বছর না ঘুরতেই তীররক্ষা প্রকল্পে ধস, আতঙ্কে যমুনা পাড়ের মানুষ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন রোধে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বিভিন্ন পয়েন্ট ধসে গেছে। ওয়াক ওয়ের (টপ) পাশে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড়ো গর্ত ও খাদের। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার কামালপুর, কর্ণিবাড়ি, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা ইউপির প্রকল্পের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের পুরোটাই ধসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। প্রকল্পটি কার্যকর করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
জানা যায়, প্রকল্প এলাকাটি রৌহাদহ পয়েন্ট থেকে মথুরাপাড়া পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় দুই বছর। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। নির্মাণ কাজ শেষ এবং মেইটেনেন্স পিরিয়ড পার করে গত বছরের জুন মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাউবোর কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করে। এর ৭ মাসেই বিভিন্ন পয়েন্টে পিসিং ধসে যায় এবং ওয়াক ওয়ের পাশে গভীর খাদ ও গর্তের সৃষ্টি হয়।
চন্দানবাইশা ইউপির ঘুঘুমারি গ্রামের শহিদুল ইসলাম, সুমন মিয়া, কালু গাজী জানান, ভেবে ছিলাম নদী রক্ষা প্রকল্পের কাজ হওয়ায় বাপ-দাদার ভিটে বাড়ি রক্ষা পাবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ধসে পড়ায় এখানে বসবাসে অনিরাপদ হয়ে পড়েছি।
তিনবার বাড়ি ভাঙ্গনের শিকার চন্দনবাইশার বাসিন্দা অধ্যক্ষ সাদত হোসেন জানান, ইতিপূর্বে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তালুকদার পাড়ায় দুই হাজার মিটার তীররক্ষা কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত না করায় ওই কাজ ধসে যায়। ভাঙনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ চন্দনবাইশা বাজারের শতাধিক দোকান, কয়েটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যমুনা গর্ভে বিলীন হয়।
চন্দনবাইশা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন দুলাল জানান, নদী ভাঙন থেকে জনপদ নিরাপদ রাখতে বর্ষা মৌসুমের আগেই জরুরি ভিত্তিতে তীররক্ষা কাজ সংস্কার প্রয়োজন।
পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বোর্ডে চিঠি দিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজ করা হবে।

























