ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজাদপুর মটরমালিক সমিতির বাস ধর্মঘটের ৪র্থ দিন লক্ষাধিক যাত্রীর যাতায়াতে দূর্ভোগ চরমে

প্রতিনিধির নাম :

 

মাসুদ মোশাররফ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ

সিরাজগঞ্জ-শাহজাদপুর-পাবনা রুটে গত ৪ দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সব চেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছে নারী ও শিশুরা। তাদের জন্য এ বাসস্ট্যান্ডে নেই কোন পানি পানের সুব্যবস্থা। এ ছাড়া পায়খানা ও প্র¯্রাবের ব্যবস্থা না থাকায় তারা নাকাল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এখানে যাত্রী ছাউনি না থাকায় তাদের খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে দিনভর বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর উপর ভ্যাপ্সা গরমে তাদের জীবন ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা হয়ে উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের বিসিক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের এমন অবস্থাই দেখা গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দিনভর বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে থেকেও তারা বাস পাচ্ছেন না। ফলে জরুরী প্রয়োজনেও তারা সঠিক সময়ে গন্তব্যে যেতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। দিনভর অপেক্ষা করে বাস না পেয়ে সন্ধ্যায় তারা বিষন্ন মনে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে অনেকেই এ দিন সময় মত অফিস আদালতে যেতে পারেননি। জরুরী কাজ থাকা সত্বেও অনেকে কাজে যেতে পারেননি। বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমান অনেকেই জানান,কাজে যাওয়ার জন্য তারা বাড়ি থেকে সকালে বের হয়েছেন। বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকে আবার বাস না পেয়ে এ দিন অফিসই যেতে পারেননি। ৫/১০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার লোকজন অটো ভ্যান-রিক্সা অথবা সিএনজি টেম্পু যোগে গন্তব্যে যেতে পারলেও আটকা পড়েন,ঢাকা, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের যাত্রীরা। আটকা পড়া যাত্রী লোকমান হোসেন জানান, ছেলে মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দ্যেশে সকালে বাড়ী থেকে বের হয়েছেন। বিসিক বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ মটর মালিক সমিতির দ্ব›েদ্ব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাসের অপেক্ষায় স্ত্রী ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে তিনি রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষ করে ৪ ঘন্টা ধরে খোলা আকাশের নীচে দাড়িয়ে আছেন। কিন্তু বাস না পাওয়ায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছেন না। তিনি আরো জানান, ঢাকার মিরপুর-১ এর একটি গার্মেন্টসে তিনি চাকুরী করেন। থাকেন গোলারটেক বস্তিতে। আজকের মধ্যেই তাকে ঢাকায় পৌছে চাকুরীতে যোগদান করতে হবে। সময় মতো যেতে না পারলে তার চাকুরী হারাতে হবে। তাই যে কোন উপায়ে তাকে আজকে ঢাকায় ফৌছাতে হবে। কিন্তু বাস না পেয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাসের অপেক্ষায় সকাল থেকে বসে আছেন। মর্জিনা খাতুন,আসিয়া খাতুন,আসমা সুলতানা ও লিলি খাতুন জানান, তাদের সিরাজগঞ্জে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকুরীর লিখিত পরীক্ষা আছে । তাই তারা সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে বিসিক বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। বাস না পেয়ে তারা এ চাকুরীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে ব্যর্থ হয়ে শূন্য হৃদয়ে বাড়ি ফিরছেন। আব্দুল আলীম নামের অপর একজন জানান, বগুড়া হাসপাতালে তার একজন রোগী ভর্তি আছে। সময় মতো তিনি সেখানে পৌছাতে না পারলে ওই রোগীর জটিল অপারেশন বন্ধ থাকবে। এতে ওই রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কায় তিনি বাসস্ট্যান্ডে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। মূহুর্তে সেখানে শত শত লোকের বীড় জমে যায়। সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার। অনেকে এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে বাস মালিক-শ্রমিকদের গালিগালাজ করতে থাকেন। আলমাস আলী ও রজব প্রাং জানান, তাদের নাটোরে বড়াইগ্রামে একটি জরুরী কাজ রয়েছে। সেখানে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে বসে আছেন বাসের অপেক্ষায়। এদের মতো শত শত যাত্রী বাসস্ট্যান্ডে আটকা পরে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গত ৪ দিন ধরে। দিনভর তারা বাস চালুর অপেক্ষায় বসে থেকে সন্ধ্যায় ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ৪দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় শাহজাদপুর,বেড়া,উল্লাপাড়া,সাঁথিয়া,ফরিদপুর,ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহরের যাত্রীরা এ দূর্ভোগের শিকার বেশি হচ্ছেন। ফলে এ এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। সেই সাথে শাহজাদপুর-ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত ভূক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বাসের চেইন নিয়ে সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির মধ্যে দ্ব›েদ্বর জের ধরে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে পাবনা-শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল প্রকার বাস-কোচ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা এ দূর্ভোগে পড়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, তাদের মতো এ রুটে চলাচলকারী প্রায় ২ লাখ যাত্রী গন্তব্যে যেতে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গত ৪ দিনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এ সমস্যার সমাধান করতে না পারায় এ দূর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে। এ দিকে এ সমস্যার সহসা সমাধান হচ্ছে না বলে একজন বাস মালিক জানিয়েছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ মটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ পাবনা,বগুড়া,নাটোর ও রাজশাহী মটর মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ে সিরাজগঞ্জে তাদের নিয়ে মিটিং করছেন। অপর দিকে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া মটর মালিক সমিতির নের্তৃবৃন্দ তাদের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে উল্লাপাড়ায় মিটিংয়ে বসেছেন। ফলে এ সমস্যার সমাধান না হয়ে আরো জটিল আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় সহজে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির সহ সভাপতি শাহজাদপুর ট্রাভেল্স এর মালিক অলি খান অরুণ বলেন বাস চলাচলের চেইন মেইন্টেইন করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জ , উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর মটর মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছে। এমতাবস্থায় পরিস্থতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজ উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের মালিক শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করি ২/১ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী এ বিষয়ে জানান, দুই সমিতির দ্ব›েদ্বর কারণে বাস শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ-পাবনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সাথে পাবনার সঙ্গে ঢাকা-বগুড়ার বাস চলাচলও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিকল্প রাস্তায় পাবনা-ঢাকার কিছু দূরপাল্লার বাস চলছে। সুষ্ঠ সমাধানের লক্ষে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য সিরাজগঞ্জ মটরমালিক সমিতি শাহজাদপুরকে স্টার্টিং পয়েন্ট করে তাদের সমিতিভুক্ত ৪টি বাস-কোচ রাজশাহী,বগুড়া ও দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ছাড়ার জন্য শাহজাদপুর মটরমালিক সমিতির কাছে আবেদন জানায়। কিন্তু তাদের এ সিদ্ধান্ত শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি মেনে না নিয়ে গত রবিবার সকালে সিরাজগঞ্জ মটর মালিক সমিতিভুক্ত জেরিন পরিবহণ নামের একটি কোচ শাহজাদপুর থেকে ফেরত পাঠায়। এর জের ধরে সোমবার সকালে শাহজাদপুর ট্রাভেল্সের একটি গাড়ি সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে আটকে ওই গাড়ির সুপারভাইজার সাহেব আলী ও হেলপার রাজুকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করে ঢাকা পাঠায়। পরদিন এ মারপিট ও হেনস্থার প্রতিবাদে শাহজাদপুর মটরমালিক সমিতি এ ধর্মঘটের আহŸান করে। #

 

 

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮
৮ বার পঠিত হয়েছে

শাহজাদপুর মটরমালিক সমিতির বাস ধর্মঘটের ৪র্থ দিন লক্ষাধিক যাত্রীর যাতায়াতে দূর্ভোগ চরমে

আপডেট এর সময় : ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮

 

মাসুদ মোশাররফ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ

সিরাজগঞ্জ-শাহজাদপুর-পাবনা রুটে গত ৪ দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সব চেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছে নারী ও শিশুরা। তাদের জন্য এ বাসস্ট্যান্ডে নেই কোন পানি পানের সুব্যবস্থা। এ ছাড়া পায়খানা ও প্র¯্রাবের ব্যবস্থা না থাকায় তারা নাকাল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এখানে যাত্রী ছাউনি না থাকায় তাদের খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে দিনভর বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর উপর ভ্যাপ্সা গরমে তাদের জীবন ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা হয়ে উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের বিসিক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের এমন অবস্থাই দেখা গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দিনভর বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে থেকেও তারা বাস পাচ্ছেন না। ফলে জরুরী প্রয়োজনেও তারা সঠিক সময়ে গন্তব্যে যেতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। দিনভর অপেক্ষা করে বাস না পেয়ে সন্ধ্যায় তারা বিষন্ন মনে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে অনেকেই এ দিন সময় মত অফিস আদালতে যেতে পারেননি। জরুরী কাজ থাকা সত্বেও অনেকে কাজে যেতে পারেননি। বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমান অনেকেই জানান,কাজে যাওয়ার জন্য তারা বাড়ি থেকে সকালে বের হয়েছেন। বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকে আবার বাস না পেয়ে এ দিন অফিসই যেতে পারেননি। ৫/১০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার লোকজন অটো ভ্যান-রিক্সা অথবা সিএনজি টেম্পু যোগে গন্তব্যে যেতে পারলেও আটকা পড়েন,ঢাকা, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের যাত্রীরা। আটকা পড়া যাত্রী লোকমান হোসেন জানান, ছেলে মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দ্যেশে সকালে বাড়ী থেকে বের হয়েছেন। বিসিক বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ মটর মালিক সমিতির দ্ব›েদ্ব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাসের অপেক্ষায় স্ত্রী ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে তিনি রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষ করে ৪ ঘন্টা ধরে খোলা আকাশের নীচে দাড়িয়ে আছেন। কিন্তু বাস না পাওয়ায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছেন না। তিনি আরো জানান, ঢাকার মিরপুর-১ এর একটি গার্মেন্টসে তিনি চাকুরী করেন। থাকেন গোলারটেক বস্তিতে। আজকের মধ্যেই তাকে ঢাকায় পৌছে চাকুরীতে যোগদান করতে হবে। সময় মতো যেতে না পারলে তার চাকুরী হারাতে হবে। তাই যে কোন উপায়ে তাকে আজকে ঢাকায় ফৌছাতে হবে। কিন্তু বাস না পেয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাসের অপেক্ষায় সকাল থেকে বসে আছেন। মর্জিনা খাতুন,আসিয়া খাতুন,আসমা সুলতানা ও লিলি খাতুন জানান, তাদের সিরাজগঞ্জে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকুরীর লিখিত পরীক্ষা আছে । তাই তারা সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে বিসিক বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন। বাস না পেয়ে তারা এ চাকুরীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে ব্যর্থ হয়ে শূন্য হৃদয়ে বাড়ি ফিরছেন। আব্দুল আলীম নামের অপর একজন জানান, বগুড়া হাসপাতালে তার একজন রোগী ভর্তি আছে। সময় মতো তিনি সেখানে পৌছাতে না পারলে ওই রোগীর জটিল অপারেশন বন্ধ থাকবে। এতে ওই রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কায় তিনি বাসস্ট্যান্ডে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। মূহুর্তে সেখানে শত শত লোকের বীড় জমে যায়। সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার। অনেকে এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে বাস মালিক-শ্রমিকদের গালিগালাজ করতে থাকেন। আলমাস আলী ও রজব প্রাং জানান, তাদের নাটোরে বড়াইগ্রামে একটি জরুরী কাজ রয়েছে। সেখানে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে বসে আছেন বাসের অপেক্ষায়। এদের মতো শত শত যাত্রী বাসস্ট্যান্ডে আটকা পরে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গত ৪ দিন ধরে। দিনভর তারা বাস চালুর অপেক্ষায় বসে থেকে সন্ধ্যায় ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ৪দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় শাহজাদপুর,বেড়া,উল্লাপাড়া,সাঁথিয়া,ফরিদপুর,ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহরের যাত্রীরা এ দূর্ভোগের শিকার বেশি হচ্ছেন। ফলে এ এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। সেই সাথে শাহজাদপুর-ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত ভূক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বাসের চেইন নিয়ে সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির মধ্যে দ্ব›েদ্বর জের ধরে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে পাবনা-শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল প্রকার বাস-কোচ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা এ দূর্ভোগে পড়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, তাদের মতো এ রুটে চলাচলকারী প্রায় ২ লাখ যাত্রী গন্তব্যে যেতে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গত ৪ দিনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এ সমস্যার সমাধান করতে না পারায় এ দূর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে। এ দিকে এ সমস্যার সহসা সমাধান হচ্ছে না বলে একজন বাস মালিক জানিয়েছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ মটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ পাবনা,বগুড়া,নাটোর ও রাজশাহী মটর মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ে সিরাজগঞ্জে তাদের নিয়ে মিটিং করছেন। অপর দিকে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া মটর মালিক সমিতির নের্তৃবৃন্দ তাদের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে উল্লাপাড়ায় মিটিংয়ে বসেছেন। ফলে এ সমস্যার সমাধান না হয়ে আরো জটিল আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় সহজে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির সহ সভাপতি শাহজাদপুর ট্রাভেল্স এর মালিক অলি খান অরুণ বলেন বাস চলাচলের চেইন মেইন্টেইন করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জ , উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর মটর মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছে। এমতাবস্থায় পরিস্থতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজ উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের মালিক শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করি ২/১ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী এ বিষয়ে জানান, দুই সমিতির দ্ব›েদ্বর কারণে বাস শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ-পাবনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সাথে পাবনার সঙ্গে ঢাকা-বগুড়ার বাস চলাচলও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিকল্প রাস্তায় পাবনা-ঢাকার কিছু দূরপাল্লার বাস চলছে। সুষ্ঠ সমাধানের লক্ষে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য সিরাজগঞ্জ মটরমালিক সমিতি শাহজাদপুরকে স্টার্টিং পয়েন্ট করে তাদের সমিতিভুক্ত ৪টি বাস-কোচ রাজশাহী,বগুড়া ও দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ছাড়ার জন্য শাহজাদপুর মটরমালিক সমিতির কাছে আবেদন জানায়। কিন্তু তাদের এ সিদ্ধান্ত শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি মেনে না নিয়ে গত রবিবার সকালে সিরাজগঞ্জ মটর মালিক সমিতিভুক্ত জেরিন পরিবহণ নামের একটি কোচ শাহজাদপুর থেকে ফেরত পাঠায়। এর জের ধরে সোমবার সকালে শাহজাদপুর ট্রাভেল্সের একটি গাড়ি সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে আটকে ওই গাড়ির সুপারভাইজার সাহেব আলী ও হেলপার রাজুকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করে ঢাকা পাঠায়। পরদিন এ মারপিট ও হেনস্থার প্রতিবাদে শাহজাদপুর মটরমালিক সমিতি এ ধর্মঘটের আহŸান করে। #