ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডেমরায় শিপু মেকওভার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর শুভ উদ্বোধন Logo প্রথম সেশন বাংলাদেশের Logo কাতারের উপকূলের কাছে জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত Logo দেশকে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল Logo নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo হাওরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার Logo পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo আমিরাত ও জাহাজে হামলা ‘অযৌক্তিক’: ইরানকে মাখোঁ Logo যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট শুরু, চাপের মুখে স্টারমারের লেবার পার্টি

শব্দদূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি || প্রয়োজনীয় উদ্যোগ জরুরি

প্রতিনিধির নাম :

শব্দদূষণ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম-বেশী পরিচিত। শব্দদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে -হরহামেশাই এমন কথা বলা হয়ে থাকে। তবে কতটা মারাত্মক, তা বোঝা যায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিনের এক বক্তব্যে। আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এক অনলাইন কর্মশালায় তিনি বলেছিলেন, ‘ঢাকা শহরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিনগুণ শব্দদূষণ হয়। এর ফলে এ নগরীর প্রায় অর্ধকোটি মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।’ কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র শব্দ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নানা ধরনের প্রভাব ফেলে। যেমন: উচ্চমাত্রার শব্দ হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের কারণ হতে পারে। উচ্চমাত্রার শব্দ মস্তিষ্কের কোষের ওপর অক্সিজেনের অভাবজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমনকি উচ্চমাত্রার শব্দ আংশিক বা পূর্ণ বধিরতারও কারণ হতে পারে। এ ছাড়া শব্দদূষণ মানবদেহের রক্তের শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে। এর বাইরেও শব্দদূষণের আরও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। পরিতাপের বিষয়, এসব সত্ত্বেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে খুব কমই গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

বছরে একদিন আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিষয়টি নিয়ে কিছু সভা-সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না, সবকিছু চলে আগের মতোই। পরিবেশ অধিদপ্তর অবশ্য ২০০৬ সালে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এতে রাতে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েকটি সড়ককে নীরব এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যস, এ পর্যন্তই। এর তেমন কোনো কার্যকারিতা লক্ষ করা যায় না। ফলে শব্দদূষণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি হচ্ছে দিন দিন। এ পরিস্থিতি হতাশাজনক। দেশে শব্দদূষণের প্রধান উৎস যান্ত্রিক যানবাহন। বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেলের হর্ন অনবরত শব্দদূষণ ঘটিয়ে থাকে। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর স্থানেও শব্দদূষণ ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্র ও মাইক ব্যবহারেও শব্দদূষণ হয়। বিশেষ বিশেষ সময়ে আতশবাজির শব্দে তীব্র শব্দদূষণ হয়ে থাকে। তবে শহরে শব্দদূষণের জন্য যান্ত্রিক যানবাহনই বেশি দায়ী। বস্তুত দেশের বড় শহরগুলোয় চলাচলকারী যানবাহনগুলো যে উচ্চমাত্রায় ও ঘন ঘন হর্ন বাজিয়ে থাকে, বিশ্বের কোনো শহরেই তেমনটি দেখা যায় না। এর জন্য কেবল নগরীর পরিবহণ ব্যবস্থাই দায়ী নয়, দায়ী জনসচেতনতার অভাবও। শব্দদূষণের মাত্রা কমিয়ে আনতে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টিও তাই জরুরি। বস্তুত শব্দদূষণ রোধে সমষ্টিগত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিজ্ঞানসম্মতভাবে আধুনিক নগরায়ণ, যানবাহন চলাচলে উচ্চমাত্রার শব্দ নিয়ন্ত্রণ, কলকারখানার উৎপাদনের ক্ষেত্রে কম শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রের ব্যবহার এবং সার্বিক পরিবেশসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে শব্দদূষণ অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। সরকার এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেবে-এটাই কাম্য।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মে ২০২১
৩৪ বার পঠিত হয়েছে

শব্দদূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি || প্রয়োজনীয় উদ্যোগ জরুরি

আপডেট এর সময় : ১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মে ২০২১

শব্দদূষণ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম-বেশী পরিচিত। শব্দদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে -হরহামেশাই এমন কথা বলা হয়ে থাকে। তবে কতটা মারাত্মক, তা বোঝা যায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিনের এক বক্তব্যে। আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এক অনলাইন কর্মশালায় তিনি বলেছিলেন, ‘ঢাকা শহরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিনগুণ শব্দদূষণ হয়। এর ফলে এ নগরীর প্রায় অর্ধকোটি মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।’ কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র শব্দ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নানা ধরনের প্রভাব ফেলে। যেমন: উচ্চমাত্রার শব্দ হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের কারণ হতে পারে। উচ্চমাত্রার শব্দ মস্তিষ্কের কোষের ওপর অক্সিজেনের অভাবজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমনকি উচ্চমাত্রার শব্দ আংশিক বা পূর্ণ বধিরতারও কারণ হতে পারে। এ ছাড়া শব্দদূষণ মানবদেহের রক্তের শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে। এর বাইরেও শব্দদূষণের আরও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। পরিতাপের বিষয়, এসব সত্ত্বেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে খুব কমই গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

বছরে একদিন আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিষয়টি নিয়ে কিছু সভা-সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না, সবকিছু চলে আগের মতোই। পরিবেশ অধিদপ্তর অবশ্য ২০০৬ সালে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এতে রাতে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েকটি সড়ককে নীরব এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যস, এ পর্যন্তই। এর তেমন কোনো কার্যকারিতা লক্ষ করা যায় না। ফলে শব্দদূষণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি হচ্ছে দিন দিন। এ পরিস্থিতি হতাশাজনক। দেশে শব্দদূষণের প্রধান উৎস যান্ত্রিক যানবাহন। বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেলের হর্ন অনবরত শব্দদূষণ ঘটিয়ে থাকে। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর স্থানেও শব্দদূষণ ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্র ও মাইক ব্যবহারেও শব্দদূষণ হয়। বিশেষ বিশেষ সময়ে আতশবাজির শব্দে তীব্র শব্দদূষণ হয়ে থাকে। তবে শহরে শব্দদূষণের জন্য যান্ত্রিক যানবাহনই বেশি দায়ী। বস্তুত দেশের বড় শহরগুলোয় চলাচলকারী যানবাহনগুলো যে উচ্চমাত্রায় ও ঘন ঘন হর্ন বাজিয়ে থাকে, বিশ্বের কোনো শহরেই তেমনটি দেখা যায় না। এর জন্য কেবল নগরীর পরিবহণ ব্যবস্থাই দায়ী নয়, দায়ী জনসচেতনতার অভাবও। শব্দদূষণের মাত্রা কমিয়ে আনতে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টিও তাই জরুরি। বস্তুত শব্দদূষণ রোধে সমষ্টিগত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিজ্ঞানসম্মতভাবে আধুনিক নগরায়ণ, যানবাহন চলাচলে উচ্চমাত্রার শব্দ নিয়ন্ত্রণ, কলকারখানার উৎপাদনের ক্ষেত্রে কম শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রের ব্যবহার এবং সার্বিক পরিবেশসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে শব্দদূষণ অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। সরকার এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেবে-এটাই কাম্য।