ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

নারী আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করেছে সৌদি

প্রতিনিধির নাম :

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাড়ি চালাতে পারবেন সৌদি নারীরা। এমন ঘটনা কার্যকরের আগেই পাঁচজন নারী ও দুইজন পুরুষ অধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি, যাদের কয়েকজন সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। খবর বিবিসির।

মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছে যে সৌদি নারীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে ‘বিদেশি শক্তি’র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন লাউজাইন আল-হাতলুল এবং এমান আল-নাফজান। এরা দুজনেই সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন।

বিশ্বে সৌদি আরবই একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না। দেশটির বিদ্যমান ব্যবস্থায় পুরুষেরাই কেবল গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পান। কোনো নারী যদি জনসম্মুখে গাড়ি চালান, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার ও জরিমানা করা হয়।

নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিতে কয়েক বছর ধরে দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রচার চালিয়ে আসছিল।

মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হওয়ার পর নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকরের অনুমতি দেয়। তার মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি সংক্রান্ত একটি আদেশও জারি করা হয়। আদেশটি আগামী মাসের ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে।

গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মিজ নাফজান এবং মিজ নুর ২০১৬ সালে সরকারের কাছে এক পিটিশনে সই করেছিলেন যেখানে সৌদি নারীদের ওপর পুরুষদের অভিভাবকের কর্তৃত্ব বিলোপ করার ডাক দেয়া হয়।

এই কর্তৃত্বের কারণে সৌদি নারীরা নিজের ইচ্ছেমত বিয়ে করতে পারেন না, একা একা বিদেশে যেতে পারেন না এবং পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন না।

মিজ হাথলুলকেও এপর্যন্ত দু’বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায় তিনি গাড়ি চালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে চেয়েছিলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গত ১৫ মে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দেখায়নি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮
১২ বার পঠিত হয়েছে

নারী আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করেছে সৌদি

আপডেট এর সময় : ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাড়ি চালাতে পারবেন সৌদি নারীরা। এমন ঘটনা কার্যকরের আগেই পাঁচজন নারী ও দুইজন পুরুষ অধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি, যাদের কয়েকজন সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। খবর বিবিসির।

মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছে যে সৌদি নারীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে ‘বিদেশি শক্তি’র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন লাউজাইন আল-হাতলুল এবং এমান আল-নাফজান। এরা দুজনেই সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন।

বিশ্বে সৌদি আরবই একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না। দেশটির বিদ্যমান ব্যবস্থায় পুরুষেরাই কেবল গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পান। কোনো নারী যদি জনসম্মুখে গাড়ি চালান, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার ও জরিমানা করা হয়।

নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিতে কয়েক বছর ধরে দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রচার চালিয়ে আসছিল।

মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হওয়ার পর নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকরের অনুমতি দেয়। তার মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি সংক্রান্ত একটি আদেশও জারি করা হয়। আদেশটি আগামী মাসের ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে।

গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মিজ নাফজান এবং মিজ নুর ২০১৬ সালে সরকারের কাছে এক পিটিশনে সই করেছিলেন যেখানে সৌদি নারীদের ওপর পুরুষদের অভিভাবকের কর্তৃত্ব বিলোপ করার ডাক দেয়া হয়।

এই কর্তৃত্বের কারণে সৌদি নারীরা নিজের ইচ্ছেমত বিয়ে করতে পারেন না, একা একা বিদেশে যেতে পারেন না এবং পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন না।

মিজ হাথলুলকেও এপর্যন্ত দু’বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায় তিনি গাড়ি চালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে চেয়েছিলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গত ১৫ মে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দেখায়নি।