ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল Logo ইবোলার কেন্দ্রস্থলে জীবিকার তাগিদে খনি শ্রমিকদের সংগ্রাম Logo বুলেট ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা প্রধানমন্ত্রীর Logo ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

আশুলিয়ায় মাদক ও অসামাজিক কাজে যুব মহিলা নেত্রী মনিকা হাসান

প্রতিনিধির নাম :

আলমাস হোসেন : মনিকা হাসান। তিনি আশুলিয়া যুব মহিলা লীগের নেত্রী। তিনি রাজনীতি করেন বলেই জানতো এলাকাবাসী। তাকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে তার ভিন্ন পেশা। অভিযোগ আছে, সাবেক এই মহিলা নেত্রী মাদক ও শারিরীক সম্পর্কে থানা এলাকায় ব্যাপক নাম রয়েছে তার। এ পেশায় শুধু তিনি নন, তার পরিবারের পুরো লোকজনই এ পেশায়। তাদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন মনিকা হাসান। সাম্প্রতি আশুলিয়ায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী মনিকা হাসানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কাজের অভিযোগ। এ নিয়ে আশুলিয়ার স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা ঝড়।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (হটলাইন নং-৪৩১ সূত্র-৪৪.০৪.০০০০.০০৬.২১.০০২.১৫.৪৫৯ তাং-২০/১২/২০১৫) অপারেশন ও গোয়েন্দা শাখার ডিআইজি (পিপিএম), এনডিসি তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ তৌফিক উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ০৪/২০১৭ নং অভিযোগপত্রে ১৫ দিনে মধ্যে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দির্নেশ প্রদান করেন।
উক্ত অভিযোগ পত্রে অভিযুক্তদের মধ্যে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার শামীমের স্ত্রী মনিকা হাসানকে ইয়াবার ডিলার হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এতে অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে মনিকার ভগ্নিপতি মধ্য গাজীরচটের ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (ইয়াবা/ফেনসিডিল ব্যবসায়ী), একই এলাকার মনিকার খালা ও প্রতিবেশী তারাজ উদ্দিনের স্ত্রী আয়শা বেগম (ইয়াবা ব্যবসায়ী), দক্ষিণ বাইপাইলের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী ও মনিকার খালাতো বোন নার্গিস (ইয়াবা ব্যবসায়ী), গাজীরচট এলাকার সারি উদ্দিনের ছেলে ও মনিকার মামাতো ভাই জাহিদ (ইয়াবা/ফেনসিডিল ব্যবসায়ী) এবং গাজীরচট মধ্যপাড়া এলাকার মনিকার খালু রনিকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
ওই অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, মনিকা হাসান নিজের বাসায় যুবক-যুবতিদের এনে ইয়াবা সেবনসহ অসামাজিক কাজ করায়। এছাড়াও বিত্তবানদের তার বাড়িতে এনে মাদক সেবনসহ অসামাজিক কাজ করানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
আরো জানা যায়, ২০১৪ সালের আশুলিয়া থানার মাদক মামলা নং-১৩(৯)১৪ এতে মনিকার খালা আয়শা এজারহারভুক্ত আসামী, আশুলিয়া থানার ৩৭(৮)১৭ নং মাদক মামলায় মনিকার আপন মামী নাজমুন নাহার, মামা কাজল ও তার দুলাভাই আফজাল এজারনামীয় আসামী।
আশুলিয়া থানার ৫৩(৭)১৭ নং মাদক মালায় যুবমহিলা লীগের নেত্রী মনিকার বড় মামা আমিন উদ্দিন ও তার বাবা আব্দুল মজিদ আসামী ছিলেন। একই থানার ৫৫(১১)১৭ নং মাদক মামলায় তার আপন খালু শহীদ ভুইয়া, একই সনের ২৬(৬)১৭ নং মাদক মামলায় তার খালাত বোন জামাই জসিম উদ্দিনসহ তার স্বজনদের মধ্যে একাধিক ব্যাক্তি আসামী ছিলেন। একই থানার ৮৯(৪)১৮ নং মাদক মামলায় মনিকার খালাত ভাই রাজু মিয়া, মামাতো ভাই জাহিদ এজাহারভুক্ত আসামী।
এছাড়াও ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. ১৫৩/১৯ নং মামলায় তার পরিবারের সকল সদস্যকে আসামী উল্লেখ করে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। মামলা ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে হুমকিসহ একাধিক কারনে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় বেশ কয়েকটি সাধারণ ডায়েরী করেন ভুক্তভোগীরা। আশুলিয়া থানা যুবমহিলা লীগের পরিচয়ে মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ওই নেত্রী।
সম্প্রতি ঢাকা জেলা যুবমহিলা লীগের নেত্রীগন তার এসব অপকর্মের দায়ে তাকে বাদ দিয়ে আশুলিয়া থানা যুবমহিলা লীগের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করেন। জেলার নেত্রীগন তাকে কমিটিতে না রাখায় স্থানীয় ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে অধিকাংশ নেতাকর্মীর বিরদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকিসহ অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
এলাকায় অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার দক্ষিন গাজীরচট (চারাল পাড়া) এলাকার সোহাগের ডিশ ব্যবসার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে থানা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক মনিকা হাসানের। ডিশ ব্যবসাটি দখলে নিতে তিনি তার প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানি করার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ৭-৮ বছর ধরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট (চারালপাড়া) এলাকার যুবলীগ নেতা সোহাগ গোল্ড স্যাটেলাইট ক্যাবল নেটওয়ার্কের অধীনে একটি ফিডার চালাচ্ছেন। ইদানীং আশুলিয়া থানা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক মনিকা হাসান ওই ফিডারটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোহাগের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে তাকে শ্লীলতাহানির একটি অভিযোগ করেন মনিকা। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ঢাকা জেলার অ্যাডিশনাল এসপি (অপরাধ) সাইদুর রহমানের ওপর।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা জেলা অ্যাডিশনাল এসপি (সাভার সার্কেল) তাহমিদুর রহমান তাহমিদ দক্ষিণ গাজীরচট (চারালপাড়া) এলাকায় আসেন। সেখানে সাধারণ মানুষের সাথে তিনি কথা বলে মনিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রমাণ পাননি।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা সোহাগ বলেন, মনিকার বাড়িতে সাত বছর যাবৎ ডিশের সংযোগ থাকলেও তিনি কোনোদিন ডিশ বিল দেননি। বিল চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। লাইন বিচ্ছিন্ন করলে মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হবে বলে হুমকি দেন। দল চালাতে ডিশ ব্যবসাটি তার দরকার বলে জানিয়ে দিয়ে ওই এলাকার অসংখ্য বাড়ির ডিশ সংযোগ কেটে দেন মনিকা। ব্যবসাটি ছেড়ে দেয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। এরই একপর্যায়ে মনিকা ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ সরদার বরাবরে তার অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও তাকে শ্লীলতাহানির সাজানো অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মনিকা হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোহাগ একাধিক মামলার আসামি। সে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। এক সময় আমরা একত্রে ডিশ ব্যবসাটি করতাম। বর্তমানে সোহাগ আমার লাইনগুলো কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি আশুলিয়া থানায় জিডি করেছি। দল চালাতে তার ডিশ ব্যবসাটি দরকার। উপায়ান্তর না পেয়ে অবশেষে পুলিশ সুপার বরাবরে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে ধামসোনা ইউপি সদস্য ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মনিকা হাসানের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকান্ড, মাদক কারবারসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সে দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে আশুলিয়ায় মাদক ও অসামাজিক কাজে যুব মহিলা নেত্রী মনিকা হাসান শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। যুবলীগ নেতা সোহাগ সুনামের সাথে ওই এলাকায় ডিশ ব্যবসা করছে। ওই ব্যবসাটি হাতিয়ে নিতে সোহাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০
১২ বার পঠিত হয়েছে

আশুলিয়ায় মাদক ও অসামাজিক কাজে যুব মহিলা নেত্রী মনিকা হাসান

আপডেট এর সময় : ০২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

আলমাস হোসেন : মনিকা হাসান। তিনি আশুলিয়া যুব মহিলা লীগের নেত্রী। তিনি রাজনীতি করেন বলেই জানতো এলাকাবাসী। তাকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে তার ভিন্ন পেশা। অভিযোগ আছে, সাবেক এই মহিলা নেত্রী মাদক ও শারিরীক সম্পর্কে থানা এলাকায় ব্যাপক নাম রয়েছে তার। এ পেশায় শুধু তিনি নন, তার পরিবারের পুরো লোকজনই এ পেশায়। তাদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন মনিকা হাসান। সাম্প্রতি আশুলিয়ায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী মনিকা হাসানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কাজের অভিযোগ। এ নিয়ে আশুলিয়ার স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা ঝড়।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (হটলাইন নং-৪৩১ সূত্র-৪৪.০৪.০০০০.০০৬.২১.০০২.১৫.৪৫৯ তাং-২০/১২/২০১৫) অপারেশন ও গোয়েন্দা শাখার ডিআইজি (পিপিএম), এনডিসি তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ তৌফিক উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ০৪/২০১৭ নং অভিযোগপত্রে ১৫ দিনে মধ্যে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দির্নেশ প্রদান করেন।
উক্ত অভিযোগ পত্রে অভিযুক্তদের মধ্যে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার শামীমের স্ত্রী মনিকা হাসানকে ইয়াবার ডিলার হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এতে অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে মনিকার ভগ্নিপতি মধ্য গাজীরচটের ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (ইয়াবা/ফেনসিডিল ব্যবসায়ী), একই এলাকার মনিকার খালা ও প্রতিবেশী তারাজ উদ্দিনের স্ত্রী আয়শা বেগম (ইয়াবা ব্যবসায়ী), দক্ষিণ বাইপাইলের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী ও মনিকার খালাতো বোন নার্গিস (ইয়াবা ব্যবসায়ী), গাজীরচট এলাকার সারি উদ্দিনের ছেলে ও মনিকার মামাতো ভাই জাহিদ (ইয়াবা/ফেনসিডিল ব্যবসায়ী) এবং গাজীরচট মধ্যপাড়া এলাকার মনিকার খালু রনিকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
ওই অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, মনিকা হাসান নিজের বাসায় যুবক-যুবতিদের এনে ইয়াবা সেবনসহ অসামাজিক কাজ করায়। এছাড়াও বিত্তবানদের তার বাড়িতে এনে মাদক সেবনসহ অসামাজিক কাজ করানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
আরো জানা যায়, ২০১৪ সালের আশুলিয়া থানার মাদক মামলা নং-১৩(৯)১৪ এতে মনিকার খালা আয়শা এজারহারভুক্ত আসামী, আশুলিয়া থানার ৩৭(৮)১৭ নং মাদক মামলায় মনিকার আপন মামী নাজমুন নাহার, মামা কাজল ও তার দুলাভাই আফজাল এজারনামীয় আসামী।
আশুলিয়া থানার ৫৩(৭)১৭ নং মাদক মালায় যুবমহিলা লীগের নেত্রী মনিকার বড় মামা আমিন উদ্দিন ও তার বাবা আব্দুল মজিদ আসামী ছিলেন। একই থানার ৫৫(১১)১৭ নং মাদক মামলায় তার আপন খালু শহীদ ভুইয়া, একই সনের ২৬(৬)১৭ নং মাদক মামলায় তার খালাত বোন জামাই জসিম উদ্দিনসহ তার স্বজনদের মধ্যে একাধিক ব্যাক্তি আসামী ছিলেন। একই থানার ৮৯(৪)১৮ নং মাদক মামলায় মনিকার খালাত ভাই রাজু মিয়া, মামাতো ভাই জাহিদ এজাহারভুক্ত আসামী।
এছাড়াও ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. ১৫৩/১৯ নং মামলায় তার পরিবারের সকল সদস্যকে আসামী উল্লেখ করে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। মামলা ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে হুমকিসহ একাধিক কারনে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় বেশ কয়েকটি সাধারণ ডায়েরী করেন ভুক্তভোগীরা। আশুলিয়া থানা যুবমহিলা লীগের পরিচয়ে মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ওই নেত্রী।
সম্প্রতি ঢাকা জেলা যুবমহিলা লীগের নেত্রীগন তার এসব অপকর্মের দায়ে তাকে বাদ দিয়ে আশুলিয়া থানা যুবমহিলা লীগের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করেন। জেলার নেত্রীগন তাকে কমিটিতে না রাখায় স্থানীয় ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে অধিকাংশ নেতাকর্মীর বিরদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকিসহ অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
এলাকায় অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার দক্ষিন গাজীরচট (চারাল পাড়া) এলাকার সোহাগের ডিশ ব্যবসার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে থানা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক মনিকা হাসানের। ডিশ ব্যবসাটি দখলে নিতে তিনি তার প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানি করার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ৭-৮ বছর ধরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট (চারালপাড়া) এলাকার যুবলীগ নেতা সোহাগ গোল্ড স্যাটেলাইট ক্যাবল নেটওয়ার্কের অধীনে একটি ফিডার চালাচ্ছেন। ইদানীং আশুলিয়া থানা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক মনিকা হাসান ওই ফিডারটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোহাগের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে তাকে শ্লীলতাহানির একটি অভিযোগ করেন মনিকা। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ঢাকা জেলার অ্যাডিশনাল এসপি (অপরাধ) সাইদুর রহমানের ওপর।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা জেলা অ্যাডিশনাল এসপি (সাভার সার্কেল) তাহমিদুর রহমান তাহমিদ দক্ষিণ গাজীরচট (চারালপাড়া) এলাকায় আসেন। সেখানে সাধারণ মানুষের সাথে তিনি কথা বলে মনিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রমাণ পাননি।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা সোহাগ বলেন, মনিকার বাড়িতে সাত বছর যাবৎ ডিশের সংযোগ থাকলেও তিনি কোনোদিন ডিশ বিল দেননি। বিল চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। লাইন বিচ্ছিন্ন করলে মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হবে বলে হুমকি দেন। দল চালাতে ডিশ ব্যবসাটি তার দরকার বলে জানিয়ে দিয়ে ওই এলাকার অসংখ্য বাড়ির ডিশ সংযোগ কেটে দেন মনিকা। ব্যবসাটি ছেড়ে দেয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। এরই একপর্যায়ে মনিকা ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ সরদার বরাবরে তার অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও তাকে শ্লীলতাহানির সাজানো অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মনিকা হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোহাগ একাধিক মামলার আসামি। সে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। এক সময় আমরা একত্রে ডিশ ব্যবসাটি করতাম। বর্তমানে সোহাগ আমার লাইনগুলো কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি আশুলিয়া থানায় জিডি করেছি। দল চালাতে তার ডিশ ব্যবসাটি দরকার। উপায়ান্তর না পেয়ে অবশেষে পুলিশ সুপার বরাবরে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে ধামসোনা ইউপি সদস্য ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মনিকা হাসানের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকান্ড, মাদক কারবারসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সে দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে আশুলিয়ায় মাদক ও অসামাজিক কাজে যুব মহিলা নেত্রী মনিকা হাসান শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। যুবলীগ নেতা সোহাগ সুনামের সাথে ওই এলাকায় ডিশ ব্যবসা করছে। ওই ব্যবসাটি হাতিয়ে নিতে সোহাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।