ঝরা পাতায় হাসিমুখ সালেহা মালেকাদের

প্রায় এক হাজার একরের সন্তোষপুরের রাবার বাগান। এটি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়ায় অবস্থিত। বাগানে সালেহা, মালেকাসহ অনেক সমবয়সী নারীরা দলবেঁধে পাতা কুড়ানোর কাজ করেন। এ থেকে দৈনিক মজুরি পান দুইশ টাকা। শুধু সালেহারাই নন, তাদের মত একাধিক দল আছে বাগানে।
জানা গেলো, মাঘ মাসের অর্ধেক সময় পার হলেই রাবার গাছের পাতা ঝরে পড়ে। পাহাড়ি এলাকার মানুষ কচু ও হলুদ ক্ষেত ঢেকে দিতে প্লট আকারে ঝরে পড়া পাতা কিনে নেন। ঝরা পাতাগুলো একত্র করতে বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের দিনমজুর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজ শুরু হয় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
সীমান্তের মধুপুর উপজেলার নারী শ্রমিক সালেহা জানান, পাতা কুড়ানোর সময় এলে এ থেকে আমাদের বাড়তি আয় হয়। অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে দিন দুইশ টাকা মজুরিতে কাজ করি। অন্যদিকে মজুরি নিয়ে প্রতিবাদ করলে অন্যদের কাজ দিয়ে দেওয়া হবে।
নারী শ্রমিক মালেকা জানালেন, শুকনো মৌসুমেও রাবার বাগানে জোঁক থাকে। মশার উপদ্রবও অনেক বেশি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ করি।
রাবার বাগানের রাখাল, মজিদ মিয়া (৩০) জানালেন, মাঘ মাস এলেই পাতাগুলো ঝরে শীতল পাটির মত হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ শীতল পাটি বিছিয়ে রেখেছে। বছরে দুবার পাতা কুড়ানো যায় রাবার বাগানে। একবার মাঘে আরেকবার ফাল্গুনে। বাগানের পাতাগুলো কচু ও হলুদ ক্ষেত রোপণের পর ঢেকে দেওয়া হয়। এতে ক্ষেতে আগাছা কম হয় এবং পাতা পচে জৈব সার হয়। তাই পাহাড়ে এর ভালো চাহিদা রয়েছে।
সন্তোষপুর রাবার বাগান ম্যানেজার মফিজ উদ্দিন খান জানান, রাবার বাগানে কাজ করা ট্রেপারম্যানরা পাতা বিক্রির টাকা ভাগ করে নিয়ে যায়। আমরা শুধু সমন্বয় করে দেই। পাতা ঝরার সময় রাবার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয় পর্যটকরাও।

























