ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া Logo সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের সংগ্রাম Logo ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল Logo স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

শ্বশুর চাইছেন গোল, জামাইয়ের চাওয়া জয়

প্রতিনিধির নাম :

‘স্যার, বাংলাদেশের সাংবাদিক বলছি…’

ফোনের অপর প্রান্তে নিজেই বলে গেলেন, ‘ওহ বুঝেছি, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের ব্যাপারে কথা বলতে চাচ্ছেন তো। আমার কাছে ম্যাচটি ফিফটি-ফিফটি। সম্ভাবনা বেশি ড্রয়ের। অথবা সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে কোনো দল একটি গোল করে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়বে।’ কথাটি ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর শ্বশুর সুব্রত ভট্টাচার্যের।

তরুণ প্রজন্মের কাছে সুব্রতর পরিচয় সুনীল ছেত্রীর শ্বশুর হলেও, তাঁর মূল পরিচয় ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। টানা ১২ বছর ভারত জাতীয় দলের রক্ষণ সামলেছেন। ৩৪ বছর আগে কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেছিলেন সুব্রত। সে স্মৃতি এখনো তরতাজা, ‘ওই ম্যাচে বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলেছিল। দলে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা জিতে যাই।’ বুট জোড়া তুলে রেখে দীর্ঘ সময় ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে কোচিং করিয়ে বর্তমানে কলকাতা মোহামেডানের কোচ। ফুটবলের শহরে যার পরিচয় ‘বাবলু’দা।

২০০২ সালে কলকাতা ফুটবল অধ্যায়ের প্রথম পর্বে মোহনবাগানে কোচ হিসেবে বর্তমানে শ্বশুর সুব্রতকেই পেয়েছিলেন সুনীল। সুনীলকে তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ে জামাই যখন জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে নামছেন, তাঁর কাছে কোনো গোলের প্রত্যাশা আছে? ‘ওর পায়ে কাজ আছে। হেডিং ও মুভমেন্টে খুবই ভালো। কিন্তু ওকে কি আর বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা খেলতে দেবে। ওকে তো ডাবল মার্কিংয়ে রাখবে। অবশ্য এর মধ্যেও সুযোগ পেলে গোল করার ক্ষমতা আছে। তবে আমি যত দূর জানি বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা অনেক ভালো।’

বাংলাদেশ যেন আজ খেলতে নামছেন ছেত্রীর বিপক্ষেই! ভারতের সর্বকালের সেরা গোল দাতা। দেশের জার্সিতে ৭২ গোল করে গোলের সংখ্যায় বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে রোনালদোর পরেই আছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ৩ গোলের সবগুলোই শেষ দুই ম্যাচে।

সর্বশেষ দুই ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ-ভারত। ২০১৪ সালে শেষ মুখোমুখিতে গোয়ায় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও সুনীল ছেত্রীর কাছে হার মেনে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এর আগের বছর কাঠমান্ডুর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আতিকুর রহমান মিশুর গোলে প্রায় শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া একটা ফ্রি কিক দারুণ কারিশমায় জালে আছড়ে ফেলেন ভারতীয় তারকা সুনীল ছেত্রী। আজকের ম্যাচে কলকাতার জামাই বাবুর (সুনীল) মুখে অবশ্য গোল নয় জয়ের স্বপ্ন, ‘শ্বশুর বাড়ির লোকজন খেলা দেখতে আসবেন। স্ত্রীও আসতে পারে। এটা বিশেষ অনুভূতি। তবে বিষয়টা হলো পুরো ভারতই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।’

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, সুনীল কি হ্যাটট্রিক করবেন? বিনয়ী জবাব, ‘হ্যাটট্রিক কেন, আপনারা আমার কাছে ছয় গোলও চাইতে পারেন। এসব শুধুই মুখের কথা। আপনাকে প্রতিপক্ষের দিকও চিন্তা করতে হবে। যদি আমি হ্যাটট্রিক করি, আর ভারত ৪-৩ গোলে হারে, তাহলে এ হ্যাটট্রিকের তো কোনো মূল্য নেই। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হলো দলের জয়। আমি যদি গোল নাও করি, আর দল জেতে তাহলে আমি বেশি খুশি হব।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
১২ বার পঠিত হয়েছে

শ্বশুর চাইছেন গোল, জামাইয়ের চাওয়া জয়

আপডেট এর সময় : ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

‘স্যার, বাংলাদেশের সাংবাদিক বলছি…’

ফোনের অপর প্রান্তে নিজেই বলে গেলেন, ‘ওহ বুঝেছি, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের ব্যাপারে কথা বলতে চাচ্ছেন তো। আমার কাছে ম্যাচটি ফিফটি-ফিফটি। সম্ভাবনা বেশি ড্রয়ের। অথবা সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে কোনো দল একটি গোল করে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়বে।’ কথাটি ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর শ্বশুর সুব্রত ভট্টাচার্যের।

তরুণ প্রজন্মের কাছে সুব্রতর পরিচয় সুনীল ছেত্রীর শ্বশুর হলেও, তাঁর মূল পরিচয় ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। টানা ১২ বছর ভারত জাতীয় দলের রক্ষণ সামলেছেন। ৩৪ বছর আগে কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেছিলেন সুব্রত। সে স্মৃতি এখনো তরতাজা, ‘ওই ম্যাচে বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলেছিল। দলে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা জিতে যাই।’ বুট জোড়া তুলে রেখে দীর্ঘ সময় ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে কোচিং করিয়ে বর্তমানে কলকাতা মোহামেডানের কোচ। ফুটবলের শহরে যার পরিচয় ‘বাবলু’দা।

২০০২ সালে কলকাতা ফুটবল অধ্যায়ের প্রথম পর্বে মোহনবাগানে কোচ হিসেবে বর্তমানে শ্বশুর সুব্রতকেই পেয়েছিলেন সুনীল। সুনীলকে তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ে জামাই যখন জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে নামছেন, তাঁর কাছে কোনো গোলের প্রত্যাশা আছে? ‘ওর পায়ে কাজ আছে। হেডিং ও মুভমেন্টে খুবই ভালো। কিন্তু ওকে কি আর বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা খেলতে দেবে। ওকে তো ডাবল মার্কিংয়ে রাখবে। অবশ্য এর মধ্যেও সুযোগ পেলে গোল করার ক্ষমতা আছে। তবে আমি যত দূর জানি বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা অনেক ভালো।’

বাংলাদেশ যেন আজ খেলতে নামছেন ছেত্রীর বিপক্ষেই! ভারতের সর্বকালের সেরা গোল দাতা। দেশের জার্সিতে ৭২ গোল করে গোলের সংখ্যায় বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে রোনালদোর পরেই আছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ৩ গোলের সবগুলোই শেষ দুই ম্যাচে।

সর্বশেষ দুই ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ-ভারত। ২০১৪ সালে শেষ মুখোমুখিতে গোয়ায় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও সুনীল ছেত্রীর কাছে হার মেনে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এর আগের বছর কাঠমান্ডুর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আতিকুর রহমান মিশুর গোলে প্রায় শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া একটা ফ্রি কিক দারুণ কারিশমায় জালে আছড়ে ফেলেন ভারতীয় তারকা সুনীল ছেত্রী। আজকের ম্যাচে কলকাতার জামাই বাবুর (সুনীল) মুখে অবশ্য গোল নয় জয়ের স্বপ্ন, ‘শ্বশুর বাড়ির লোকজন খেলা দেখতে আসবেন। স্ত্রীও আসতে পারে। এটা বিশেষ অনুভূতি। তবে বিষয়টা হলো পুরো ভারতই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।’

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, সুনীল কি হ্যাটট্রিক করবেন? বিনয়ী জবাব, ‘হ্যাটট্রিক কেন, আপনারা আমার কাছে ছয় গোলও চাইতে পারেন। এসব শুধুই মুখের কথা। আপনাকে প্রতিপক্ষের দিকও চিন্তা করতে হবে। যদি আমি হ্যাটট্রিক করি, আর ভারত ৪-৩ গোলে হারে, তাহলে এ হ্যাটট্রিকের তো কোনো মূল্য নেই। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হলো দলের জয়। আমি যদি গোল নাও করি, আর দল জেতে তাহলে আমি বেশি খুশি হব।’