ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ Logo লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ Logo ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড় Logo পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর Logo কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর Logo নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি

সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে

অনলাইন ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একমাত্র পথ হলো সংবিধান মেনে চলা।

তিনি বলেন, ‘সবকিছুই-সরকার গঠন, সংসদ ও সব সংসদ সদস্য-সংবিধানের অনুযায়ী এসেছে, কিন্তু এখন সংবিধানকে উপেক্ষা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কীভাবে?’

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২) -এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ‘ভবিষ্যতের পথ রেখা’-একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন’র বিষয়ে তিনি প্রস্তাবটি আনেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে লেজিসলেটিভ ফ্রড এবং কালারেবল লিজিসলেশন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই ৩৩টি রাজনৈতিক দল কর্তৃক অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন করতে, কিন্তু আদেশটি পূর্বে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্মত সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেনি।’

তিনি বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের কোনো প্রয়োজন নেই, জনগণের নির্দেশ অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন, যাতে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের জন্য কাজ করতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চম সংশোধনী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিরোধী দলকে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চম সংশোধনী শাহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এই সনদ স্পষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয় এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করতে পারে না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে আইনটি সংবিধান ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করবে, সেটি প্রয়োগযোগ্য নয়। জুলাই সনদ হলো জনগণের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় দলিল নয়।’

সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ করেন, কারণ একই প্রস্তাব আগেও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাবের পরিণতি কী হয়েছে তা জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), আন্দালীব রহমান (ভোলা-১) আলোচনায় অংশ নেন।

১ এপ্রিল সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রস্তাব উত্থাপনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আলোচনার জন্য প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং ৫ এপ্রিল আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

প্রস্তাব উত্থাপন করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হলো ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফল। এটি আমাদের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ।’

তিনি বলেন, সনদটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা বিভিন্ন আইন ও সংবিধান সংশোধনের স্পষ্ট প্রস্তাবনা দেয়। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
৭ বার পঠিত হয়েছে

সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে

আপডেট এর সময় : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একমাত্র পথ হলো সংবিধান মেনে চলা।

তিনি বলেন, ‘সবকিছুই-সরকার গঠন, সংসদ ও সব সংসদ সদস্য-সংবিধানের অনুযায়ী এসেছে, কিন্তু এখন সংবিধানকে উপেক্ষা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কীভাবে?’

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২) -এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ‘ভবিষ্যতের পথ রেখা’-একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন’র বিষয়ে তিনি প্রস্তাবটি আনেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে লেজিসলেটিভ ফ্রড এবং কালারেবল লিজিসলেশন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই ৩৩টি রাজনৈতিক দল কর্তৃক অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন করতে, কিন্তু আদেশটি পূর্বে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্মত সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেনি।’

তিনি বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের কোনো প্রয়োজন নেই, জনগণের নির্দেশ অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন, যাতে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের জন্য কাজ করতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চম সংশোধনী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিরোধী দলকে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চম সংশোধনী শাহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এই সনদ স্পষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয় এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করতে পারে না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে আইনটি সংবিধান ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করবে, সেটি প্রয়োগযোগ্য নয়। জুলাই সনদ হলো জনগণের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় দলিল নয়।’

সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ করেন, কারণ একই প্রস্তাব আগেও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাবের পরিণতি কী হয়েছে তা জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), আন্দালীব রহমান (ভোলা-১) আলোচনায় অংশ নেন।

১ এপ্রিল সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রস্তাব উত্থাপনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আলোচনার জন্য প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং ৫ এপ্রিল আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

প্রস্তাব উত্থাপন করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হলো ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফল। এটি আমাদের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ।’

তিনি বলেন, সনদটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা বিভিন্ন আইন ও সংবিধান সংশোধনের স্পষ্ট প্রস্তাবনা দেয়। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।