ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরির্দশনে আজ পশ্চিমবঙ্গ যাচ্ছেন মোদি

প্রতিনিধির নাম :

ওয়েব ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সবচে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে ভারতের পূর্ব উপকূলে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলজুড়ে এখন ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষতচিহ্ন। সেই ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার (২৮ মে) উড়িষ্যার বালেশ্বর এবং ভদ্রক পরিদর্শনের পর পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার কথা তার। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

নরেন্দ্র মোদির সচিবালয়ের (পিএমও) বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কলাইকুণ্ডায় তার নামার কথা। ইয়াস-এর দাপটে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, মমতার ওই বৈঠকে আপত্তি রয়েছে। আপত্তির মূল কারণ, ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাতে দিল্লি থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, এই রাজ্যের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রের বরার দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানায়, এই তালিকা জানার পরে মমতা বেঁকে বসেন। তার যুক্তি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা রাজ্যপাল বৈঠকে থাকবেন, তা না-হয় বোঝা গেল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন কেন?
এদিকে ইয়াস-এর জেরে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসছেন মোদি।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ যাবেন মোদি। শুক্রবার দিল্লি থেকে প্রথমে যাবেন ভুবনেশ্বর। সেখানে উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
সেখান থেকে কপ্টারে বালেশ্বর এবং ভদ্রক পরিদর্শন করার কথা তার। পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ঝড়ে বিধ্বস্ত স্থানগুলোও পরিদর্শনের কথা রয়েছে মোদির।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর পেয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করানো শুরু হয়েছে পুলিশের কর্মীদের।
এরই মধ্যে ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্যকে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভারত সরকার। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উড়িষ্যাকে ৬০০ কোটি করে দেওয়া হয়েছে।
ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলজুড়ে এক কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে পাঁচ জনের। দেড় শতাধিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানিবন্দি দিন কাটছে লাখ লাখ মানুষের। পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ১১শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ গৃহহীন রয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চলে গেলেও এখনও উত্তাল ওড়িশার সমুদ্র। লাখ লাখ মানুষ, যাদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের অধিকাংশই এখনও ফিরতে পারেননি, পানিবন্দীও অনেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওড়িশার বালাসোর, ভদ্রক, জগৎসিংহপুর ও কেন্দ্রাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১
১০ বার পঠিত হয়েছে

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরির্দশনে আজ পশ্চিমবঙ্গ যাচ্ছেন মোদি

আপডেট এর সময় : ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১

ওয়েব ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সবচে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে ভারতের পূর্ব উপকূলে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলজুড়ে এখন ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষতচিহ্ন। সেই ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার (২৮ মে) উড়িষ্যার বালেশ্বর এবং ভদ্রক পরিদর্শনের পর পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার কথা তার। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

নরেন্দ্র মোদির সচিবালয়ের (পিএমও) বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কলাইকুণ্ডায় তার নামার কথা। ইয়াস-এর দাপটে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, মমতার ওই বৈঠকে আপত্তি রয়েছে। আপত্তির মূল কারণ, ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাতে দিল্লি থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, এই রাজ্যের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রের বরার দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানায়, এই তালিকা জানার পরে মমতা বেঁকে বসেন। তার যুক্তি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা রাজ্যপাল বৈঠকে থাকবেন, তা না-হয় বোঝা গেল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন কেন?
এদিকে ইয়াস-এর জেরে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসছেন মোদি।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ যাবেন মোদি। শুক্রবার দিল্লি থেকে প্রথমে যাবেন ভুবনেশ্বর। সেখানে উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
সেখান থেকে কপ্টারে বালেশ্বর এবং ভদ্রক পরিদর্শন করার কথা তার। পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ঝড়ে বিধ্বস্ত স্থানগুলোও পরিদর্শনের কথা রয়েছে মোদির।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর পেয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করানো শুরু হয়েছে পুলিশের কর্মীদের।
এরই মধ্যে ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্যকে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভারত সরকার। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উড়িষ্যাকে ৬০০ কোটি করে দেওয়া হয়েছে।
ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলজুড়ে এক কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে পাঁচ জনের। দেড় শতাধিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানিবন্দি দিন কাটছে লাখ লাখ মানুষের। পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ১১শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ গৃহহীন রয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চলে গেলেও এখনও উত্তাল ওড়িশার সমুদ্র। লাখ লাখ মানুষ, যাদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের অধিকাংশই এখনও ফিরতে পারেননি, পানিবন্দীও অনেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওড়িশার বালাসোর, ভদ্রক, জগৎসিংহপুর ও কেন্দ্রাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।