ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

সড়ক নিরাপত্তায় নীতি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য

প্রতিনিধির নাম :

জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তার করুণ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এক মাসে ৪৪৩টি দুর্ঘটনায় ৪১৮ জনের মৃত্যু এবং ৮৫৬ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। কেবল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণহানি ঘটেছে মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশের বেশি। এর সঙ্গে পথচারী, চালক ও সহকারীদের মৃত্যুও যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। শুধু সড়ক নয়, নৌ ও রেল দুর্ঘটনাও নিরাপত্তা সংকটকে জটিল করে তুলছে।

দুর্ঘটনার কারণগুলো নতুন কিছু নয়—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন খাতের অনিয়ম ও চাঁদাবাজি। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা এসব কারণ তুলে ধরলেও কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতি প্রকট। দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করা—এসব নীতিগত সুপারিশ বহুবার আলোচিত হলেও বাস্তবে অগ্রগতি ধীর।

প্রধান প্রতিবন্ধকতা অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবহন খাতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতা। এর ফলে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। প্রতিটি দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, অপূরণীয় অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক বেদনার জন্ম দেয়—যা পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।

এখন দায়সারা পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় শেষ। প্রয়োজন বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং পরিবহন খাতের অনিয়মে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো। অন্যথায় প্রতিমাসে নতুন পরিসংখ্যান আসবে, শত শত প্রাণ ঝরবে, আর সড়ক থেকে যাবে মৃত্যুফাঁদ হিসেবেই।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
৪৯ বার পঠিত হয়েছে

সড়ক নিরাপত্তায় নীতি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য

আপডেট এর সময় : ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তার করুণ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এক মাসে ৪৪৩টি দুর্ঘটনায় ৪১৮ জনের মৃত্যু এবং ৮৫৬ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। কেবল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণহানি ঘটেছে মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশের বেশি। এর সঙ্গে পথচারী, চালক ও সহকারীদের মৃত্যুও যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। শুধু সড়ক নয়, নৌ ও রেল দুর্ঘটনাও নিরাপত্তা সংকটকে জটিল করে তুলছে।

দুর্ঘটনার কারণগুলো নতুন কিছু নয়—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন খাতের অনিয়ম ও চাঁদাবাজি। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা এসব কারণ তুলে ধরলেও কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতি প্রকট। দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করা—এসব নীতিগত সুপারিশ বহুবার আলোচিত হলেও বাস্তবে অগ্রগতি ধীর।

প্রধান প্রতিবন্ধকতা অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবহন খাতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতা। এর ফলে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। প্রতিটি দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, অপূরণীয় অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক বেদনার জন্ম দেয়—যা পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।

এখন দায়সারা পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় শেষ। প্রয়োজন বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং পরিবহন খাতের অনিয়মে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো। অন্যথায় প্রতিমাসে নতুন পরিসংখ্যান আসবে, শত শত প্রাণ ঝরবে, আর সড়ক থেকে যাবে মৃত্যুফাঁদ হিসেবেই।