ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

ফারুক-আসাদের বিরোধ উস্কে দিতে ‘হাতজোড়’ ছবি ভাইরাল

প্রতিনিধির নাম :

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে থাকা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে গত শুক্রবার। কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় ডেকে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন। এরপর ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করে তা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে।

তবে এই দুই নেতার বিরোধ উস্কে দিতে রবিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল করা হয়েছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে এক সারিতে বসে আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশে দাঁড়িয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। আর আসাদের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।

এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফারুক যখন আসাদের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে ছিলেন আসাদ তখন তার দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। আরেকটি ছবিতে আসাদকে সরে যেতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি গত ৮ নভেম্বর ঢাকায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের।

শনিবার গভীর রাতে ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। তিনি ফারুক চৌধুরীরই অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারপর থেকে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ছবিটি পোস্ট করছেন। অনেকেই পাঠাচ্ছেন ম্যাসেঞ্জারে।

ভাইরাল হওয়া ওই ছবি নিয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘যারা ছবিটা ফেসবুকে পোস্ট করছেন তারাই ভালো বলতে পারবে। তাদেরকেই জিজ্ঞেস করেন।’ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা জানান, ওই বৈঠকে যখন ফারুক চৌধুরী ও আসাদ একে-অপরের বিরুদ্ধে কি বলেছেন, এমন নিয়ে আলোচনা হয়। এরই এক পর্যায়ে ওমর ফারুক চৌধুরী উঠে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বলেন, ‘অনেক হলো, এবার আমাকে মুক্তি দেন। আমাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দেন অথবা জেলা কমিটি ভেঙে দেন। এই কমিটির চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, জামায়াত-বিএনপি’র পৃষ্ঠপোষক নেতারা যেভাবে আমাকে, আমার জন্মদাতা শহীদ পিতাকে নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও নোংরামি করছে, সেসব আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি আমার শহীদ পিতার সম্মান রক্ষা করতে চাই। আমি কোনো পদে না থেকেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের একজন সৈনিক হিসাবে কাজ করতে চাই।’

তবে শনিবার রাত থেকে সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন আবদুস সালাম। আগামী সম্মেলনের আগে ফারুক চৌধুরী ও আসাদের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্ব উস্কে দিতে এমনটা করা হয়েছে বলে দাবি একাধিক নেতার। বিষয়টি কানে গেছে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, কেন্দ্র যখন দুই নেতার বিরোধ মিটিয়ে একটি সফল সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন একটি মহল বিরোধ জিইয়ে রেখে ফায়দা নিতে চাচ্ছে। মূলত দুই নেতার বিরোধ উস্কে দিতে ছবিটি ভাইরাল করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০১৯
১৩ বার পঠিত হয়েছে

ফারুক-আসাদের বিরোধ উস্কে দিতে ‘হাতজোড়’ ছবি ভাইরাল

আপডেট এর সময় : ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০১৯

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে থাকা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে গত শুক্রবার। কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় ডেকে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন। এরপর ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করে তা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে।

তবে এই দুই নেতার বিরোধ উস্কে দিতে রবিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল করা হয়েছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে এক সারিতে বসে আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশে দাঁড়িয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। আর আসাদের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।

এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফারুক যখন আসাদের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে ছিলেন আসাদ তখন তার দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। আরেকটি ছবিতে আসাদকে সরে যেতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি গত ৮ নভেম্বর ঢাকায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের।

শনিবার গভীর রাতে ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। তিনি ফারুক চৌধুরীরই অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারপর থেকে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ছবিটি পোস্ট করছেন। অনেকেই পাঠাচ্ছেন ম্যাসেঞ্জারে।

ভাইরাল হওয়া ওই ছবি নিয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘যারা ছবিটা ফেসবুকে পোস্ট করছেন তারাই ভালো বলতে পারবে। তাদেরকেই জিজ্ঞেস করেন।’ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা জানান, ওই বৈঠকে যখন ফারুক চৌধুরী ও আসাদ একে-অপরের বিরুদ্ধে কি বলেছেন, এমন নিয়ে আলোচনা হয়। এরই এক পর্যায়ে ওমর ফারুক চৌধুরী উঠে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বলেন, ‘অনেক হলো, এবার আমাকে মুক্তি দেন। আমাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দেন অথবা জেলা কমিটি ভেঙে দেন। এই কমিটির চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, জামায়াত-বিএনপি’র পৃষ্ঠপোষক নেতারা যেভাবে আমাকে, আমার জন্মদাতা শহীদ পিতাকে নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও নোংরামি করছে, সেসব আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি আমার শহীদ পিতার সম্মান রক্ষা করতে চাই। আমি কোনো পদে না থেকেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের একজন সৈনিক হিসাবে কাজ করতে চাই।’

তবে শনিবার রাত থেকে সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন আবদুস সালাম। আগামী সম্মেলনের আগে ফারুক চৌধুরী ও আসাদের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্ব উস্কে দিতে এমনটা করা হয়েছে বলে দাবি একাধিক নেতার। বিষয়টি কানে গেছে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, কেন্দ্র যখন দুই নেতার বিরোধ মিটিয়ে একটি সফল সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন একটি মহল বিরোধ জিইয়ে রেখে ফায়দা নিতে চাচ্ছে। মূলত দুই নেতার বিরোধ উস্কে দিতে ছবিটি ভাইরাল করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে