ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও Logo কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা Logo ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, সুনামি সতর্কতা জারি Logo জেরুজালেমের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণ, ফের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি ইসরাইলের Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত স্টাফদের বেতন নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন Logo বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo সম্পর্ক পর্যালোচনা, বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও রাশিয়া: মস্কো Logo চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ Logo কোটচাঁদপুরে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খুলনা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকট; পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

করোনার প্রভাব প্রযুক্তি পণ্যে

প্রতিনিধির নাম :

করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রযুক্তি পণ্যেও। মোবাইল হ্যান্ডসেট ছাড়া সবকিছুতেই চরম সংকট শুরু হয়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্কে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রধানত চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে ও জেডটিইর ওপর নির্ভরশীল। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই চীনা প্রকৌশলীরা কাজে যাচ্ছেন না। ফলে অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই চালানো হচ্ছে নেটওয়ার্ক সংস্কারের কাজ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বাজারে বড়ো ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিত্সা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিও এখন আর আনা যাচ্ছে না।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিষয়টা এমন এখানে কারো কোনো হাত নেই। টেলিটকের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি আনতে এলসি খোলা হয়েছিল, এখন সেগুলোও আসছে না। আমরা অনেক বেশি হুয়াওয়ে ও জেডটিইর ওপর নির্ভরশীল। ফলে তারা ঠিকমতো কাজ না করলে নেটওয়ার্কে সংকট তো হবেই। আর প্রযুক্তি মার্কেটটা আমরা অনেকাংশেই চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের ওখানে কোনো সংকট হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়াটা একেবারেই স্বাভাবিক।’

জানা গেছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল করোনা ভাইরাসের উত্পত্তিস্থল চীনের উহান থেকে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ নিয়ে থাকে। কিন্তু অ্যাপলের আইফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান বা অ্যাসেম্বলার ফক্সকন ও পেগাত্রন মধ্য জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। আগামী মার্চ পর্যন্ত বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন থেকে স্মার্টফোনের সরবরাহ ৪০ লাখ কমবে। মিকি অ্যান্ড মিনি মাউসসহ চীনে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব থিম পার্ক রয়েছে, সেগুলোও এখন বিরান পড়ে আছে। থিম পার্ক বন্ধ রাখার কারণে তাদের পরিচালন আয় ২৮ কোটি মার্কিন ডলারের মতো কমতে পারে। চীনে থিম পার্কগুলো অন্তত দুই মাস বন্ধ রাখতে হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

তবে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। আগামী দুই তিন মাস এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও মোবাইল সেটের দাম বাড়বে না। বাংলাদেশে ৯টি হ্যান্ডসেট কারখানা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় বড়ো ব্র্যান্ড সিম্ফনি ছাড়াও স্যামসাংও ফ্যাক্টরি করেছে। এসব ফ্যাক্টরিতে দেশের চাহিদার অধিকাংশ সেটই উত্পাদন হচ্ছে। এখন সিম্ফনি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ২০২২ সাল থেকে রপ্তানি বাজারে যাচ্ছে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ। তিনি বলেন, শিগিগরই দেশে সিম্ফনি মোবাইলের আরো দুটি কারখানা উত্পাদনে যাচ্ছে। স্মার্টফোনের পুরোটাই নিজেদের ফ্যাক্টরিতে উত্পাদন করছে সিম্ফনি। ছয় মাসের মধ্যে সিম্ফনির ফিচার ফোনও আর আমদানি করতে হবে না। জাকারিয়া শহীদ বলেন, স্মার্টফোনের অধিকাংশই এখন দেশে উত্পাদন হচ্ছে। ফলে হ্যান্ডসেটে সংকট হবে না।

মোবাইল অপারেটর রবির করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান শাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘নেটওয়ার্কের বড়ো একটা অংশ তো আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল। তবে এখনো সংকট হয়নি। আমরা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকআপ দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক রেখেছি। তবে সংকট দীর্ঘ মেয়াদি হলে নেটওয়ার্কে প্রভাব পড়তে পারে।’

প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবসায়ী ও মোশান ভিউর স্বত্বাধিকারী ইমরুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চীন থেকে পণ্য আনা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথমে বড়দিন, এরপর নববর্ষ, তারপর শুরু হলো করোনা ভাইরাসের প্রভাব। তাই প্রায় দুই মাস বন্ধ রয়েছে পণ্য আসা। আমরা প্রতি সপ্তাহেই চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আনি। দ্রুত হলে কার্গোতে, আর সময় থাকলে জাহাজে পণ্য আসে। এখন জাহাজে আসা কিছু পণ্য খালাস হতে বাকি। সেগুলো এলে কিছুদিন চলবে। এরপর যে ক্রাইসিস শুরু হবে, সেটা হবে ভয়াবহ। বিশেষ করে আমার গোডাউনে থাকা মালামাল এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। এমন পরিস্থিতি ছোটোখাটো আরো অনেক ব্যবসায়ীর। এখন দোকানে থাকা পণ্যগুলো ভরসা।’

পিআরপি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শেখ আব্দুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখনো মার্কেটে বড়ো ধরনের ক্রাইসিস শুরু হয়েছে সেটা বলা যাবে না। কিছু পণ্য পাইপলাইনে আছে। সেগুলো শেষ হলে ক্রাইসিস শুরু হবে। এখনো দোকানগুলোতে যে মালামাল আছে তা দিয়ে হয়তো এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন চলবে। এর মধ্যে নতুন পণ্য না আনতে পারলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে।’ এখন কি এসব পণ্যের দাম বেড়েছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো খুব একটা বাড়েনি। তবে বেড়ে যেতে পারে। আসলে হাসপাতালের চিকিত্সা সরঞ্জামও আটকে গেছে। অনেক জরুরি যন্ত্রপাতি নিয়মিত চীন থেকে আনতে হয়। এখন সেগুলো আসছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে সামনের দিনে আমরা বড়ো একটা সংকটে যে পড়তে যাচ্ছি, সেটা তো বলাই যায়।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০
৩০ বার পঠিত হয়েছে

করোনার প্রভাব প্রযুক্তি পণ্যে

আপডেট এর সময় : ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রযুক্তি পণ্যেও। মোবাইল হ্যান্ডসেট ছাড়া সবকিছুতেই চরম সংকট শুরু হয়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্কে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রধানত চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে ও জেডটিইর ওপর নির্ভরশীল। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই চীনা প্রকৌশলীরা কাজে যাচ্ছেন না। ফলে অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই চালানো হচ্ছে নেটওয়ার্ক সংস্কারের কাজ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বাজারে বড়ো ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিত্সা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিও এখন আর আনা যাচ্ছে না।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিষয়টা এমন এখানে কারো কোনো হাত নেই। টেলিটকের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি আনতে এলসি খোলা হয়েছিল, এখন সেগুলোও আসছে না। আমরা অনেক বেশি হুয়াওয়ে ও জেডটিইর ওপর নির্ভরশীল। ফলে তারা ঠিকমতো কাজ না করলে নেটওয়ার্কে সংকট তো হবেই। আর প্রযুক্তি মার্কেটটা আমরা অনেকাংশেই চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের ওখানে কোনো সংকট হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়াটা একেবারেই স্বাভাবিক।’

জানা গেছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল করোনা ভাইরাসের উত্পত্তিস্থল চীনের উহান থেকে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ নিয়ে থাকে। কিন্তু অ্যাপলের আইফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান বা অ্যাসেম্বলার ফক্সকন ও পেগাত্রন মধ্য জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। আগামী মার্চ পর্যন্ত বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন থেকে স্মার্টফোনের সরবরাহ ৪০ লাখ কমবে। মিকি অ্যান্ড মিনি মাউসসহ চীনে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব থিম পার্ক রয়েছে, সেগুলোও এখন বিরান পড়ে আছে। থিম পার্ক বন্ধ রাখার কারণে তাদের পরিচালন আয় ২৮ কোটি মার্কিন ডলারের মতো কমতে পারে। চীনে থিম পার্কগুলো অন্তত দুই মাস বন্ধ রাখতে হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

তবে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। আগামী দুই তিন মাস এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও মোবাইল সেটের দাম বাড়বে না। বাংলাদেশে ৯টি হ্যান্ডসেট কারখানা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় বড়ো ব্র্যান্ড সিম্ফনি ছাড়াও স্যামসাংও ফ্যাক্টরি করেছে। এসব ফ্যাক্টরিতে দেশের চাহিদার অধিকাংশ সেটই উত্পাদন হচ্ছে। এখন সিম্ফনি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ২০২২ সাল থেকে রপ্তানি বাজারে যাচ্ছে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ। তিনি বলেন, শিগিগরই দেশে সিম্ফনি মোবাইলের আরো দুটি কারখানা উত্পাদনে যাচ্ছে। স্মার্টফোনের পুরোটাই নিজেদের ফ্যাক্টরিতে উত্পাদন করছে সিম্ফনি। ছয় মাসের মধ্যে সিম্ফনির ফিচার ফোনও আর আমদানি করতে হবে না। জাকারিয়া শহীদ বলেন, স্মার্টফোনের অধিকাংশই এখন দেশে উত্পাদন হচ্ছে। ফলে হ্যান্ডসেটে সংকট হবে না।

মোবাইল অপারেটর রবির করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান শাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘নেটওয়ার্কের বড়ো একটা অংশ তো আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল। তবে এখনো সংকট হয়নি। আমরা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকআপ দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক রেখেছি। তবে সংকট দীর্ঘ মেয়াদি হলে নেটওয়ার্কে প্রভাব পড়তে পারে।’

প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবসায়ী ও মোশান ভিউর স্বত্বাধিকারী ইমরুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চীন থেকে পণ্য আনা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথমে বড়দিন, এরপর নববর্ষ, তারপর শুরু হলো করোনা ভাইরাসের প্রভাব। তাই প্রায় দুই মাস বন্ধ রয়েছে পণ্য আসা। আমরা প্রতি সপ্তাহেই চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আনি। দ্রুত হলে কার্গোতে, আর সময় থাকলে জাহাজে পণ্য আসে। এখন জাহাজে আসা কিছু পণ্য খালাস হতে বাকি। সেগুলো এলে কিছুদিন চলবে। এরপর যে ক্রাইসিস শুরু হবে, সেটা হবে ভয়াবহ। বিশেষ করে আমার গোডাউনে থাকা মালামাল এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। এমন পরিস্থিতি ছোটোখাটো আরো অনেক ব্যবসায়ীর। এখন দোকানে থাকা পণ্যগুলো ভরসা।’

পিআরপি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শেখ আব্দুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখনো মার্কেটে বড়ো ধরনের ক্রাইসিস শুরু হয়েছে সেটা বলা যাবে না। কিছু পণ্য পাইপলাইনে আছে। সেগুলো শেষ হলে ক্রাইসিস শুরু হবে। এখনো দোকানগুলোতে যে মালামাল আছে তা দিয়ে হয়তো এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন চলবে। এর মধ্যে নতুন পণ্য না আনতে পারলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে।’ এখন কি এসব পণ্যের দাম বেড়েছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো খুব একটা বাড়েনি। তবে বেড়ে যেতে পারে। আসলে হাসপাতালের চিকিত্সা সরঞ্জামও আটকে গেছে। অনেক জরুরি যন্ত্রপাতি নিয়মিত চীন থেকে আনতে হয়। এখন সেগুলো আসছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে সামনের দিনে আমরা বড়ো একটা সংকটে যে পড়তে যাচ্ছি, সেটা তো বলাই যায়।’