
রাজধানী ডেমরা স্টাফ কোয়াটার বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং-বি-২২০৯) ডেমরা থানা কমিটির পক্ষ থেকে মহান মে দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়শুক্রবার(১ মে) সকাল ৯: টায় আলেপ খান ফাউন্ডেশন মার্কেট হইতে সারুলিয়া, রাণীমহল, মাদরাসা রোড, ব্যাংক কলোনি হয়ে তায়েব আলী রোড হয়ে আমতলা বড় ভাংঙ্গা, হাজীনগর, বামৈল, স্টাফ কোয়াটার গিয়ে শেষ হয়।
পরে বেলা ১১ টার সময় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়,আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন, ডেমরা থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনিসুজ্জামান (জামান) সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের ডেমরা থানার কমিটির সভাপতি মোঃ ইউনুস হাওলাদার। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাইয়ুম হাওলাদার।
বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের ডেমরা থানার কমিটির সভাপতি মোঃ ইউনুস হাওলাদার তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমরা নির্মাণ শ্রমিক অধিকার আদায় নিয়ে কাজ করেছি এবং আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ১২ দফা দাবি করি। আমরা বাংলাদেশের নির্মাণ কাজ করি। বহুতল ভবন, অফিস-আদালত, বাসস্থান, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ ইত্যাদি রং, গ্রীল, টাইলস, সেনেটারী, দরজা-জানালা, থাইসহ বিভিন্ন প্রকার নির্মাণ কাজ করে থাকি এবং এসব কাজের সাথে জড়িত। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কাগজে-কলমে আমরা ৩৫ লক্ষ পরিবার। সরকারি ভাবে আমরা কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাই না। তাই আমাদের নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি। নিম্নে পেশ করা হলো: (১) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালের শ্রমিক আইন অনুযায়ী কোনো শ্রমিক কর্মস্থলে আহত বা নিহত হলে, ২ লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য ছিলো। এখন কোনো শ্রমিক কর্মস্থলে আহত বা নিহত হলে, তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ। হিসাবে ১০-১৫ লক্ষ টাকা ধার্য করতে হবে। (২)বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে (৩) নদী ভাঙ্গা দূর্যোগে শ্রমিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে (৪)প্রত্যেক শ্রমিকদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে হবে। (৫)রেশন ব্যবস্থায় প্রতি শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।(৬)শতকরা ৩০% কাজের মজুরী বাড়াতে হবে। (৭) সরকারি শ্রমিকদের সাধারন ছুটি ১৬৫ দিন, প্রাইভেট কোম্পানির শ্রমিকের সাধারন ছুটি ১০৪ দিন। এখানে সরকারি ও বেসরকারি দুই শ্রমিকই বছরে ২টি বোনাস পায়। আমরা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কোনো সাধারন ছুটি পাইনা। তাই আমাদের বছরে ৫২ দিনের সাধারন ছুটির ব্যবস্থা করা হোক(৮)নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে প্রায় সময় আমাদের রড, সিমেন্ট, রং সহ রাসায়নিক পদার্থ যুক্ত পণ্য দিয়ে কাজ করে দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তখন আমরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনা। তাই আমাদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। (৯)প্রতি শ্রমিকের নির্মাণ কর্মস্থলে সেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। (১০) প্রবাসী নির্মাণ শ্রমিকদের বিদেশে যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বল্প পরিমান খরচ নির্ধারন করতে হবে।
(১১)প্রবাসী শ্রমিক যারা কর্মস্থলে নির্যাতিত হচ্ছে তাদের সহযোগিতা দিয়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে
হবে(১২) প্রতি খাতের শ্রমিকদের মতো, নির্মাণ শ্রমিকদের জন্যও বাজেট তৈরি করে শিল্প খাতে বাংলাদেশে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশেরে নাম যুক্ত করতে হবে। বর্তমান যোগ্য মূল্য বাজার হিসাবে সাধারণ একজন শ্রমিকের নূন্যতম ১০০০ (এক হাজার) টাকা এবং একজন লেবার পারিশ্রমিক হওয়া উচিত নূন্যতম ৮০০ (আটশত) টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের ডেমরা থানার কমিটির নেতা সদস্য শ্রমিকসহ প্রমুখ।