ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইসরাইল-লেবাননের চুক্তির বিরুদ্ধে বৈরুতের রাস্তায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভ Logo বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে

ভ্যানচালকের ছেলেকে মেডিক্যালে ভর্তি করাবে কে?

প্রতিনিধির নাম :

অদম্য মেধাবী সবুজ হোসেন শত বাধা পেরিয়ে লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগও পেয়েছে সবুজ। কিন্তু অর্থের অভাবে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন পেশায় ভ্যানচালক। তার মা ফুলেরা বেগম গৃহিণী। সবুজ হোসেনের বাড়ি বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার জিঞ্জিরতলা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করেন ভ্যানচালক বেলাল হোসেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার সামান্য আয়ে ৫ সদস্যের ওই পরিবারের তিনবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়াই দায়। এ অবস্থায় ছেলের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির টাকা কিভাবে যোগাড় করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বেলাল হোসেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবুজ দ্বিতীয়। বড় ভাই ফারুক হোসেন ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ভাই সৈকত ইসলাম ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বেলাল-ফুলেরা দম্পতি নিজেরা লেখাপড়া না জানলেও লেখাপড়ার মর্ম তারা বোঝেন। তাই শত কষ্টেও ৩ ছেলের লেখাপড়ার যোগান দিচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন। ২০১১ সালে জিঞ্জিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ ৪.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর ২০১৪ সালে ধুনট সরকারি এনএই পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায় সে। ২০১৯ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করে। চলতি বছর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে সবুজ। কিন্তু ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড়ের ন্যূনতম সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের।

সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও ছেলেদের খেলাপাড়ার খরচের যোগান ঠিকমতো দিতে পারেননি। ছেলে ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে শুনেছেন। কিন্তু অতবড় কলেজে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তার নেই। এলাকার বিত্তবানেরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই তার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবুজ হোসেন জানান, ছোটবেলায় এলাকার বড়ভাইদের মুখে মেডিক্যাল কলেজে লেখাপড়া করে সফলতার গল্প শুনেছেন। তখনই সেখানে ভর্তির সুপ্ত বাসনা মনের মধ্যে তৈরি হয়। নিত্য অভাবি সংসারে তার পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। শত কষ্টের পর অবশেষে সবুজের মনের সুপ্ত বাসনা পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে সে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে। (তার বিকাশ নম্বর ০১৭৭৪২৯৬৪০৭

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
৯ বার পঠিত হয়েছে

ভ্যানচালকের ছেলেকে মেডিক্যালে ভর্তি করাবে কে?

আপডেট এর সময় : ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

অদম্য মেধাবী সবুজ হোসেন শত বাধা পেরিয়ে লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগও পেয়েছে সবুজ। কিন্তু অর্থের অভাবে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন পেশায় ভ্যানচালক। তার মা ফুলেরা বেগম গৃহিণী। সবুজ হোসেনের বাড়ি বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার জিঞ্জিরতলা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করেন ভ্যানচালক বেলাল হোসেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার সামান্য আয়ে ৫ সদস্যের ওই পরিবারের তিনবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়াই দায়। এ অবস্থায় ছেলের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির টাকা কিভাবে যোগাড় করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বেলাল হোসেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবুজ দ্বিতীয়। বড় ভাই ফারুক হোসেন ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ভাই সৈকত ইসলাম ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বেলাল-ফুলেরা দম্পতি নিজেরা লেখাপড়া না জানলেও লেখাপড়ার মর্ম তারা বোঝেন। তাই শত কষ্টেও ৩ ছেলের লেখাপড়ার যোগান দিচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন। ২০১১ সালে জিঞ্জিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ ৪.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর ২০১৪ সালে ধুনট সরকারি এনএই পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায় সে। ২০১৯ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করে। চলতি বছর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে সবুজ। কিন্তু ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড়ের ন্যূনতম সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের।

সবুজ হোসেনের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও ছেলেদের খেলাপাড়ার খরচের যোগান ঠিকমতো দিতে পারেননি। ছেলে ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে শুনেছেন। কিন্তু অতবড় কলেজে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তার নেই। এলাকার বিত্তবানেরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই তার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবুজ হোসেন জানান, ছোটবেলায় এলাকার বড়ভাইদের মুখে মেডিক্যাল কলেজে লেখাপড়া করে সফলতার গল্প শুনেছেন। তখনই সেখানে ভর্তির সুপ্ত বাসনা মনের মধ্যে তৈরি হয়। নিত্য অভাবি সংসারে তার পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। শত কষ্টের পর অবশেষে সবুজের মনের সুপ্ত বাসনা পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে সে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে। (তার বিকাশ নম্বর ০১৭৭৪২৯৬৪০৭