ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

পাকিস্তানের মতো বিএনপির বুক কেন কাঁপে: হাছান

প্রতিনিধির নাম :

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন হলে পাকিস্তানের  মতো বিএনপির বুক কেন কাঁপে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ।

ক্ষমতাসীন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলে, ‘ভারতের সঙ্গে এখন বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের সর্ম্পক এখন মধুর ও গভীর। বিএনপি নেতাদের চেচামেচি দেখে মনে হয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সর্ম্পক গভীর হলেই তাদের বুক কাঁপে।’

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন হাছান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কবি নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাতেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের নানা বক্তব্যের বিষয়ে হাছান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলবে কেন? আমার জিজ্ঞাসা আপনাদের বুকটা কাঁপে কেন? আপনাদের বুক কাঁপে কারণ এখনো পাকিস্তানি ভাবধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।’

বর্তমান সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমার মীমাংসা যেমন হয়েছে, তেমনি স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশ ১০ হাজার একর জমি বেশি পেয়েছে।

এর আগেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সই হয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তুমুল আলোচিত সীমান্ত হত্যার বিষয়টি নিয়েও উচ্চকিত বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এই হত্যা বহুলাংশে কমে এসেছে। বিজিবির তথ্যমতে চলতি বছর সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি হত্যা হয়নি।

তবে এখনও ভারত-বাংলাদশের সম্পর্কে প্রশ্ন হয়ে রয়েছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। ২০১১ সালে সই হতে যাওয়ার আগে আগে পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে স্থগিত হয়ে যাওয়া চুক্তি সইয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

তবে ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের চলতি মেয়াদেই এই চুক্তি করার অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু মমতা তার আগের অবস্থান থেকে এতটুকু সরেছেন, তার প্রমাণ মিলছে না।

তবে হাছান বলছেন, আওয়ামী লীগ ভারতের কাছ থেকে নানা সময় বহু কিছু আদায় করেছে। কিন্তু বিএনপি কিছুই করতে পারে না। তারা প্রকাশ্যে ভারতবিরোধিতা করলেও গোপনে ভারত তোষণ করে।

বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে ভুলে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেই আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থ অক্ষুণœ রাখে জানিয়ে হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সর্ম্পক ভালো হলে পাকিস্তানের যেমন বুক কাপে, তেমনি বিএনপিরও বুক কাঁপে।’

প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারত গেছেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন সমালোচনার জবাব দেন হাছান। বলেন, ‘ভারত এসে আমাদের ভোট দেয় না। আমাদের ভোট জনগণ দেয়। আমরা দেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

‘আমাদের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। বরং বিএনপিই জনগণের কাছে যায় না, তারা অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে।’

‘বিএনপি নেতাদের কাজ সকাল-বিকাল মিথ্যাচার করা। একজন নেতা সকাল ও বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করে। আর কিছু নেতারা বিভিন্ন কূটনৈতিকদের কাছে গিয়ে নালিশ করে।’

‘দুষ্টু লোকে বিএনপিকে-বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বলে। আমি আপনাদের বলবো, কূটনৈতিকদের কাছে নালিশ না করে জনগণের কাছে যান। অতীত কর্মকা-ের কারণে ক্ষমা চান। জনগণ চাইলে আপনাদের ক্ষমা করে দিতে পারে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন হাছান। বলেন, ‘বিএনপি ভোট থেকে পালানোর জন্যই এখন নানা রকম কথাবার্তা বলছে, পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।’

‘দয়া করে ভোট থেকে পালাবেন না, এবার সংসদ নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে আগামীতে দেশ থেকেও পালিয়ে যেতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, আবদুল মতিন ভুইয়া, মোবারক সিকদার, চিত্র নায়িকা অরুনা বিশ্বাস, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮
১৩ বার পঠিত হয়েছে

পাকিস্তানের মতো বিএনপির বুক কেন কাঁপে: হাছান

আপডেট এর সময় : ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন হলে পাকিস্তানের  মতো বিএনপির বুক কেন কাঁপে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ।

ক্ষমতাসীন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলে, ‘ভারতের সঙ্গে এখন বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের সর্ম্পক এখন মধুর ও গভীর। বিএনপি নেতাদের চেচামেচি দেখে মনে হয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সর্ম্পক গভীর হলেই তাদের বুক কাঁপে।’

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন হাছান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কবি নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাতেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের নানা বক্তব্যের বিষয়ে হাছান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলবে কেন? আমার জিজ্ঞাসা আপনাদের বুকটা কাঁপে কেন? আপনাদের বুক কাঁপে কারণ এখনো পাকিস্তানি ভাবধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।’

বর্তমান সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমার মীমাংসা যেমন হয়েছে, তেমনি স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশ ১০ হাজার একর জমি বেশি পেয়েছে।

এর আগেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সই হয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তুমুল আলোচিত সীমান্ত হত্যার বিষয়টি নিয়েও উচ্চকিত বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এই হত্যা বহুলাংশে কমে এসেছে। বিজিবির তথ্যমতে চলতি বছর সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি হত্যা হয়নি।

তবে এখনও ভারত-বাংলাদশের সম্পর্কে প্রশ্ন হয়ে রয়েছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। ২০১১ সালে সই হতে যাওয়ার আগে আগে পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে স্থগিত হয়ে যাওয়া চুক্তি সইয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

তবে ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের চলতি মেয়াদেই এই চুক্তি করার অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু মমতা তার আগের অবস্থান থেকে এতটুকু সরেছেন, তার প্রমাণ মিলছে না।

তবে হাছান বলছেন, আওয়ামী লীগ ভারতের কাছ থেকে নানা সময় বহু কিছু আদায় করেছে। কিন্তু বিএনপি কিছুই করতে পারে না। তারা প্রকাশ্যে ভারতবিরোধিতা করলেও গোপনে ভারত তোষণ করে।

বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে ভুলে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেই আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থ অক্ষুণœ রাখে জানিয়ে হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সর্ম্পক ভালো হলে পাকিস্তানের যেমন বুক কাপে, তেমনি বিএনপিরও বুক কাঁপে।’

প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারত গেছেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন সমালোচনার জবাব দেন হাছান। বলেন, ‘ভারত এসে আমাদের ভোট দেয় না। আমাদের ভোট জনগণ দেয়। আমরা দেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

‘আমাদের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। বরং বিএনপিই জনগণের কাছে যায় না, তারা অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে।’

‘বিএনপি নেতাদের কাজ সকাল-বিকাল মিথ্যাচার করা। একজন নেতা সকাল ও বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করে। আর কিছু নেতারা বিভিন্ন কূটনৈতিকদের কাছে গিয়ে নালিশ করে।’

‘দুষ্টু লোকে বিএনপিকে-বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বলে। আমি আপনাদের বলবো, কূটনৈতিকদের কাছে নালিশ না করে জনগণের কাছে যান। অতীত কর্মকা-ের কারণে ক্ষমা চান। জনগণ চাইলে আপনাদের ক্ষমা করে দিতে পারে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন হাছান। বলেন, ‘বিএনপি ভোট থেকে পালানোর জন্যই এখন নানা রকম কথাবার্তা বলছে, পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।’

‘দয়া করে ভোট থেকে পালাবেন না, এবার সংসদ নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে আগামীতে দেশ থেকেও পালিয়ে যেতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, আবদুল মতিন ভুইয়া, মোবারক সিকদার, চিত্র নায়িকা অরুনা বিশ্বাস, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি প্রমুখ।