ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার Logo পিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ Logo চলতি ২০২৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না ওপেনএআই Logo গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: এলজিআরডি মন্ত্রী Logo সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডে প্রণোদনা পাচ্ছেন ১,১০,৩৬৪ কৃষক : কৃষিমন্ত্রী Logo আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী Logo হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু Logo বাগেরহাটে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু Logo ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু

বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     দক্ষিণ সুদানের লোপিত পর্বতমালার পশ্চিম দিকে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম লোহোবোহোবো। যেখানে ছোট কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য বৃষ্টি ছিল ফসলের রক্ষাকবচ। আর এই বৃষ্টি আনার দায়িত্বে ছিলেন সলোমন অতুর। একজন প্রথাগত ‘রেইনমেকার’। যিনি প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃষ্টির আহ্বান করতেন। কিন্তু কয়েক বছরের ধারাবাহিক খরা গ্রামের মানুষদের জীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ফসল নষ্ট হচ্ছে। খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে মানুষের হতাশা ও ক্ষোভও বেড়েছে। যা ঝুঁকিতে ফেলে অতুর জীবন। ক্ষুধার্ত সম্প্রদায়ের নেতারা অতুরের কাছে বৃষ্টি নামাতে না পারার ব্যর্থতার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। উত্তর না জানায় ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান অতুর। তবুও শেষরক্ষা হয়নি তার। জোর করে গ্রামে ফিরিয়ে এনে জীবন্ত কবর দেওয়া হয় তাকে। শুধু অতুরই নয়, ভয়াবহ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন গ্রামটিতে বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা করা হয় ‘রেইনমেকার’দের।

বেশ কয়েক বছর ধরে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ কবলে পড়েছে দক্ষিণ সুদান। গত কয়েক বছরের খরা মানুষের জীবিকা ধ্বংস করেছে দেশটিতে। যা ক্ষুধা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আর কৃষিনির্ভর গ্রামগুলোতে মানুষের মধ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ক্রোধও। সংকটের উত্তর খুঁজে না পেয়ে অন্যকে দোষারোপ করছে তারা। এই ক্ষোভ রেইনমেকারদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অতুর। তিন-চার ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে তার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পালিয়েও পার পাননি।

২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন। গ্রামে ফেরার পরের দিন সকালে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘অতুর কোনো প্রতিরোধ করেনি। তাকে গ্রাম থেকে বাইরে এবং পর্বতের নিচে একটি সদ্য খনন করা গর্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জীবিতই কবর দেওয়া হয়।’ সলোমন অতুরের হত্যার খবর প্রথম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে তার পরিবারের সদস্য, রাজ্যের রাজধানী তোরিতের সরকারি কর্মকর্তা এবং গ্রামের বাসিন্দাদের মাধ্যমে আল-জাজিরার কাছে নিশ্চিত হয়। শুধু অতুরই নয়, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও অনেকেই। সম্প্রদায়ের নেতাদের এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে লোপিত পর্বতমালায় অন্তত আরও পাঁচজন রেইনমেকারদের জীবিত কবর দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকার আরও অনেককে কবর দেওয়া হয়েছে, জীবিত পোড়ানো হয়েছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা বের করতে পারেনি আল-জাজিরা।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
১৭ বার পঠিত হয়েছে

বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা

আপডেট এর সময় : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     দক্ষিণ সুদানের লোপিত পর্বতমালার পশ্চিম দিকে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম লোহোবোহোবো। যেখানে ছোট কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য বৃষ্টি ছিল ফসলের রক্ষাকবচ। আর এই বৃষ্টি আনার দায়িত্বে ছিলেন সলোমন অতুর। একজন প্রথাগত ‘রেইনমেকার’। যিনি প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃষ্টির আহ্বান করতেন। কিন্তু কয়েক বছরের ধারাবাহিক খরা গ্রামের মানুষদের জীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ফসল নষ্ট হচ্ছে। খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে মানুষের হতাশা ও ক্ষোভও বেড়েছে। যা ঝুঁকিতে ফেলে অতুর জীবন। ক্ষুধার্ত সম্প্রদায়ের নেতারা অতুরের কাছে বৃষ্টি নামাতে না পারার ব্যর্থতার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। উত্তর না জানায় ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান অতুর। তবুও শেষরক্ষা হয়নি তার। জোর করে গ্রামে ফিরিয়ে এনে জীবন্ত কবর দেওয়া হয় তাকে। শুধু অতুরই নয়, ভয়াবহ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন গ্রামটিতে বৃষ্টি নামাতে না পারলেই হত্যা করা হয় ‘রেইনমেকার’দের।

বেশ কয়েক বছর ধরে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ কবলে পড়েছে দক্ষিণ সুদান। গত কয়েক বছরের খরা মানুষের জীবিকা ধ্বংস করেছে দেশটিতে। যা ক্ষুধা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আর কৃষিনির্ভর গ্রামগুলোতে মানুষের মধ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ক্রোধও। সংকটের উত্তর খুঁজে না পেয়ে অন্যকে দোষারোপ করছে তারা। এই ক্ষোভ রেইনমেকারদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অতুর। তিন-চার ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে তার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পালিয়েও পার পাননি।

২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন। গ্রামে ফেরার পরের দিন সকালে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘অতুর কোনো প্রতিরোধ করেনি। তাকে গ্রাম থেকে বাইরে এবং পর্বতের নিচে একটি সদ্য খনন করা গর্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জীবিতই কবর দেওয়া হয়।’ সলোমন অতুরের হত্যার খবর প্রথম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে তার পরিবারের সদস্য, রাজ্যের রাজধানী তোরিতের সরকারি কর্মকর্তা এবং গ্রামের বাসিন্দাদের মাধ্যমে আল-জাজিরার কাছে নিশ্চিত হয়। শুধু অতুরই নয়, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও অনেকেই। সম্প্রদায়ের নেতাদের এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে লোপিত পর্বতমালায় অন্তত আরও পাঁচজন রেইনমেকারদের জীবিত কবর দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকার আরও অনেককে কবর দেওয়া হয়েছে, জীবিত পোড়ানো হয়েছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা বের করতে পারেনি আল-জাজিরা।