ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী Logo বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী Logo ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo কুমিল্লায় মৃত পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারকে এককালীন অনুদান প্রদান Logo কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান গ্রেপ্তার Logo বরিশালে ৯০ কেজি গাঁজাসহ ১ ব্যক্তি গ্রেপ্তার

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ১০ প্রস্তাব

প্রতিনিধির নাম :

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষার্থে ১০ প্রস্তাবনা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা তাদের প্রস্তাবনায় বলেছে, মিয়ানমারকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ফেরত নিতে হবে।

অন্যদিকে, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তাদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ ছাড়া তাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দেয়া ও নষ্ট হওয়া সম্পদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়।

সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে, গতকাল থেকে শুরু হওয়া এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন এবং রোববার ম্যানিলায় ৩১তম আসিয়ান লিডার্স সামিটে (আসিয়ান নেতাদের সম্মেলন) রোহিঙ্গা সংকটকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ১০ প্রস্তাবনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১। যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করতে হবে। দিতে হবে পূর্ণাঙ্গ শরণার্থী সহায়তা।
২। আশ্রয়দাতা দেশ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে যতটা সম্ভব মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
৩। বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৪। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আচরণবিধি মেনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা যাবে না।
৫। মিয়ানমারকে পালিয়ে আশা শরণার্থীদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৬। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে না চাইলে তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না।
৭। শরণার্থী এবং বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে। নষ্ট হওয়া সমপদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৮। শরণার্থীদেরকে তালিকাভুক্ত করা অব্যাহত রাখতে হবে বাংলাদেশকে।
৯। শরণার্থী শিবিরগুলো টেকসই না হওয়ায় তাতে শরণার্থীদের বসবাস প্রলম্বিত করা যাবে না।
১০। আপৎকালীন সংকট নিরসনে রোহিঙ্গাদের নিজ আবাস ভূমিতে না পাঠিয়ে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলে সেখানে প্রত্যাবাসনের যে অভিপ্রায় মিয়ানমার ব্যক্ত করেছে, তা কোন গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।

উল্লেখ্য, ২৫শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতি নিধনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানজুড়ে সে দেশের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যায়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছয় লাখ তেরো হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই নারকীয় বর্বরতাকে ইতিমধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭
৩০ বার পঠিত হয়েছে

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ১০ প্রস্তাব

আপডেট এর সময় : ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষার্থে ১০ প্রস্তাবনা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা তাদের প্রস্তাবনায় বলেছে, মিয়ানমারকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ফেরত নিতে হবে।

অন্যদিকে, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তাদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ ছাড়া তাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দেয়া ও নষ্ট হওয়া সম্পদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়।

সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে, গতকাল থেকে শুরু হওয়া এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন এবং রোববার ম্যানিলায় ৩১তম আসিয়ান লিডার্স সামিটে (আসিয়ান নেতাদের সম্মেলন) রোহিঙ্গা সংকটকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ১০ প্রস্তাবনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১। যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করতে হবে। দিতে হবে পূর্ণাঙ্গ শরণার্থী সহায়তা।
২। আশ্রয়দাতা দেশ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে যতটা সম্ভব মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
৩। বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৪। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আচরণবিধি মেনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা যাবে না।
৫। মিয়ানমারকে পালিয়ে আশা শরণার্থীদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৬। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে না চাইলে তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না।
৭। শরণার্থী এবং বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে। নষ্ট হওয়া সমপদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৮। শরণার্থীদেরকে তালিকাভুক্ত করা অব্যাহত রাখতে হবে বাংলাদেশকে।
৯। শরণার্থী শিবিরগুলো টেকসই না হওয়ায় তাতে শরণার্থীদের বসবাস প্রলম্বিত করা যাবে না।
১০। আপৎকালীন সংকট নিরসনে রোহিঙ্গাদের নিজ আবাস ভূমিতে না পাঠিয়ে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলে সেখানে প্রত্যাবাসনের যে অভিপ্রায় মিয়ানমার ব্যক্ত করেছে, তা কোন গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।

উল্লেখ্য, ২৫শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতি নিধনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানজুড়ে সে দেশের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যায়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছয় লাখ তেরো হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই নারকীয় বর্বরতাকে ইতিমধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।