ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

পুঁজিবাজারে পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে দেশের দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে পৃথক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।

ডিএসই ও সিএসই–এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ১৫ অনুসারে গত ৫ নভেম্বর থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একই দিনে একটি চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ওই অধ্যাদেশ অনুসারে পরিচালিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একীভূতকরণের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে একটি নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে শেয়ারগুলোর ভ্যালু শূন্য হিসেবে গণ্য হবে এবং কাউকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।”

এ ঘোষণার পর থেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। লেনদেন স্থগিতের ঘোষণার পর বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসি যদি একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থগিতাদেশ দিত, তাহলে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়তেন না।

ডিএসই–এর তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৫ শতাংশের বেশি শেয়ার। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে এ অনুপাত প্রায় ৩২ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৩২ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকে ৩৯ শতাংশ এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ মাত্র ১৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকগুলো এখন থেকে প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে নতুন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এক্সিম ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে মোহাম্মদ আবুল হাসেমকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের বড় ধরনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত। তারা মনে করছেন, সরকার যদি দক্ষভাবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারে, তবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি বাজারের আস্থা ফিরে আসতে পারে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
১১ বার পঠিত হয়েছে

পুঁজিবাজারে পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ

আপডেট এর সময় : ০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে দেশের দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে পৃথক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।

ডিএসই ও সিএসই–এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ১৫ অনুসারে গত ৫ নভেম্বর থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একই দিনে একটি চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ওই অধ্যাদেশ অনুসারে পরিচালিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একীভূতকরণের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে একটি নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে শেয়ারগুলোর ভ্যালু শূন্য হিসেবে গণ্য হবে এবং কাউকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।”

এ ঘোষণার পর থেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। লেনদেন স্থগিতের ঘোষণার পর বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসি যদি একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থগিতাদেশ দিত, তাহলে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়তেন না।

ডিএসই–এর তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৫ শতাংশের বেশি শেয়ার। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে এ অনুপাত প্রায় ৩২ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৩২ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকে ৩৯ শতাংশ এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ মাত্র ১৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকগুলো এখন থেকে প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে নতুন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এক্সিম ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে মোহাম্মদ আবুল হাসেমকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের বড় ধরনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত। তারা মনে করছেন, সরকার যদি দক্ষভাবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারে, তবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি বাজারের আস্থা ফিরে আসতে পারে।