ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: তিতুমীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ Logo স্বাস্থসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার Logo পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর Logo সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস Logo চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন, উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ

বাবাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, ছেলে গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম :

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিরাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃদ্ধ বাবা দরজা ভেঙে পালিয়ে রক্ষা পেলেও ঘর ও মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা বখাটে ছেলে মিঠুন কুমারকে (৩২) ধরে পুলিশে দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলুদঘর গ্রামের বটকৃষ্ণের (৬৪) ছেলে মিঠুন কুমার স্থানীয় কিছু বখাটের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মিঠুনকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্ত্রী ও বাবা বটকৃষ্ণ। নেশার টাকার জন্য তিনি স্ত্রী, বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নিরুপায় হয়ে এক বছর আগে স্বামীকে রেখে স্ত্রী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। কয়েক মাস আগে স্ত্রীর সন্ধান পেয়ে তিনিও ঢাকায় যান। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন।

গতকাল বিকেলে মিঠুন বাড়িতে আসেন। এ সময় বাড়িতে তাঁর বাবা ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। একপর্যায়ে কৌশলে বাবাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে তিনি পেট্রল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আগুন জ্বলতে দেখে ও তাপ অনুভব করে বৃদ্ধ বটকৃষ্ণ ঘরের দরজা ভেঙে বাইরে আসেন। আগুন দেখে আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে বটকৃষ্ণের একটি ঘর ও বাড়ির যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়।

বখাটে মিঠুন কুমার এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে তাঁকে খুঁজতে থাকে এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে গ্রামের একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলে এবং পিটুনি দেয়। থানায় খবর দেওয়া হলে রাত নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিঠুন কুমারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে থানায় আনে পুলিশ।

বাড়িতে আগুন দেওয়া ও হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে রাতেই বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

মিঠুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত ও বখাটে। ভালো পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করেও পারছিলেন না। গোপনে ঢাকা থেকে এসে তাঁকে বাড়িতে আটকে রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।

বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, বাবার মামলায় ছেলে মিঠুনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
৭ বার পঠিত হয়েছে

বাবাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, ছেলে গ্রেপ্তার

আপডেট এর সময় : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিরাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃদ্ধ বাবা দরজা ভেঙে পালিয়ে রক্ষা পেলেও ঘর ও মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা বখাটে ছেলে মিঠুন কুমারকে (৩২) ধরে পুলিশে দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলুদঘর গ্রামের বটকৃষ্ণের (৬৪) ছেলে মিঠুন কুমার স্থানীয় কিছু বখাটের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মিঠুনকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্ত্রী ও বাবা বটকৃষ্ণ। নেশার টাকার জন্য তিনি স্ত্রী, বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নিরুপায় হয়ে এক বছর আগে স্বামীকে রেখে স্ত্রী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। কয়েক মাস আগে স্ত্রীর সন্ধান পেয়ে তিনিও ঢাকায় যান। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন।

গতকাল বিকেলে মিঠুন বাড়িতে আসেন। এ সময় বাড়িতে তাঁর বাবা ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। একপর্যায়ে কৌশলে বাবাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে তিনি পেট্রল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আগুন জ্বলতে দেখে ও তাপ অনুভব করে বৃদ্ধ বটকৃষ্ণ ঘরের দরজা ভেঙে বাইরে আসেন। আগুন দেখে আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে বটকৃষ্ণের একটি ঘর ও বাড়ির যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়।

বখাটে মিঠুন কুমার এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে তাঁকে খুঁজতে থাকে এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে গ্রামের একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলে এবং পিটুনি দেয়। থানায় খবর দেওয়া হলে রাত নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিঠুন কুমারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে থানায় আনে পুলিশ।

বাড়িতে আগুন দেওয়া ও হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে রাতেই বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

মিঠুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত ও বখাটে। ভালো পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করেও পারছিলেন না। গোপনে ঢাকা থেকে এসে তাঁকে বাড়িতে আটকে রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।

বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, বাবার মামলায় ছেলে মিঠুনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।