
অনলাইন ডেস্ক: আইপিএলের আসন্ন আসরে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের। তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনার পর ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।
ভারত যদি আইপিএলে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারকের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার, টিম অফিসিয়াল এবং ভক্ত সমর্থকদের কিভাবে নিরাপত্তা দিবে?
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ভারত সফরে না যাওয়ার কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) লিখিত আকারে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
গত ৪ জানুয়ারি রোববার দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির প্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
এ ব্যাপারে বিসিবির সাবেক সাধারণ সাম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশরাফুল হক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার বলেছেন, ‘এখানে (ক্রিকেটের নীতিনির্ধারক) এমন মানুষ আছেন, যারা কখনো ব্যাটই ধরেননি। ভারতের ক্ষেত্রে (সাবেক ক্রীড়া সচিব; বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান) আছেন জয় শাহ—যিনি প্রতিযোগিতামূলক কোনো ম্যাচে কখনো ক্রিকেট ব্যাটই ধরেননি।’
বিসিবির সাবেক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি। যারা সরকার চালাচ্ছেন, তারা রাজনীতিবিদ নন। খেলাধুলার অভিজ্ঞতাও নেই আমাদের ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশের নাকি ভারতে যাওয়া উচিত নয়। একবার ভেবে দেখুন। এটা বিশ্বকাপের আয়োজন। এটা আইপিএল নয়। আইপিএল একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ আয়োজন। এভাবে হুটহাট মন্তব্য করা যায় না।’
ক্রিকেট পরিচালনার দায়িত্বে ক্রিকেটে অন্তপ্রাণ ব্যক্তিরা থাকলে সঠিক পথ দেখাতেন বলে বিশ্বাস করেন আশরাফুল হক। তিনি বলেন, ‘ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান—সব জায়গাতেই পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমটা রাজনীতিবিদেরা হ্যাইজ্যাক করেছেন। একটু ভেবে দেখুন তো, জগমোহন ডালমিয়া, আই এস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এনকেপি সালভে কিংবা এমনকি এন শ্রীনিবাসনও যদি দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে কি কখনো এমনটা হতো? এটা কখনোই হতো না, কারণ তারা পরিণত মানুষ। তারা খেলাটাকে বুঝতেন এবং এর পরিণতি কী হতে পারে, সেটাও বুঝতেন।’