ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo মাদক সেবনের দায়ে শাহরাস্তিতে যুবকের কারাদণ্ড Logo ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসায় ভর্তুকি, মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ Logo নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী Logo বিভিন্ন খাতে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ইমরান সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন Logo উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রণয়ন হচ্ছে জাতীয় বন্দর কৌশল: নৌপরিবহনমন্ত্রী Logo জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ Logo কুমিল্লা-৬ আসনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় Logo ফেনীতে পৃথক অভিযানে ৩৯ কেজি গাঁজা, ইয়াবা ও ইস্কাপসহ আটক ৪

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:   কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

আগুনের তীব্রতায় আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লেলিহান শিখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে কর্মরত দুটি বেসরকারি সূত্র জানায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বয়লার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে সাধারণ প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম আগুন লাগার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একদিকে আগুন নেভানো হলেও অন্য প্রান্তে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুন অনেকাংশে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তবে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের রাত ১টার দিকে জানান, চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এক প্রান্তে আগুন নেভানো হলে অন্য প্রান্তে তা পুনরায় জ্বলে উঠছিল।

পরবর্তীতে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত থাকে। ভোরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সালাহ উদ্দিন কাদের এবং চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনস্পেক্টর দিদারুল হক জানান, আগুনের মূল তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে এবং তা শেষ হলে নির্বাপণের চূড়ান্ত ধাপে যাওয়া হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
১৩ বার পঠিত হয়েছে

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

আপডেট এর সময় : ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:   কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

আগুনের তীব্রতায় আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লেলিহান শিখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে কর্মরত দুটি বেসরকারি সূত্র জানায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বয়লার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে সাধারণ প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম আগুন লাগার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একদিকে আগুন নেভানো হলেও অন্য প্রান্তে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুন অনেকাংশে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তবে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের রাত ১টার দিকে জানান, চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এক প্রান্তে আগুন নেভানো হলে অন্য প্রান্তে তা পুনরায় জ্বলে উঠছিল।

পরবর্তীতে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত থাকে। ভোরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সালাহ উদ্দিন কাদের এবং চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনস্পেক্টর দিদারুল হক জানান, আগুনের মূল তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে এবং তা শেষ হলে নির্বাপণের চূড়ান্ত ধাপে যাওয়া হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।