ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ Logo চট্টগ্রামে ভারতীয় পণ্য জব্দ, গ্রেফতার ২ Logo ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন Logo যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়ায় ওয়েবসাইট হ্যাকার গ্রুপের দুই সদস্য গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম :

বগুড়া সাইবার পুলিশ বশির উল্লাহ্ সরদার (২১) এবং কাজী আজহার উদ্দিন আবির ওরফে আল-আজহার (১৯) নামে ওয়েব সাইট হ্যাকার গ্রুপের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জ থেকে বশিরকে এবং পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরে চাঁদপুর থেকে আবিরকে গ্রেফতার করা হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া শনিবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। গ্রেফতার দু’জনের কাছ থেকে দু’টি পার্সোনাল কম্পিউটার (পিসি) ও মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
গ্রেফতার বশির সরদার ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা টাউনের হাফেজ আব্দুল্লাহ্ বাদশার ছেলে এবং কাজী আজহার উদ্দিন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নলুয়া গ্রামের কাজী নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তারা দু’জনই কলেজ ছাত্র এবং সম্মান শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কলেজের নাম জানানো হয়নি।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, ওই দুই হ্যাকার ও তাদের সহযোগীরা মিলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে ‘ব্লাক ওয়েব’ এবং ‘ফাবিহেক্সার’ নামের দু’টি গ্রুপের নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২১টি ওয়েব সাইট হ্যাক করে। হ্যাক করা ওয়েস সাইটের মধ্যে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ও বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজও রয়েছে। তবে তাদের কবল থেকে হ্যাক করা ৪টি ওয়েবসাইট উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দু’জন জানিয়েছে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলো ক্ষতিসাধন ও ডাটাবেজ থেকে তথ্য চুরি করার পাশাপাশি নিজেদেরকে জাহির করতেই তারা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাদের সঙ্গে আরও ৫/৬ জন জড়িত।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মনিটরিং সেলের মাধ্যমে প্রথমে বশির উল্লাহ্ সরদারকে (কোড নাম ফাবিহেক্সার) সনাক্ত করা হয়। সাইবার পুলিশের ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার দিকে চাঁদপুরের মমিনপাড়া তানিশা হাউজ থেকে কাজী আজাহার উদ্দিন আবির ওরফে আল-আজহারকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বশির উল্লাহ্ সরদার ‘ফাবিহেক্সার’ নামে কোড ব্যবহার করের দেশের সরকারি স্কুল ও কলেজের ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করে আসছিল। একইভাবে ‘ব্লাক ওয়েব’ কোড ব্যবহার করে ৩ হাজার ৬৮৯টি ওয়েব সাইট হ্যাকের ডিফেস পাওয়া গেছে।

হ্যাকিংয়ের ফলে ওয়েবসাইট মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। এক প্রশ্নের জবাবে বগুড়ার পুলিশ সুপার বলেন, ‘হ্যাকার গ্রুপের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ সংবাদ সম্মেলনে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত দুই পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন, আরিফুর রহমান মন্ডল এবং পুলিশের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
১১ বার পঠিত হয়েছে

বগুড়ায় ওয়েবসাইট হ্যাকার গ্রুপের দুই সদস্য গ্রেফতার

আপডেট এর সময় : ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বগুড়া সাইবার পুলিশ বশির উল্লাহ্ সরদার (২১) এবং কাজী আজহার উদ্দিন আবির ওরফে আল-আজহার (১৯) নামে ওয়েব সাইট হ্যাকার গ্রুপের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জ থেকে বশিরকে এবং পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরে চাঁদপুর থেকে আবিরকে গ্রেফতার করা হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া শনিবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। গ্রেফতার দু’জনের কাছ থেকে দু’টি পার্সোনাল কম্পিউটার (পিসি) ও মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
গ্রেফতার বশির সরদার ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা টাউনের হাফেজ আব্দুল্লাহ্ বাদশার ছেলে এবং কাজী আজহার উদ্দিন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নলুয়া গ্রামের কাজী নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তারা দু’জনই কলেজ ছাত্র এবং সম্মান শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কলেজের নাম জানানো হয়নি।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, ওই দুই হ্যাকার ও তাদের সহযোগীরা মিলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে ‘ব্লাক ওয়েব’ এবং ‘ফাবিহেক্সার’ নামের দু’টি গ্রুপের নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২১টি ওয়েব সাইট হ্যাক করে। হ্যাক করা ওয়েস সাইটের মধ্যে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ও বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজও রয়েছে। তবে তাদের কবল থেকে হ্যাক করা ৪টি ওয়েবসাইট উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দু’জন জানিয়েছে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলো ক্ষতিসাধন ও ডাটাবেজ থেকে তথ্য চুরি করার পাশাপাশি নিজেদেরকে জাহির করতেই তারা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাদের সঙ্গে আরও ৫/৬ জন জড়িত।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মনিটরিং সেলের মাধ্যমে প্রথমে বশির উল্লাহ্ সরদারকে (কোড নাম ফাবিহেক্সার) সনাক্ত করা হয়। সাইবার পুলিশের ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার দিকে চাঁদপুরের মমিনপাড়া তানিশা হাউজ থেকে কাজী আজাহার উদ্দিন আবির ওরফে আল-আজহারকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বশির উল্লাহ্ সরদার ‘ফাবিহেক্সার’ নামে কোড ব্যবহার করের দেশের সরকারি স্কুল ও কলেজের ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করে আসছিল। একইভাবে ‘ব্লাক ওয়েব’ কোড ব্যবহার করে ৩ হাজার ৬৮৯টি ওয়েব সাইট হ্যাকের ডিফেস পাওয়া গেছে।

হ্যাকিংয়ের ফলে ওয়েবসাইট মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। এক প্রশ্নের জবাবে বগুড়ার পুলিশ সুপার বলেন, ‘হ্যাকার গ্রুপের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ সংবাদ সম্মেলনে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত দুই পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন, আরিফুর রহমান মন্ডল এবং পুলিশের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।