ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo দিনাজপুরে কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে : সিইসি Logo মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির Logo দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন শফিক ও শাকিল Logo স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     দক্ষিণ সুদানের লোপিত পর্বতমালার পশ্চিম দিকে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম লোহোবোহোবো। যেখানে ছোট কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য বৃষ্টি ছিল ফসলের রক্ষাকবচ। আর এই বৃষ্টি আনার দায়িত্বে ছিলেন সলোমন অতুর। একজন প্রথাগত ‘রেইনমেকার’। যিনি প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃষ্টির আহ্বান করতেন। কিন্তু কয়েক বছরের ধারাবাহিক খরা গ্রামের মানুষদের জীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ফসল নষ্ট হচ্ছে। খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে মানুষের হতাশা ও ক্ষোভও বেড়েছে। যা ঝুঁকিতে ফেলে অতুর জীবন। ক্ষুধার্ত সম্প্রদায়ের নেতারা অতুরের কাছে বৃষ্টি নামাতে না পারার ব্যর্থতার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। উত্তর না জানায় ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান অতুর। তবুও শেষরক্ষা হয়নি তার। জোর করে গ্রামে ফিরিয়ে এনে জীবন্ত কবর দেওয়া হয় তাকে। শুধু অতুরই নয়, ভয়াবহ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন গ্রামটিতে বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা করা হয় ‘রেইনমেকার’দের।

বেশ কয়েক বছর ধরে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ কবলে পড়েছে দক্ষিণ সুদান। গত কয়েক বছরের খরা মানুষের জীবিকা ধ্বংস করেছে দেশটিতে। যা ক্ষুধা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আর কৃষিনির্ভর গ্রামগুলোতে মানুষের মধ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ক্রোধও। সংকটের উত্তর খুঁজে না পেয়ে অন্যকে দোষারোপ করছে তারা। এই ক্ষোভ রেইনমেকারদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অতুর। তিন-চার ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে তার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পালিয়েও পার পাননি।

২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন। গ্রামে ফেরার পরের দিন সকালে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘অতুর কোনো প্রতিরোধ করেনি। তাকে গ্রাম থেকে বাইরে এবং পর্বতের নিচে একটি সদ্য খনন করা গর্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জীবিতই কবর দেওয়া হয়।’ সলোমন অতুরের হত্যার খবর প্রথম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে তার পরিবারের সদস্য, রাজ্যের রাজধানী তোরিতের সরকারি কর্মকর্তা এবং গ্রামের বাসিন্দাদের মাধ্যমে আল-জাজিরার কাছে নিশ্চিত হয়। শুধু অতুরই নয়, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও অনেকেই। সম্প্রদায়ের নেতাদের এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে লোপিত পর্বতমালায় অন্তত আরও পাঁচজন রেইনমেকারদের জীবিত কবর দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকার আরও অনেককে কবর দেওয়া হয়েছে, জীবিত পোড়ানো হয়েছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা বের করতে পারেনি আল-জাজিরা।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
১৪ বার পঠিত হয়েছে

বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা

আপডেট এর সময় : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     দক্ষিণ সুদানের লোপিত পর্বতমালার পশ্চিম দিকে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম লোহোবোহোবো। যেখানে ছোট কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য বৃষ্টি ছিল ফসলের রক্ষাকবচ। আর এই বৃষ্টি আনার দায়িত্বে ছিলেন সলোমন অতুর। একজন প্রথাগত ‘রেইনমেকার’। যিনি প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃষ্টির আহ্বান করতেন। কিন্তু কয়েক বছরের ধারাবাহিক খরা গ্রামের মানুষদের জীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ফসল নষ্ট হচ্ছে। খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে মানুষের হতাশা ও ক্ষোভও বেড়েছে। যা ঝুঁকিতে ফেলে অতুর জীবন। ক্ষুধার্ত সম্প্রদায়ের নেতারা অতুরের কাছে বৃষ্টি নামাতে না পারার ব্যর্থতার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। উত্তর না জানায় ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান অতুর। তবুও শেষরক্ষা হয়নি তার। জোর করে গ্রামে ফিরিয়ে এনে জীবন্ত কবর দেওয়া হয় তাকে। শুধু অতুরই নয়, ভয়াবহ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন গ্রামটিতে বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা করা হয় ‘রেইনমেকার’দের।

বেশ কয়েক বছর ধরে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ কবলে পড়েছে দক্ষিণ সুদান। গত কয়েক বছরের খরা মানুষের জীবিকা ধ্বংস করেছে দেশটিতে। যা ক্ষুধা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আর কৃষিনির্ভর গ্রামগুলোতে মানুষের মধ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ক্রোধও। সংকটের উত্তর খুঁজে না পেয়ে অন্যকে দোষারোপ করছে তারা। এই ক্ষোভ রেইনমেকারদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অতুর। তিন-চার ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে তার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পালিয়েও পার পাননি।

২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন। গ্রামে ফেরার পরের দিন সকালে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘অতুর কোনো প্রতিরোধ করেনি। তাকে গ্রাম থেকে বাইরে এবং পর্বতের নিচে একটি সদ্য খনন করা গর্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জীবিতই কবর দেওয়া হয়।’ সলোমন অতুরের হত্যার খবর প্রথম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে তার পরিবারের সদস্য, রাজ্যের রাজধানী তোরিতের সরকারি কর্মকর্তা এবং গ্রামের বাসিন্দাদের মাধ্যমে আল-জাজিরার কাছে নিশ্চিত হয়। শুধু অতুরই নয়, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও অনেকেই। সম্প্রদায়ের নেতাদের এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে লোপিত পর্বতমালায় অন্তত আরও পাঁচজন রেইনমেকারদের জীবিত কবর দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকার আরও অনেককে কবর দেওয়া হয়েছে, জীবিত পোড়ানো হয়েছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা বের করতে পারেনি আল-জাজিরা।