ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

সত্যিকারের নৌকা, ধানের শীষ নিয়ে প্রচার আর চলবে না

প্রতিনিধির নাম :

ভোটের প্রচারে প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার ফলে বিএনপির কর্মীরা এখন থেকে ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে এনে আর প্রচার চালাতে পারবেন না। দলটির নেতা-কর্মীদেরকে প্রচারে নামতে হবে প্লাস্টিকে তৈরি ধানের শীষ ব্যবহার করে।

একইভাবে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী প্রচারে সত্যিকারের নৌকা নিয়ে আসতে পারবে না। তবে তারা নৌকার আদলে তৈরি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা যাবে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে এক বৈঠক শেষে এই বিষয়টি জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

নানা সময় নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে এনে প্রচারে অংশ নেন। দলের নেতারাও কোনো এলাকায় সফরে গেলে তাদের হাতে এই প্রতীক দেয়া হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, ‘এখন থেকে কেউ প্রতীকের প্রতিকৃতি ব্যতীত অন্য কিছু ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবে না।’

সচিব বলেন, ‘আগে ছিল জীবন্ত কোনও কিছু নিয়ে প্রচারণা করা যাবে না। যেমন হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি, সেখানে এখন বলা হয়েছে, প্রতিকৃতি ব্যতিত অন্য কিছু নিয়ে প্রচারণা করা যাবে না।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে জীবন্ত প্রাণী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এর আগ পর্যন্ত হাতি, ঘোড়া, ময়ূর বা গোরগ মার্কার প্রার্থীরা এসব প্রাণী নিয়ে মিছিল বের করতেন। কিন্তু সাত বছর ধরে এসব বন্ধ হয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের ক্ষেত্রে কী হবে? এর তো কোনা প্রতিকৃতি নেই- এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন সচিবের সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি কোনও জবাব না দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

সচিব জানান, সিটি করপোরেশন আচরণ বিধিমালায় ১১টি বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়েছে। বিধিমালাটি জারি হলে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের দাবি অনুযায়ী সিটি নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।

২০১৫ সালে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে গত ১২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল আইন সংশোধন করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানায়।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়র প্রার্থীরা এখন থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্প করতে পারবেন। আগে এটা ছিল, প্রতি থানায় একটি।

সংশোধিত বিধিমালাটি ভেটিং বা আইনি পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে যাচাই বাছাই শেষে পরিপত্র জারি হলে নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘এই নির্বাচনকমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। এদের কোনো যোগ্যতা নেই যা কিছু করছে বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্যই করছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮
১১ বার পঠিত হয়েছে

সত্যিকারের নৌকা, ধানের শীষ নিয়ে প্রচার আর চলবে না

আপডেট এর সময় : ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮

ভোটের প্রচারে প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার ফলে বিএনপির কর্মীরা এখন থেকে ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে এনে আর প্রচার চালাতে পারবেন না। দলটির নেতা-কর্মীদেরকে প্রচারে নামতে হবে প্লাস্টিকে তৈরি ধানের শীষ ব্যবহার করে।

একইভাবে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী প্রচারে সত্যিকারের নৌকা নিয়ে আসতে পারবে না। তবে তারা নৌকার আদলে তৈরি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা যাবে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে এক বৈঠক শেষে এই বিষয়টি জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

নানা সময় নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে এনে প্রচারে অংশ নেন। দলের নেতারাও কোনো এলাকায় সফরে গেলে তাদের হাতে এই প্রতীক দেয়া হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, ‘এখন থেকে কেউ প্রতীকের প্রতিকৃতি ব্যতীত অন্য কিছু ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবে না।’

সচিব বলেন, ‘আগে ছিল জীবন্ত কোনও কিছু নিয়ে প্রচারণা করা যাবে না। যেমন হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি, সেখানে এখন বলা হয়েছে, প্রতিকৃতি ব্যতিত অন্য কিছু নিয়ে প্রচারণা করা যাবে না।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে জীবন্ত প্রাণী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এর আগ পর্যন্ত হাতি, ঘোড়া, ময়ূর বা গোরগ মার্কার প্রার্থীরা এসব প্রাণী নিয়ে মিছিল বের করতেন। কিন্তু সাত বছর ধরে এসব বন্ধ হয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের ক্ষেত্রে কী হবে? এর তো কোনা প্রতিকৃতি নেই- এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন সচিবের সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি কোনও জবাব না দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

সচিব জানান, সিটি করপোরেশন আচরণ বিধিমালায় ১১টি বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়েছে। বিধিমালাটি জারি হলে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের দাবি অনুযায়ী সিটি নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।

২০১৫ সালে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে গত ১২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল আইন সংশোধন করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানায়।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়র প্রার্থীরা এখন থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্প করতে পারবেন। আগে এটা ছিল, প্রতি থানায় একটি।

সংশোধিত বিধিমালাটি ভেটিং বা আইনি পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে যাচাই বাছাই শেষে পরিপত্র জারি হলে নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘এই নির্বাচনকমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। এদের কোনো যোগ্যতা নেই যা কিছু করছে বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্যই করছে।