ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ Logo ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে ৯ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার Logo ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর Logo মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকা ভুয়া বিদ্যুত বিল, জিএম বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির Logo হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া

ঝরা পাতায় হাসিমুখ সালেহা মালেকাদের

প্রতিনিধির নাম :

প্রায় এক হাজার একরের সন্তোষপুরের রাবার বাগান। এটি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়ায় অবস্থিত। বাগানে সালেহা, মালেকাসহ অনেক সমবয়সী নারীরা দলবেঁধে পাতা কুড়ানোর কাজ করেন। এ থেকে দৈনিক মজুরি পান দুইশ টাকা। শুধু সালেহারাই নন, তাদের মত একাধিক দল আছে বাগানে।

জানা গেলো, মাঘ মাসের অর্ধেক সময় পার হলেই রাবার গাছের পাতা ঝরে পড়ে। পাহাড়ি এলাকার মানুষ কচু ও হলুদ ক্ষেত ঢেকে দিতে প্লট আকারে ঝরে পড়া পাতা কিনে নেন। ঝরা পাতাগুলো একত্র করতে বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের দিনমজুর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজ শুরু হয় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সীমান্তের মধুপুর উপজেলার নারী শ্রমিক সালেহা জানান, পাতা কুড়ানোর সময় এলে এ থেকে আমাদের বাড়তি আয় হয়। অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে দিন দুইশ টাকা মজুরিতে কাজ করি। অন্যদিকে মজুরি নিয়ে প্রতিবাদ করলে অন্যদের কাজ দিয়ে দেওয়া হবে।

নারী শ্রমিক মালেকা জানালেন, শুকনো মৌসুমেও রাবার বাগানে জোঁক থাকে। মশার উপদ্রবও অনেক বেশি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ করি।

রাবার বাগানের রাখাল, মজিদ মিয়া (৩০) জানালেন, মাঘ মাস এলেই পাতাগুলো ঝরে শীতল পাটির মত হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ শীতল পাটি বিছিয়ে রেখেছে। বছরে দুবার পাতা কুড়ানো যায় রাবার বাগানে। একবার মাঘে আরেকবার ফাল্গুনে। বাগানের পাতাগুলো কচু ও হলুদ ক্ষেত রোপণের পর ঢেকে দেওয়া হয়। এতে ক্ষেতে আগাছা কম হয় এবং পাতা পচে জৈব সার হয়। তাই পাহাড়ে এর ভালো চাহিদা রয়েছে।

সন্তোষপুর রাবার বাগান ম্যানেজার মফিজ উদ্দিন খান জানান, রাবার বাগানে কাজ করা ট্রেপারম্যানরা পাতা বিক্রির টাকা ভাগ করে নিয়ে যায়। আমরা শুধু সমন্বয় করে দেই। পাতা ঝরার সময় রাবার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয় পর্যটকরাও।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২০
১৭ বার পঠিত হয়েছে

ঝরা পাতায় হাসিমুখ সালেহা মালেকাদের

আপডেট এর সময় : ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

প্রায় এক হাজার একরের সন্তোষপুরের রাবার বাগান। এটি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়ায় অবস্থিত। বাগানে সালেহা, মালেকাসহ অনেক সমবয়সী নারীরা দলবেঁধে পাতা কুড়ানোর কাজ করেন। এ থেকে দৈনিক মজুরি পান দুইশ টাকা। শুধু সালেহারাই নন, তাদের মত একাধিক দল আছে বাগানে।

জানা গেলো, মাঘ মাসের অর্ধেক সময় পার হলেই রাবার গাছের পাতা ঝরে পড়ে। পাহাড়ি এলাকার মানুষ কচু ও হলুদ ক্ষেত ঢেকে দিতে প্লট আকারে ঝরে পড়া পাতা কিনে নেন। ঝরা পাতাগুলো একত্র করতে বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের দিনমজুর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজ শুরু হয় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সীমান্তের মধুপুর উপজেলার নারী শ্রমিক সালেহা জানান, পাতা কুড়ানোর সময় এলে এ থেকে আমাদের বাড়তি আয় হয়। অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে দিন দুইশ টাকা মজুরিতে কাজ করি। অন্যদিকে মজুরি নিয়ে প্রতিবাদ করলে অন্যদের কাজ দিয়ে দেওয়া হবে।

নারী শ্রমিক মালেকা জানালেন, শুকনো মৌসুমেও রাবার বাগানে জোঁক থাকে। মশার উপদ্রবও অনেক বেশি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ করি।

রাবার বাগানের রাখাল, মজিদ মিয়া (৩০) জানালেন, মাঘ মাস এলেই পাতাগুলো ঝরে শীতল পাটির মত হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ শীতল পাটি বিছিয়ে রেখেছে। বছরে দুবার পাতা কুড়ানো যায় রাবার বাগানে। একবার মাঘে আরেকবার ফাল্গুনে। বাগানের পাতাগুলো কচু ও হলুদ ক্ষেত রোপণের পর ঢেকে দেওয়া হয়। এতে ক্ষেতে আগাছা কম হয় এবং পাতা পচে জৈব সার হয়। তাই পাহাড়ে এর ভালো চাহিদা রয়েছে।

সন্তোষপুর রাবার বাগান ম্যানেজার মফিজ উদ্দিন খান জানান, রাবার বাগানে কাজ করা ট্রেপারম্যানরা পাতা বিক্রির টাকা ভাগ করে নিয়ে যায়। আমরা শুধু সমন্বয় করে দেই। পাতা ঝরার সময় রাবার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয় পর্যটকরাও।