ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাগেরহাটে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু Logo ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু Logo বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ Logo হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর Logo গাজীপুরে শব্দদূষণ রোধে সাইলেন্ট র‌্যালি ও মতবিনিময় Logo বগুড়ায় সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারি ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার Logo ইরানের হামলার জবাবে ৫টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের Logo পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের পর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান Logo মার্কিন প্রভাব সুসংহত করতে লাতিন আমেরিকা সফর শুরু রুবিওর

৪ বছরের সন্তানকে নিতে চান না মা-বাবা, বিস্মিত আদালত

প্রতিনিধির নাম :

প্রত্যেক সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল তার মা-বাবা। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট শিশু মাসান আরদিতের আপন কে? বাবা, নাকি মা? বিয়ে বিচ্ছেদের চরম নির্মমতার শিকার এই শিশুর দায়িত্ব তার মা-বাবা কেউই নিতে চান না। মাসান আরদিতের মা-বাবার এমন আচারণে বিস্মিত আদালত। বিষয়টি নিয়ে পরস্পরকে দুষছেন দুই পক্ষের আইনজীবীও।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মাসান আরদিতের মা-বাবা জানিয়েছেন, মাসানকে তারা রাখতে চান না। বিয়ে বিচ্ছেদের পর বাবা উঠেছেন একটি মেসে। সেখানে শিশুটিকে রাখার পরিবেশ নেই। আর সন্তানের খরচ চালানোর অক্ষমতার কথা বলছেন মা।

এমন ঘটনায় আদালতে উপস্থিত থাকা সবাই অবাক হন। এ সময় আদালত প্রশ্ন করেন, বাবা-মা না দেখলে ছোট্ট শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে?

মাসানের মা সানজিদা শারমিন বলেন, ‘বাচ্চার বাবা তার কোনোই খোঁজ নেই না। একবারও দেখতে আসে না। ভরণ-পোষণও দিচ্ছে না। তাহলে বাচ্চাটাকে আমি কীভাবে রাখব?

তবে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি শিশুর বাবা মাহফুজ ইসলাম। দুপক্ষের আইনজীবীরাও একে অপরের ওপর দোষ চাপান।

মাসানের বাবার আইনজীবী ইকবাল আহাম্মেদ খান বলেন, ‘বাচ্চা নাবালক হলে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তার মায়ের কাছেই থাকবে।’

অপরদিকে মাসানের মায়ের আইনজীবী আকলিমা ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চা মা রাখতে পারবে। কিন্তু বাচ্চার খরচ অবশ্যই বাবাকে দিতে হবে। না দিলে ভিন্নপথ অবলম্বন করতে হবে আমাদের।’

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ফাওজিয়া কর্মী ফিরোজ বলেন, ‘বিচ্ছেদের মামলা বিষাক্ত করে তুলছে এমন শিশুদের জীবন।’ তিনি আদালতে বলেন, ‘আমাদের আদালত নারী ও শিশুবান্ধব নয়। আদালত দেখতে চান বলে অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে বাচ্চা নিয়ে ঢোকার মতো পরিবেশ থাকে না।’

২০১৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এ দম্পতি। তবে এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দাম্পত্য কলহে ফাটল ধরেছে ততই।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯
১৫ বার পঠিত হয়েছে

৪ বছরের সন্তানকে নিতে চান না মা-বাবা, বিস্মিত আদালত

আপডেট এর সময় : ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯

প্রত্যেক সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল তার মা-বাবা। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট শিশু মাসান আরদিতের আপন কে? বাবা, নাকি মা? বিয়ে বিচ্ছেদের চরম নির্মমতার শিকার এই শিশুর দায়িত্ব তার মা-বাবা কেউই নিতে চান না। মাসান আরদিতের মা-বাবার এমন আচারণে বিস্মিত আদালত। বিষয়টি নিয়ে পরস্পরকে দুষছেন দুই পক্ষের আইনজীবীও।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মাসান আরদিতের মা-বাবা জানিয়েছেন, মাসানকে তারা রাখতে চান না। বিয়ে বিচ্ছেদের পর বাবা উঠেছেন একটি মেসে। সেখানে শিশুটিকে রাখার পরিবেশ নেই। আর সন্তানের খরচ চালানোর অক্ষমতার কথা বলছেন মা।

এমন ঘটনায় আদালতে উপস্থিত থাকা সবাই অবাক হন। এ সময় আদালত প্রশ্ন করেন, বাবা-মা না দেখলে ছোট্ট শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে?

মাসানের মা সানজিদা শারমিন বলেন, ‘বাচ্চার বাবা তার কোনোই খোঁজ নেই না। একবারও দেখতে আসে না। ভরণ-পোষণও দিচ্ছে না। তাহলে বাচ্চাটাকে আমি কীভাবে রাখব?

তবে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি শিশুর বাবা মাহফুজ ইসলাম। দুপক্ষের আইনজীবীরাও একে অপরের ওপর দোষ চাপান।

মাসানের বাবার আইনজীবী ইকবাল আহাম্মেদ খান বলেন, ‘বাচ্চা নাবালক হলে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তার মায়ের কাছেই থাকবে।’

অপরদিকে মাসানের মায়ের আইনজীবী আকলিমা ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চা মা রাখতে পারবে। কিন্তু বাচ্চার খরচ অবশ্যই বাবাকে দিতে হবে। না দিলে ভিন্নপথ অবলম্বন করতে হবে আমাদের।’

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ফাওজিয়া কর্মী ফিরোজ বলেন, ‘বিচ্ছেদের মামলা বিষাক্ত করে তুলছে এমন শিশুদের জীবন।’ তিনি আদালতে বলেন, ‘আমাদের আদালত নারী ও শিশুবান্ধব নয়। আদালত দেখতে চান বলে অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে বাচ্চা নিয়ে ঢোকার মতো পরিবেশ থাকে না।’

২০১৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এ দম্পতি। তবে এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দাম্পত্য কলহে ফাটল ধরেছে ততই।