ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা Logo বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের রাতে লজ্জার রেকর্ড রোনালদোর Logo ময়মনসিংহ সদর ভূমি অফিসে রাজস্ব আদায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ Logo জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে Logo চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২ Logo সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী Logo কবরে নেমপ্লেট লাগানো— ইসলাম কী বলে Logo অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

আজ (বুধবার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে জমা দেওয়া লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। এসব অস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ইস্যু করা লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার এবং প্রয়োজনে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক ‘গায়েবি মামলা’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এসব মামলা যাচাই করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। পরে তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারায় নিষ্পত্তি করা হবে। জেলা প্রশাসকদের এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর তালিকা চেয়ে প্রকৃত আসামি শনাক্তে জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার না হন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে যাচাই যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। ঈদের আগে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করে সারাদেশের সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ করতে ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের ওঠানামায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করে চামড়া অন্তত সাত দিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত চাপের কারণে নষ্ট না হয়।

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
৭ বার পঠিত হয়েছে

মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

আজ (বুধবার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে জমা দেওয়া লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। এসব অস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ইস্যু করা লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার এবং প্রয়োজনে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক ‘গায়েবি মামলা’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এসব মামলা যাচাই করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। পরে তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারায় নিষ্পত্তি করা হবে। জেলা প্রশাসকদের এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর তালিকা চেয়ে প্রকৃত আসামি শনাক্তে জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার না হন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে যাচাই যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। ঈদের আগে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করে সারাদেশের সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ করতে ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের ওঠানামায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করে চামড়া অন্তত সাত দিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত চাপের কারণে নষ্ট না হয়।

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।