1. rajubdnews@gmail.com : 24jibonnews : admin
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

বিএনপির ফাঁকা রাখা ৬৩ আসনে অগ্রাধিকার পাবেন যারা

প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫

জীবন নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ৬৩টি আসন আপাতত ফাঁকা রাখা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব আসনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন জোটভুক্ত শরিক দলের পরীক্ষিত নেতারা। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশে থাকা দলগুলো—বিশেষত ৫ আগস্টের পরও যেসব দল অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে—সেসব দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার জন্যই বেশ কিছু আসন খালি রাখা হয়েছে।

জোটগতভাবে আসন ভাগাভাগির সময় এসব আসনে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় বিএনপি, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জোটের অংশ হিসেবে আসন বণ্টনের পর অবশিষ্ট আসনগুলোতে দলের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিছু আসন এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে কারণ সেখানে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন—যার মধ্যে কাকে দিলে জয় নিশ্চিত হবে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আবার কিছু আসনে এখনই প্রার্থী ঘোষণা দিলে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে যুগান্তরকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ওই সময় তিনি জোটের প্রার্থীদের জন্য কিছু আসন ফাঁকা রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রায় ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দেওয়া হচ্ছে। যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তারা যেসব আসনে প্রার্থী দিতে চান, সেখানে আমরা প্রার্থী দেইনি। তারা কোন কোন আসনে প্রার্থী দেবেন তা জানালে পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, যিনি চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে পারেন। ওই আসনে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—সেখানে বিএনপিও কোনো প্রার্থী দেয়নি। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে, আর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন—উভয় আসনেই বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সমর্থন পেতে পারেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনিও জানিয়েছেন, “আমাকে অনেক আগেই বিএনপির উচ্চমহল থেকে মৌখিকভাবে কাজের সংকেত দেওয়া হয়েছে। আমি নির্বাচনি কার্যক্রম চালাচ্ছি এবং আশা করছি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির সমর্থন আমার ওপর থাকবে।” তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালেও তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে লড়বেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব, এবং এ আসনেও বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, আর ঢাকা-১৩ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন ববি হাজ্জাজ—এই দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে আমরা বিএনপির পাশে থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। এখনো আমরা বিএনপির সঙ্গে আছি। জোটসঙ্গী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সমর্থন পাব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।” তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন এবং এবার ঝালকাঠি-১ আসনে দলের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, যিনি ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই জনসংযোগ শুরু করেছেন। এ আসনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

এছাড়া জোটের আরও অনেক নেতার জন্যও কিছু আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে, যেখানে তাঁদের সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড
Theme Customized BY LatestNews