ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া Logo সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের সংগ্রাম Logo ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল Logo স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন;

সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি

জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সোমবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ভাঙন শুরু হয়। এরপর সকাল ৭টার দিকে ভাঙন ভয়াবহরূপ ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, বেড়িবাঁধ ধসে পড়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছেন। বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করে, কখন আবার ঘরবাড়ি সব প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে আমরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। সবে মাত্র এলাকায় গাছপালা ও ফসল হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে আবার যদি প্লাবিত হয়ে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বাসস’কে বলেন, সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আমরা ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভাঙনের পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হলে আমাদের ভোগান্তি কম পোহাতে হতো। যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর পদক্ষেপ চাই।’

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘেরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে।

এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু বাসস’কে জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বাসস’কে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ৩৮ মিনিট আগে
১৫ বার পঠিত হয়েছে

সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন;

সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু

আপডেট এর সময় : ৩৮ মিনিট আগে

জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সোমবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ভাঙন শুরু হয়। এরপর সকাল ৭টার দিকে ভাঙন ভয়াবহরূপ ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, বেড়িবাঁধ ধসে পড়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছেন। বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করে, কখন আবার ঘরবাড়ি সব প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে আমরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। সবে মাত্র এলাকায় গাছপালা ও ফসল হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে আবার যদি প্লাবিত হয়ে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বাসস’কে বলেন, সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আমরা ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভাঙনের পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হলে আমাদের ভোগান্তি কম পোহাতে হতো। যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর পদক্ষেপ চাই।’

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘেরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে।

এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু বাসস’কে জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বাসস’কে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।