ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হল ছয় জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল উৎসব Logo ইআইআর প্রকল্পের বহুমুখী সুফল সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে Logo ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ শেষ হবে : যুক্তরাষ্ট্র Logo কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী Logo কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী Logo জেডআরএফ-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান Logo শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে মিশনগুলো হতে হবে আরও দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর : প্রধানমন্ত্রী Logo কুমিল্লায় গ্যাস সংকট নিরসনে বাখরাবাদ গ্যাসের এমডি’র সাথে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় Logo উত্তর বাসাবো এলাকায় পাঠাগার স্থাপনের দাবি: মেধা বিকাশ ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান Logo বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও

বাংলাদেশি ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:    বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রপ্তানি আয়ে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ যেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, সেখানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের ফল রপ্তানি আয় প্রায় ১১৬ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং উপ-পরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল, আনারসসহ নানা জাতের ফল বাংলাদেশ থেকে নিতে চায় অনেক দেশ। বিদেশে ক্রমেই বাংলাদেশের উৎপাদিত ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন কৃষি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, কৃষি পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের ডেডিকেটেড কোন কার্গো বিমান নেই। যাত্রীদের বিমানে করে কৃষি পণ্য বহির্বিশ্বে রপ্তানি হয়ে থাকে। শাকসবজি সহ পচনশীল কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে যে ফ্যাসিলিটেজ প্রয়োজন, সেই ফ্যাসিলিটি নেই।

তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলো কৃষি পণ্যে যে ধরণের স্যানিটাইজেশন মেইন্টেন করে থাকে। আমাদের দেশে এর প্রচুর ঘাটতি আছে। গুড অ্যাগ্রিকালচার প্র্যাকটিস খুবই প্রয়োজন। কৃষকদের যদি স্যানিটাইজেশন বিষয়ে আরও বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় তবে আমাদের কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়বে। ইপিবি রপ্তানিকারকদের অ্যাডভোকেসি করে থাকে। কৃষি পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকদের যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থাকি।

এছাড়াও গত দুই বছর কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয়ের সূচক নিম্নমুখী থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

ইপিবি’র তথ্যমতে, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ২ ও ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এরপর ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় কমে হয় যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ গত অর্থবছরে এই আয় বেড়ে হয় ৯৮৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলারে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চা থেকে রপ্তানি আয় হয় ৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। একই অর্থবছরে সবজি থেকে রপ্তানি আয় হয় ৮১ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার। তামাকজাত পণ্যে রপ্তানি আয় ২৫১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার। মসলা জাতীয় পণ্যে রপ্তানি আয় ৫৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। ড্রাই ফুডে রপ্তানি আয় ১৮৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। তেল বীজ থেকে রপ্তানি হয় ২৪ দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন ডলার।

এসব তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পান পাতার চাহিদাও বহির্বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলারের পান পাতা রপ্তানি হয়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ রপ্তানি আয় বেড়ে হয় ২১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, গত অর্থবছরে উদ্ভিজ্জ চর্বি এবং তেল রপ্তানিতে আয় হয় ১১৮ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন ডলার। চিনি রপ্তানিতে ২০ দশমিক ৮২, পানীয় রপ্তানিতে ৩৫ দশমিক ৪৭, খৈল রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ১৩ ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয় ১২১ দশমিক শূন্য ৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানির বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষি পণ্য ১৩০ এর বেশি দেশি রপ্তানি হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষি পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২১১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। সৌদি আরবে একই অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১১৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়াও, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বেশি। এসব দেশে গত অর্থবছরে যথাক্রমে রপ্তানি হয়েছে, ৭৪, ৭০, ৫১, ৪১ ও ৪৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। রপ্তানি বাজার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চায়না ও কানাডাতেও বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
৮ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশি ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে

আপডেট এর সময় : ০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:    বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রপ্তানি আয়ে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ যেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, সেখানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের ফল রপ্তানি আয় প্রায় ১১৬ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং উপ-পরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল, আনারসসহ নানা জাতের ফল বাংলাদেশ থেকে নিতে চায় অনেক দেশ। বিদেশে ক্রমেই বাংলাদেশের উৎপাদিত ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন কৃষি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, কৃষি পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের ডেডিকেটেড কোন কার্গো বিমান নেই। যাত্রীদের বিমানে করে কৃষি পণ্য বহির্বিশ্বে রপ্তানি হয়ে থাকে। শাকসবজি সহ পচনশীল কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে যে ফ্যাসিলিটেজ প্রয়োজন, সেই ফ্যাসিলিটি নেই।

তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলো কৃষি পণ্যে যে ধরণের স্যানিটাইজেশন মেইন্টেন করে থাকে। আমাদের দেশে এর প্রচুর ঘাটতি আছে। গুড অ্যাগ্রিকালচার প্র্যাকটিস খুবই প্রয়োজন। কৃষকদের যদি স্যানিটাইজেশন বিষয়ে আরও বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় তবে আমাদের কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়বে। ইপিবি রপ্তানিকারকদের অ্যাডভোকেসি করে থাকে। কৃষি পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকদের যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থাকি।

এছাড়াও গত দুই বছর কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয়ের সূচক নিম্নমুখী থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

ইপিবি’র তথ্যমতে, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ২ ও ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এরপর ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় কমে হয় যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ গত অর্থবছরে এই আয় বেড়ে হয় ৯৮৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলারে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চা থেকে রপ্তানি আয় হয় ৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। একই অর্থবছরে সবজি থেকে রপ্তানি আয় হয় ৮১ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার। তামাকজাত পণ্যে রপ্তানি আয় ২৫১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার। মসলা জাতীয় পণ্যে রপ্তানি আয় ৫৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। ড্রাই ফুডে রপ্তানি আয় ১৮৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। তেল বীজ থেকে রপ্তানি হয় ২৪ দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন ডলার।

এসব তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পান পাতার চাহিদাও বহির্বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলারের পান পাতা রপ্তানি হয়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ রপ্তানি আয় বেড়ে হয় ২১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, গত অর্থবছরে উদ্ভিজ্জ চর্বি এবং তেল রপ্তানিতে আয় হয় ১১৮ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন ডলার। চিনি রপ্তানিতে ২০ দশমিক ৮২, পানীয় রপ্তানিতে ৩৫ দশমিক ৪৭, খৈল রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ১৩ ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয় ১২১ দশমিক শূন্য ৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানির বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষি পণ্য ১৩০ এর বেশি দেশি রপ্তানি হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষি পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২১১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। সৌদি আরবে একই অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১১৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়াও, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বেশি। এসব দেশে গত অর্থবছরে যথাক্রমে রপ্তানি হয়েছে, ৭৪, ৭০, ৫১, ৪১ ও ৪৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। রপ্তানি বাজার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চায়না ও কানাডাতেও বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।