ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির Logo হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া Logo সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের সংগ্রাম Logo ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল Logo স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান

ভ্যানচালকের ছেলেকে মেডিক্যালে ভর্তি করাবে কে?

প্রতিনিধির নাম :

অদম্য মেধাবী সবুজ হোসেন শত বাধা পেরিয়ে লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগও পেয়েছে সবুজ। কিন্তু অর্থের অভাবে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন পেশায় ভ্যানচালক। তার মা ফুলেরা বেগম গৃহিণী। সবুজ হোসেনের বাড়ি বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার জিঞ্জিরতলা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করেন ভ্যানচালক বেলাল হোসেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার সামান্য আয়ে ৫ সদস্যের ওই পরিবারের তিনবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়াই দায়। এ অবস্থায় ছেলের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির টাকা কিভাবে যোগাড় করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বেলাল হোসেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবুজ দ্বিতীয়। বড় ভাই ফারুক হোসেন ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ভাই সৈকত ইসলাম ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বেলাল-ফুলেরা দম্পতি নিজেরা লেখাপড়া না জানলেও লেখাপড়ার মর্ম তারা বোঝেন। তাই শত কষ্টেও ৩ ছেলের লেখাপড়ার যোগান দিচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন। ২০১১ সালে জিঞ্জিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ ৪.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর ২০১৪ সালে ধুনট সরকারি এনএই পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায় সে। ২০১৯ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করে। চলতি বছর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে সবুজ। কিন্তু ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড়ের ন্যূনতম সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের।

সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও ছেলেদের খেলাপাড়ার খরচের যোগান ঠিকমতো দিতে পারেননি। ছেলে ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে শুনেছেন। কিন্তু অতবড় কলেজে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তার নেই। এলাকার বিত্তবানেরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই তার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবুজ হোসেন জানান, ছোটবেলায় এলাকার বড়ভাইদের মুখে মেডিক্যাল কলেজে লেখাপড়া করে সফলতার গল্প শুনেছেন। তখনই সেখানে ভর্তির সুপ্ত বাসনা মনের মধ্যে তৈরি হয়। নিত্য অভাবি সংসারে তার পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। শত কষ্টের পর অবশেষে সবুজের মনের সুপ্ত বাসনা পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে সে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে। (তার বিকাশ নম্বর ০১৭৭৪২৯৬৪০৭

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
১৮ বার পঠিত হয়েছে

ভ্যানচালকের ছেলেকে মেডিক্যালে ভর্তি করাবে কে?

আপডেট এর সময় : ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

অদম্য মেধাবী সবুজ হোসেন শত বাধা পেরিয়ে লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগও পেয়েছে সবুজ। কিন্তু অর্থের অভাবে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন পেশায় ভ্যানচালক। তার মা ফুলেরা বেগম গৃহিণী। সবুজ হোসেনের বাড়ি বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার জিঞ্জিরতলা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করেন ভ্যানচালক বেলাল হোসেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার সামান্য আয়ে ৫ সদস্যের ওই পরিবারের তিনবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়াই দায়। এ অবস্থায় ছেলের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির টাকা কিভাবে যোগাড় করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বেলাল হোসেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবুজ দ্বিতীয়। বড় ভাই ফারুক হোসেন ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ভাই সৈকত ইসলাম ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বেলাল-ফুলেরা দম্পতি নিজেরা লেখাপড়া না জানলেও লেখাপড়ার মর্ম তারা বোঝেন। তাই শত কষ্টেও ৩ ছেলের লেখাপড়ার যোগান দিচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন। ২০১১ সালে জিঞ্জিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ ৪.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর ২০১৪ সালে ধুনট সরকারি এনএই পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায় সে। ২০১৯ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করে। চলতি বছর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে সবুজ। কিন্তু ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড়ের ন্যূনতম সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের।

সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও ছেলেদের খেলাপাড়ার খরচের যোগান ঠিকমতো দিতে পারেননি। ছেলে ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে শুনেছেন। কিন্তু অতবড় কলেজে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তার নেই। এলাকার বিত্তবানেরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই তার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবুজ হোসেন জানান, ছোটবেলায় এলাকার বড়ভাইদের মুখে মেডিক্যাল কলেজে লেখাপড়া করে সফলতার গল্প শুনেছেন। তখনই সেখানে ভর্তির সুপ্ত বাসনা মনের মধ্যে তৈরি হয়। নিত্য অভাবি সংসারে তার পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। শত কষ্টের পর অবশেষে সবুজের মনের সুপ্ত বাসনা পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে সে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে। (তার বিকাশ নম্বর ০১৭৭৪২৯৬৪০৭