ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট

প্রতিনিধির নাম :

গাজা সীমান্তে সরাসরি গুলি চালিয়ে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেছিলো দুটি মানবাধিকার সংস্থা। বৃহস্পতিবার সেই পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত। ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলি বন্ধের জন্য করা পিটিশন খারিজ করার পাশাপাশি সরাসরি গুলি করার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

তিনজন বিচারকের ওই বেঞ্চ প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ নেয়। পিটিশন খারিজের পর আদালতের দেয়া বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদেরকে ইসরায়েলিদের জন্য ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক উল্লেখ করে তাদের রুখতে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরাসরি গুলি করার বৈধতা দেয়া হয়। খবর আল জাজিরার।

ইসরায়েল বলছে, সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইন মেনে সরাসরি গুলি করছে তাদের বাহিনীর সদস্যরা। সংঘাত সৃষ্টিকারী হামাসের বিক্ষোভ থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই তারা সরাসরি গুলি করছে বলেও জানায় ইসরায়েল।

পিটিশন খারিজ করে জারি করা রুলে ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলি করার পক্ষে মত দেয় ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট। গাজা সীমান্তে সরাসরি গুলি বন্ধের জন্য পিটিশন দায়ের করে ইসরায়েলে আরব সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন `আদালত’ এবং ‘আল মিজান’।

শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে দুই মানবাধিকার সংগঠন জানায়, পিটিশনে উপস্থাপিত বিস্তারিত প্রমাণ ও গাজায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যার নৃশংস ঘটনার বর্ণনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক রিপোর্ট সহ বিভিন্ন প্রমাণ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত।

এছাড়া পিটিশনে প্রমাণ হিসেবে দেয়া ভিডিওগুলোও প্রত্যাখান করে আদালত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আদালত প্রকৃতপক্ষে মামলার তদন্তের পরিবর্তে রাষ্ট্রের সঙ্গে ঐক্যমত্য পোষণ করেছে।

গত ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আড়াই মাস ধরে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। এসময় কয়েক সপ্তাহে এসব নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি করে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৪ মে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে গুলি করে ৬০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও সংগঠন। এছাড়া এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় অনেক দেশ। জাতিসংঘের জরুরী বৈঠকে গাজার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব উঠলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে। সর্বশেষ ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে মত দিলো।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮
৯ বার পঠিত হয়েছে

ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট এর সময় : ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

গাজা সীমান্তে সরাসরি গুলি চালিয়ে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেছিলো দুটি মানবাধিকার সংস্থা। বৃহস্পতিবার সেই পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত। ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলি বন্ধের জন্য করা পিটিশন খারিজ করার পাশাপাশি সরাসরি গুলি করার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

তিনজন বিচারকের ওই বেঞ্চ প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ নেয়। পিটিশন খারিজের পর আদালতের দেয়া বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদেরকে ইসরায়েলিদের জন্য ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক উল্লেখ করে তাদের রুখতে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরাসরি গুলি করার বৈধতা দেয়া হয়। খবর আল জাজিরার।

ইসরায়েল বলছে, সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইন মেনে সরাসরি গুলি করছে তাদের বাহিনীর সদস্যরা। সংঘাত সৃষ্টিকারী হামাসের বিক্ষোভ থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই তারা সরাসরি গুলি করছে বলেও জানায় ইসরায়েল।

পিটিশন খারিজ করে জারি করা রুলে ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলি করার পক্ষে মত দেয় ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট। গাজা সীমান্তে সরাসরি গুলি বন্ধের জন্য পিটিশন দায়ের করে ইসরায়েলে আরব সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন `আদালত’ এবং ‘আল মিজান’।

শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে দুই মানবাধিকার সংগঠন জানায়, পিটিশনে উপস্থাপিত বিস্তারিত প্রমাণ ও গাজায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যার নৃশংস ঘটনার বর্ণনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক রিপোর্ট সহ বিভিন্ন প্রমাণ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত।

এছাড়া পিটিশনে প্রমাণ হিসেবে দেয়া ভিডিওগুলোও প্রত্যাখান করে আদালত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আদালত প্রকৃতপক্ষে মামলার তদন্তের পরিবর্তে রাষ্ট্রের সঙ্গে ঐক্যমত্য পোষণ করেছে।

গত ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আড়াই মাস ধরে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। এসময় কয়েক সপ্তাহে এসব নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি করে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৪ মে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে গুলি করে ৬০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও সংগঠন। এছাড়া এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় অনেক দেশ। জাতিসংঘের জরুরী বৈঠকে গাজার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব উঠলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে। সর্বশেষ ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে মত দিলো।