ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ : সিআইআই

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) বলেছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল এবং ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন সংগঠনটির ভারতের খ্যাতনামা শিল্প ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়টি অনেকখানি গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যান্ডন বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি কোনো অভ্যন্তরীণমুখী নীতি নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগও।

এই শিল্প ব্যক্তিত্ব জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে এশিয়ায় এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

বাজার সম্প্রসারণ, অ-শুল্ক বাধা কমানো এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নত করা গেলে বাণিজ্য আরও বাড়বে।
ট্যান্ডন আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক। এতে আঞ্চলিক সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মানদণ্ড এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।

খাতভিত্তিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা, মানদণ্ড রক্ষা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নকশার দক্ষতা আরও জরুরি হয়ে উঠবে।

তিনি চিকিৎসা, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ট্যান্ডন বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো, ফিনটেক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সিআইআই অঙ্গীকারবদ্ধ।

এ সময়ে সিআইআইয়ের সিনিয়র পরিচালক মনীশ মোহনও বক্তব্য দেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
১৬ বার পঠিত হয়েছে

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ : সিআইআই

আপডেট এর সময় : ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) বলেছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল এবং ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন সংগঠনটির ভারতের খ্যাতনামা শিল্প ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়টি অনেকখানি গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যান্ডন বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি কোনো অভ্যন্তরীণমুখী নীতি নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগও।

এই শিল্প ব্যক্তিত্ব জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে এশিয়ায় এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

বাজার সম্প্রসারণ, অ-শুল্ক বাধা কমানো এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নত করা গেলে বাণিজ্য আরও বাড়বে।
ট্যান্ডন আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক। এতে আঞ্চলিক সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মানদণ্ড এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।

খাতভিত্তিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা, মানদণ্ড রক্ষা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নকশার দক্ষতা আরও জরুরি হয়ে উঠবে।

তিনি চিকিৎসা, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ট্যান্ডন বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো, ফিনটেক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সিআইআই অঙ্গীকারবদ্ধ।

এ সময়ে সিআইআইয়ের সিনিয়র পরিচালক মনীশ মোহনও বক্তব্য দেন।