ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশে কর্মী পাঠাতে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না: আরিফুল হক

প্রতিনিধির নাম :

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।

আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কি করবে।

রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।

প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আরিফুল হক বলেন, অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকরা ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, শ্রমবাজার খুললে সেটি হবে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত। অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

প্রবাসীদের জন্য একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা এ কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধা পাবেন।

মন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।  ‘এটি আমার অন্যতম অঙ্গীকার। যদি এই খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারি, তাহলে নিজেকে সফল মনে করব না,’ বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে আরিফুল হক বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
৩৬ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশে কর্মী পাঠাতে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না: আরিফুল হক

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।

আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কি করবে।

রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।

প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আরিফুল হক বলেন, অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকরা ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, শ্রমবাজার খুললে সেটি হবে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত। অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

প্রবাসীদের জন্য একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা এ কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধা পাবেন।

মন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।  ‘এটি আমার অন্যতম অঙ্গীকার। যদি এই খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারি, তাহলে নিজেকে সফল মনে করব না,’ বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে আরিফুল হক বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।