ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেলবেন মুস্তাফিজ Logo ফুলবাড়ী সীমান্তে ১ হাজার ৬০৩ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার Logo ডিআর কঙ্গোফেরত উগান্ডার নাগরিকদের ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন Logo তোমাদের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’ Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের সহায়তা চান তারেক রহমান Logo ফেনীতে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় আতশবাজি জব্দ, আটক ৬ Logo হেবরনে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করল ইসরাইল Logo হেবরনে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি Logo ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি Logo স্পিকারের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

৪ বছরের সন্তানকে নিতে চান না মা-বাবা, বিস্মিত আদালত

প্রতিনিধির নাম :

প্রত্যেক সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল তার মা-বাবা। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট শিশু মাসান আরদিতের আপন কে? বাবা, নাকি মা? বিয়ে বিচ্ছেদের চরম নির্মমতার শিকার এই শিশুর দায়িত্ব তার মা-বাবা কেউই নিতে চান না। মাসান আরদিতের মা-বাবার এমন আচারণে বিস্মিত আদালত। বিষয়টি নিয়ে পরস্পরকে দুষছেন দুই পক্ষের আইনজীবীও।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মাসান আরদিতের মা-বাবা জানিয়েছেন, মাসানকে তারা রাখতে চান না। বিয়ে বিচ্ছেদের পর বাবা উঠেছেন একটি মেসে। সেখানে শিশুটিকে রাখার পরিবেশ নেই। আর সন্তানের খরচ চালানোর অক্ষমতার কথা বলছেন মা।

এমন ঘটনায় আদালতে উপস্থিত থাকা সবাই অবাক হন। এ সময় আদালত প্রশ্ন করেন, বাবা-মা না দেখলে ছোট্ট শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে?

মাসানের মা সানজিদা শারমিন বলেন, ‘বাচ্চার বাবা তার কোনোই খোঁজ নেই না। একবারও দেখতে আসে না। ভরণ-পোষণও দিচ্ছে না। তাহলে বাচ্চাটাকে আমি কীভাবে রাখব?

তবে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি শিশুর বাবা মাহফুজ ইসলাম। দুপক্ষের আইনজীবীরাও একে অপরের ওপর দোষ চাপান।

মাসানের বাবার আইনজীবী ইকবাল আহাম্মেদ খান বলেন, ‘বাচ্চা নাবালক হলে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তার মায়ের কাছেই থাকবে।’

অপরদিকে মাসানের মায়ের আইনজীবী আকলিমা ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চা মা রাখতে পারবে। কিন্তু বাচ্চার খরচ অবশ্যই বাবাকে দিতে হবে। না দিলে ভিন্নপথ অবলম্বন করতে হবে আমাদের।’

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ফাওজিয়া কর্মী ফিরোজ বলেন, ‘বিচ্ছেদের মামলা বিষাক্ত করে তুলছে এমন শিশুদের জীবন।’ তিনি আদালতে বলেন, ‘আমাদের আদালত নারী ও শিশুবান্ধব নয়। আদালত দেখতে চান বলে অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে বাচ্চা নিয়ে ঢোকার মতো পরিবেশ থাকে না।’

২০১৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এ দম্পতি। তবে এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দাম্পত্য কলহে ফাটল ধরেছে ততই।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯
২৩ বার পঠিত হয়েছে

৪ বছরের সন্তানকে নিতে চান না মা-বাবা, বিস্মিত আদালত

আপডেট এর সময় : ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯

প্রত্যেক সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল তার মা-বাবা। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট শিশু মাসান আরদিতের আপন কে? বাবা, নাকি মা? বিয়ে বিচ্ছেদের চরম নির্মমতার শিকার এই শিশুর দায়িত্ব তার মা-বাবা কেউই নিতে চান না। মাসান আরদিতের মা-বাবার এমন আচারণে বিস্মিত আদালত। বিষয়টি নিয়ে পরস্পরকে দুষছেন দুই পক্ষের আইনজীবীও।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মাসান আরদিতের মা-বাবা জানিয়েছেন, মাসানকে তারা রাখতে চান না। বিয়ে বিচ্ছেদের পর বাবা উঠেছেন একটি মেসে। সেখানে শিশুটিকে রাখার পরিবেশ নেই। আর সন্তানের খরচ চালানোর অক্ষমতার কথা বলছেন মা।

এমন ঘটনায় আদালতে উপস্থিত থাকা সবাই অবাক হন। এ সময় আদালত প্রশ্ন করেন, বাবা-মা না দেখলে ছোট্ট শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে?

মাসানের মা সানজিদা শারমিন বলেন, ‘বাচ্চার বাবা তার কোনোই খোঁজ নেই না। একবারও দেখতে আসে না। ভরণ-পোষণও দিচ্ছে না। তাহলে বাচ্চাটাকে আমি কীভাবে রাখব?

তবে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি শিশুর বাবা মাহফুজ ইসলাম। দুপক্ষের আইনজীবীরাও একে অপরের ওপর দোষ চাপান।

মাসানের বাবার আইনজীবী ইকবাল আহাম্মেদ খান বলেন, ‘বাচ্চা নাবালক হলে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তার মায়ের কাছেই থাকবে।’

অপরদিকে মাসানের মায়ের আইনজীবী আকলিমা ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চা মা রাখতে পারবে। কিন্তু বাচ্চার খরচ অবশ্যই বাবাকে দিতে হবে। না দিলে ভিন্নপথ অবলম্বন করতে হবে আমাদের।’

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ফাওজিয়া কর্মী ফিরোজ বলেন, ‘বিচ্ছেদের মামলা বিষাক্ত করে তুলছে এমন শিশুদের জীবন।’ তিনি আদালতে বলেন, ‘আমাদের আদালত নারী ও শিশুবান্ধব নয়। আদালত দেখতে চান বলে অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে বাচ্চা নিয়ে ঢোকার মতো পরিবেশ থাকে না।’

২০১৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এ দম্পতি। তবে এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দাম্পত্য কলহে ফাটল ধরেছে ততই।