ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:   কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

আগুনের তীব্রতায় আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লেলিহান শিখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে কর্মরত দুটি বেসরকারি সূত্র জানায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বয়লার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে সাধারণ প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম আগুন লাগার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একদিকে আগুন নেভানো হলেও অন্য প্রান্তে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুন অনেকাংশে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তবে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের রাত ১টার দিকে জানান, চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এক প্রান্তে আগুন নেভানো হলে অন্য প্রান্তে তা পুনরায় জ্বলে উঠছিল।

পরবর্তীতে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত থাকে। ভোরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সালাহ উদ্দিন কাদের এবং চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনস্পেক্টর দিদারুল হক জানান, আগুনের মূল তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে এবং তা শেষ হলে নির্বাপণের চূড়ান্ত ধাপে যাওয়া হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
১২ বার পঠিত হয়েছে

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

আপডেট এর সময় : ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:   কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

আগুনের তীব্রতায় আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লেলিহান শিখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে কর্মরত দুটি বেসরকারি সূত্র জানায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বয়লার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে সাধারণ প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম আগুন লাগার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একদিকে আগুন নেভানো হলেও অন্য প্রান্তে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুন অনেকাংশে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তবে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের রাত ১টার দিকে জানান, চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এক প্রান্তে আগুন নেভানো হলে অন্য প্রান্তে তা পুনরায় জ্বলে উঠছিল।

পরবর্তীতে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত থাকে। ভোরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সালাহ উদ্দিন কাদের এবং চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনস্পেক্টর দিদারুল হক জানান, আগুনের মূল তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে এবং তা শেষ হলে নির্বাপণের চূড়ান্ত ধাপে যাওয়া হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।