ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

তের বছর পর ডা. নিতাই হত্যা মামলার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মহাখালীতে আলোচিত চিকিৎসক নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক রেজাউল করিম এ রায় ঘোষণা করেন। সাজা ঘোষণার সময় কারাগার থেকে হাজির করা ১০ আসামিকেই আদালতে উপস্থিত রাখা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান প্রসিকিউটর মোয়াজ্জেম হোসেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কামরুল হাসান অরুণ, মাসুম মিন্টু, সাইদ ব্যাপারী, বকুল মিয়া ও সাইদ মিজি। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আবুল কালাম, সাইদুল, ফয়সাল ও পেদা মাসুম। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রফিকুল ইসলামকে।

ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে। সেদিন মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন ডা. নিতাই। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন শুধু তার বৃদ্ধা মা, আর স্ত্রী লাকী চৌধুরী অবস্থান করছিলেন চট্টগ্রামে। পরদিন নিহতের বাবা তড়িৎ কান্তি দত্ত বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, চুরির উদ্দেশ্যে আসামিরা ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল। চুরি ধরা পড়ে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবেই নিতাইকে হত্যা করা হয়। পরে আসামিরা বাসা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ২২ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং আসামিদের মধ্য থেকে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

প্রসঙ্গত, এ মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। তবে সেই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর অবশেষে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হলো, যেখানে আদালত সব আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
১১ বার পঠিত হয়েছে

তের বছর পর ডা. নিতাই হত্যা মামলার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মহাখালীতে আলোচিত চিকিৎসক নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক রেজাউল করিম এ রায় ঘোষণা করেন। সাজা ঘোষণার সময় কারাগার থেকে হাজির করা ১০ আসামিকেই আদালতে উপস্থিত রাখা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান প্রসিকিউটর মোয়াজ্জেম হোসেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কামরুল হাসান অরুণ, মাসুম মিন্টু, সাইদ ব্যাপারী, বকুল মিয়া ও সাইদ মিজি। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আবুল কালাম, সাইদুল, ফয়সাল ও পেদা মাসুম। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রফিকুল ইসলামকে।

ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে। সেদিন মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন ডা. নিতাই। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন শুধু তার বৃদ্ধা মা, আর স্ত্রী লাকী চৌধুরী অবস্থান করছিলেন চট্টগ্রামে। পরদিন নিহতের বাবা তড়িৎ কান্তি দত্ত বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, চুরির উদ্দেশ্যে আসামিরা ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল। চুরি ধরা পড়ে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবেই নিতাইকে হত্যা করা হয়। পরে আসামিরা বাসা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ২২ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং আসামিদের মধ্য থেকে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

প্রসঙ্গত, এ মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। তবে সেই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর অবশেষে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হলো, যেখানে আদালত সব আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন।