিশ্চিত করার কাজ করছেন।

কেন লিনা খান ছিলেন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরোধিতার মুখে?

বাইডেন আমলে এফটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মামলা করেছিলেন—যার কিছু সফল হলেও কিছু ব্যর্থ হয়েছে। মাইক্রোসফটের অ্যাকটিভিশন-ব্লিজার্ড অধিগ্রহণ ঠেকাতে তিনি ব্যর্থ হন।

তিনি ক্রোগার-অ্যালবার্টসন্সের মধ্যে প্রস্তাবিত একীভবন বাতিল করেন এবং শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তনে বাধা দেওয়া নন-কমপিট চুক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন—যা পরে আদালতে স্থগিত হয়।ব্লুমবার্গ জানায়, তার কড়া অবস্থান ও কার্যক্রম ওয়াল স্ট্রিট, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষুব্ধ করে। লিঙ্কডইন সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান, আইএসি চেয়ারম্যান ব্যারি ডিলার, ভিনোদ খোসলা, পিটার থিয়েলসহ অনেকে অভিযোগ তোলেন—তিনি ‘ব্যবসার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।

ইয়েল ল’ স্কুলে অধ্যয়নকালে তার লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধ Amazon’s Antitrust Paradox—এ তিনি দাবি করেন, অ্যামাজন শিকারমূলক মূল্যনীতির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ব্যাহত করছে এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় তারা সরকারের নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে।

নিউইয়র্কের বড় কোম্পানিগুলোর জন্য বার্তা কী?

যদিও সিটি পর্যায়ে লিনা খানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে গুগল, মেটা, অ্যামাজনসহ প্রযুক্তি জায়ান্টদের নিউইয়র্কে বড় কার্যক্রম রয়েছে।

টাস্ক স্ট্র্যাটেজিজের উন্নত প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এরিক সুফার নিউইয়র্ক পোস্ট–কে বলেন, মামদানি লিনা খানকে দলে নেওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে সতর্কবার্তা হিসাবে দেখতে পারে। তার মতে, অনেকেই প্রথম দিকে অস্থিরতায় ভুগতে পারেন, যতক্ষণ না লিনা খান ও ট্রানজিশন টিম তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার করেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
৫ বার পঠিত হয়েছে

জোহরান মামদানির ট্রানজিশন টিমের সহ-সভাপতি হিসাবে লিনা খান মনোনীত

আপডেট এর সময় : ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি কয়েক দিন আগে তার ট্রানজিশন টিমের সহ-সভাপতি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান লিনা খানকে মনোনীত করেছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্র্যাট পারদর্শিতা ও কঠোর অ্যান্টিট্রাস্ট অবস্থানের কারণে বহু কোম্পানি ও করপোরেট মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। জানা যায়, তিনি যুক্তরাজ্যে জন্ম নিলেও ১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন।

লিনা খান কে?

লিনা খান ২০২১ সালের ১৫ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এফটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি মার্কিন অ্যান্টিট্রাস্ট ও ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান হয়ে দায়িত্ব নেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে।

এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুতেই তিনি বাজারে করপোরেট একীভবন ও আধিপত্য নিয়ে বিশেষ গবেষণা ও রিপোর্টিং করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নীতিগত লক্ষ্য ছিল অ্যান্টিট্রাস্ট আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, নন-কমপিট চুক্তি সীমিতকরণ, সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবাকে প্রভাবিত করে এমন অবৈধ কার্যচর্চা মোকাবিলা করা।এফটিসিতে যোগদানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির অ্যান্টিট্রাস্ট সাবকমিটির কাউন্সেল এবং কলম্বিয়া ল’ স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তার উচ্চশিক্ষা উইলিয়ামস কলেজ এবং ইয়েল ল’ স্কুল থেকে সম্পন্ন।

মামদানি’র টিমে লিনা খানের ভূমিকা

‘পড সেভ আমেরিকা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিনা খান জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি মেয়রের ক্ষমতার বিস্তৃতি ও প্রয়োগ নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক নীতি, জনবল নিয়োগ এবং শহরকে আরও সাশ্রয়ী করতে নতুন প্রশাসনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিশ্চিত করার কাজ করছেন।

কেন লিনা খান ছিলেন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরোধিতার মুখে?

বাইডেন আমলে এফটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মামলা করেছিলেন—যার কিছু সফল হলেও কিছু ব্যর্থ হয়েছে। মাইক্রোসফটের অ্যাকটিভিশন-ব্লিজার্ড অধিগ্রহণ ঠেকাতে তিনি ব্যর্থ হন।

তিনি ক্রোগার-অ্যালবার্টসন্সের মধ্যে প্রস্তাবিত একীভবন বাতিল করেন এবং শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তনে বাধা দেওয়া নন-কমপিট চুক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন—যা পরে আদালতে স্থগিত হয়।ব্লুমবার্গ জানায়, তার কড়া অবস্থান ও কার্যক্রম ওয়াল স্ট্রিট, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষুব্ধ করে। লিঙ্কডইন সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান, আইএসি চেয়ারম্যান ব্যারি ডিলার, ভিনোদ খোসলা, পিটার থিয়েলসহ অনেকে অভিযোগ তোলেন—তিনি ‘ব্যবসার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।

ইয়েল ল’ স্কুলে অধ্যয়নকালে তার লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধ Amazon’s Antitrust Paradox—এ তিনি দাবি করেন, অ্যামাজন শিকারমূলক মূল্যনীতির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ব্যাহত করছে এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় তারা সরকারের নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে।

নিউইয়র্কের বড় কোম্পানিগুলোর জন্য বার্তা কী?

যদিও সিটি পর্যায়ে লিনা খানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে গুগল, মেটা, অ্যামাজনসহ প্রযুক্তি জায়ান্টদের নিউইয়র্কে বড় কার্যক্রম রয়েছে।

টাস্ক স্ট্র্যাটেজিজের উন্নত প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এরিক সুফার নিউইয়র্ক পোস্ট–কে বলেন, মামদানি লিনা খানকে দলে নেওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে সতর্কবার্তা হিসাবে দেখতে পারে। তার মতে, অনেকেই প্রথম দিকে অস্থিরতায় ভুগতে পারেন, যতক্ষণ না লিনা খান ও ট্রানজিশন টিম তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার করেন।