ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বামপন্থী মামদানি

প্রতিনিধির নাম :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির তরুণ মুখ জোহরান মামদানি বুধবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি নেন। তাঁর মেয়াদকাল জুড়ে  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েনের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাতে পৌঁছালে (গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার ০৫:০০ টায়), ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মামদানি শপথ নেওয়ার কথা। পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে হবে শপথ অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্ব নেবেন তিনি। নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হচ্ছেন মামদানি।

তাঁর দপ্তর জানায়, শপথের জন্য এই সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয় কর্মজীবী মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।

বুধবার এক্সে মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্কের মানুষের কথা শোনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রচারণা গড়ে উঠেছে। আমরা সেভাবেই শাসন করব। আগামীকাল থেকেই কাজে নেমে পড়ছি।’

তবে এক বছর আগেও প্রায় অপরিচিত থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মসূচিতে ভাড়া স্থগিত, সবার জন্য শিশুযত্ন এবং বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন বাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকী বিষয়গুলোর গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। ফলাফল তখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

মামদানির সিটি হলে আগমনকে ট্রাম্প কীভাবে নেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিউইয়র্কের এই রিপাবলিকান বারবার মামদানিকে সমালোচনা করেছেন। তবে নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে তাঁদের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিংকন মিচেল বলেন, ওই বৈঠক ‘মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে এর চেয়ে ভালো হতে পারত না।’ তবে তিনি সম্পর্ক দ্রুতই তিক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

একটি সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হতে পারে অভিবাসন অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যখন কঠোর অভিযান জোরদার করছেন, মামদানি তখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

মধ্যরাতে চার বছরের মেয়াদ শুরু করতে মামদানির ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হবে। সেখানে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী মিত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ।

সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার টিকিটধারী অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, শহরের ইতিহাসে এই প্রথম একাধিক কোরআন ব্যবহার করে মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন মামদানি। এর মধ্যে দুটি তাঁর পরিবারের ও একটি পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ লেখক আর্তুরো শোমবার্গের ব্যবহৃত কোরআন।

নতুন দায়িত্বের সঙ্গে ঠিকানাও বদলাচ্ছেন তিনি। কুইন্সে নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে ম্যানহাটনের বিলাসবহুল মেয়র ভবনে উঠছেন। সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার পক্ষে প্রচারণা চালানোয় তিনি সেখানে উঠবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মামদানি বলেন, মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি সরকারি বাসভবনে যাচ্ছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। অভিজাত পরিবেশে বড় হলেও রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন।

অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তিনি আগের মেয়র প্রশাসন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের অভিজ্ঞ সহকারীদের নিয়ে দল গড়েছেন।

তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
৪৪ বার পঠিত হয়েছে

নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বামপন্থী মামদানি

আপডেট এর সময় : ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির তরুণ মুখ জোহরান মামদানি বুধবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি নেন। তাঁর মেয়াদকাল জুড়ে  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েনের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাতে পৌঁছালে (গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার ০৫:০০ টায়), ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মামদানি শপথ নেওয়ার কথা। পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে হবে শপথ অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্ব নেবেন তিনি। নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হচ্ছেন মামদানি।

তাঁর দপ্তর জানায়, শপথের জন্য এই সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয় কর্মজীবী মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।

বুধবার এক্সে মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্কের মানুষের কথা শোনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রচারণা গড়ে উঠেছে। আমরা সেভাবেই শাসন করব। আগামীকাল থেকেই কাজে নেমে পড়ছি।’

তবে এক বছর আগেও প্রায় অপরিচিত থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মসূচিতে ভাড়া স্থগিত, সবার জন্য শিশুযত্ন এবং বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন বাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকী বিষয়গুলোর গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। ফলাফল তখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

মামদানির সিটি হলে আগমনকে ট্রাম্প কীভাবে নেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিউইয়র্কের এই রিপাবলিকান বারবার মামদানিকে সমালোচনা করেছেন। তবে নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে তাঁদের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিংকন মিচেল বলেন, ওই বৈঠক ‘মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে এর চেয়ে ভালো হতে পারত না।’ তবে তিনি সম্পর্ক দ্রুতই তিক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

একটি সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হতে পারে অভিবাসন অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যখন কঠোর অভিযান জোরদার করছেন, মামদানি তখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

মধ্যরাতে চার বছরের মেয়াদ শুরু করতে মামদানির ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হবে। সেখানে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী মিত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ।

সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার টিকিটধারী অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, শহরের ইতিহাসে এই প্রথম একাধিক কোরআন ব্যবহার করে মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন মামদানি। এর মধ্যে দুটি তাঁর পরিবারের ও একটি পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ লেখক আর্তুরো শোমবার্গের ব্যবহৃত কোরআন।

নতুন দায়িত্বের সঙ্গে ঠিকানাও বদলাচ্ছেন তিনি। কুইন্সে নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে ম্যানহাটনের বিলাসবহুল মেয়র ভবনে উঠছেন। সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার পক্ষে প্রচারণা চালানোয় তিনি সেখানে উঠবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মামদানি বলেন, মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি সরকারি বাসভবনে যাচ্ছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। অভিজাত পরিবেশে বড় হলেও রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন।

অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তিনি আগের মেয়র প্রশাসন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের অভিজ্ঞ সহকারীদের নিয়ে দল গড়েছেন।

তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছেন।