ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: তিতুমীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ Logo স্বাস্থসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার Logo পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর Logo সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস Logo চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন, উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ

বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:   বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ‘পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের’ মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালীরাই অনেক সময় এ প্রবণতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর  জানিয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনকে পেশিশক্তির শাসন পরাস্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ ছায়া থেকে বা হঠাৎ করে আসছে না। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। আর প্রায়ই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাই, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।’

মহাসচিব নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, চার বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

এছাড়া তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের’ কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা ওই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বর্তমান গতিপথ ‘স্পষ্ট, পরিষ্কার ও উদ্দেশ্যমূলক— দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রকাশ্যে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

এ সময় গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি ঘটতে দিতে পারে না।’
—ভোগান্তি ‘উপেক্ষিত’ হচ্ছে—

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাই নয়, বিশ্বজুড়েই অধিকার ক্ষয় হচ্ছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও গর্বের সঙ্গেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ব্যাপক মানবিক ভোগান্তিকে অজুহাতে ঢেকে ফেলা হয়। মানুষকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ বাধা হিসেবে দেখা হয়।
মানবাধিকার ভেঙে পড়লে, অন্য সব কিছুই ভেঙে পড়বে বলে তিনি এ সময় সতর্ক করেন।

গুতেরেস বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের সংকট প্রতিটি বৈশ্বিক ভাঙনকে প্রতিফলিত ও তীব্রতর করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক চাহিদা বাড়ছে, অথচ তহবিল কমছে এবং একই সময়ে বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। দেশগুলো ঋণ ও হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অধিকার দমন করছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন ধরনের বৈষম্যের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ, তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।’

এ প্রবণতা ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো কোনো ‘পছন্দমতো বেছে নেওয়ার মেনু’ নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘নেতারা পছন্দের অংশটা নেবেন আর বাকিটা উপেক্ষা করবেন— এটি চলতে পারে না।’

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৮ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট এর সময় : ০৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:   বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ‘পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের’ মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালীরাই অনেক সময় এ প্রবণতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর  জানিয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনকে পেশিশক্তির শাসন পরাস্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ ছায়া থেকে বা হঠাৎ করে আসছে না। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। আর প্রায়ই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাই, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।’

মহাসচিব নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, চার বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

এছাড়া তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের’ কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা ওই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বর্তমান গতিপথ ‘স্পষ্ট, পরিষ্কার ও উদ্দেশ্যমূলক— দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রকাশ্যে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

এ সময় গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি ঘটতে দিতে পারে না।’
—ভোগান্তি ‘উপেক্ষিত’ হচ্ছে—

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাই নয়, বিশ্বজুড়েই অধিকার ক্ষয় হচ্ছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও গর্বের সঙ্গেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ব্যাপক মানবিক ভোগান্তিকে অজুহাতে ঢেকে ফেলা হয়। মানুষকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ বাধা হিসেবে দেখা হয়।
মানবাধিকার ভেঙে পড়লে, অন্য সব কিছুই ভেঙে পড়বে বলে তিনি এ সময় সতর্ক করেন।

গুতেরেস বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের সংকট প্রতিটি বৈশ্বিক ভাঙনকে প্রতিফলিত ও তীব্রতর করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক চাহিদা বাড়ছে, অথচ তহবিল কমছে এবং একই সময়ে বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। দেশগুলো ঋণ ও হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অধিকার দমন করছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন ধরনের বৈষম্যের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ, তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।’

এ প্রবণতা ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো কোনো ‘পছন্দমতো বেছে নেওয়ার মেনু’ নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘নেতারা পছন্দের অংশটা নেবেন আর বাকিটা উপেক্ষা করবেন— এটি চলতে পারে না।’