ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাগেরহাটে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু Logo ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু Logo বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ Logo হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর Logo গাজীপুরে শব্দদূষণ রোধে সাইলেন্ট র‌্যালি ও মতবিনিময় Logo বগুড়ায় সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারি ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার Logo ইরানের হামলার জবাবে ৫টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের Logo পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের পর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান Logo মার্কিন প্রভাব সুসংহত করতে লাতিন আমেরিকা সফর শুরু রুবিওর

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী “ঢেঁকি”

প্রতিনিধির নাম :

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন,বাঁশখালী:

ঢেঁকি আমাদের গ্রাম বাংলার প্রাচীন গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি সামগ্রী।গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও এর একটা বিশেষ গুরুত্ব ছিল।গ্রামীণ নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতল পিঠা,রুটি পিঠা,তালের পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরী করতেন।এসব তৈরী হতো ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুঁড়া দিয়ে।কালের বিবর্তনে এসব পিঠা তৈরীতে ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুঁড়া তেমন ব্যবহার হয়না বললেই চলে।এক সময় গ্রাম-গঞ্জ সহ সর্বত্র ধান ভাঙ্গা,চাল তৈরী,গুঁড়া কোটা,চিড়া তৈরী,মশলাপাতি ভাঙ্গানো সহ বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।ঢেঁকিতে চিড়া কোটা আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ জুড়েই আছে।ঢেঁকি ছাঁটা চালের কদর ছিল খুব বেশি।তাই ঢেঁকি ছাঁটা চালের চাহিদা আজও কমেনি। এক সময় গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে ঢেঁকি থাকাটা বনেদি সমৃদ্ধ গৃহস্থ পরিবারের পরিচয় বহন করত।এখন কালের পরিক্রমায় আমাদের ঐতিহ্যের ঢেঁকি বিলুপ্ত।গ্রাম বাংলার গৃহস্থ বাড়িতে শোনা যায় না ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ।ঢেঁকি একদা আমাদের কৃষিকাজে নির্ভর গ্রামীণ জনপদে খুব দরকারী সামগ্রী ছিল।বর্তমানে গ্রামে-গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি খুঁজে পাওয়া কঠিন।কালের বিবর্তনে বর্তমানে আমাদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য,সমাজ-সংস্কৃতির অংশ ঢেঁকির ব্যবহার হারিয়ে যাচ্ছে।আর এর ব্যবহার হারিয়ে গিয়ে ঢেঁকি এখন বিলুপ্ত। বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের প্রান্তিক চাষী আব্বাছ উদ্দিন বলেন,”আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে এখন ঢেঁকিশিল্প বিলুপ্ত।ব্যবহার না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।আমাদের ছেলেমেয়েরা ঢেঁকি চিনেনা।নতুন প্রজন্ম এই প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে তেমন জানেনা।তৎকালীন সময়ে আমরা জমি থেকে পাকা ধান কেটে এনে ঢেঁকিতে মাড়াই করতাম।এখন এই কাজটা মেশিনে সেরে নেই।মূলত ঢেঁকির ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণে এটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮
২০ বার পঠিত হয়েছে

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী “ঢেঁকি”

আপডেট এর সময় : ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন,বাঁশখালী:

ঢেঁকি আমাদের গ্রাম বাংলার প্রাচীন গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি সামগ্রী।গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও এর একটা বিশেষ গুরুত্ব ছিল।গ্রামীণ নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতল পিঠা,রুটি পিঠা,তালের পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরী করতেন।এসব তৈরী হতো ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুঁড়া দিয়ে।কালের বিবর্তনে এসব পিঠা তৈরীতে ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুঁড়া তেমন ব্যবহার হয়না বললেই চলে।এক সময় গ্রাম-গঞ্জ সহ সর্বত্র ধান ভাঙ্গা,চাল তৈরী,গুঁড়া কোটা,চিড়া তৈরী,মশলাপাতি ভাঙ্গানো সহ বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।ঢেঁকিতে চিড়া কোটা আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ জুড়েই আছে।ঢেঁকি ছাঁটা চালের কদর ছিল খুব বেশি।তাই ঢেঁকি ছাঁটা চালের চাহিদা আজও কমেনি। এক সময় গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে ঢেঁকি থাকাটা বনেদি সমৃদ্ধ গৃহস্থ পরিবারের পরিচয় বহন করত।এখন কালের পরিক্রমায় আমাদের ঐতিহ্যের ঢেঁকি বিলুপ্ত।গ্রাম বাংলার গৃহস্থ বাড়িতে শোনা যায় না ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ।ঢেঁকি একদা আমাদের কৃষিকাজে নির্ভর গ্রামীণ জনপদে খুব দরকারী সামগ্রী ছিল।বর্তমানে গ্রামে-গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি খুঁজে পাওয়া কঠিন।কালের বিবর্তনে বর্তমানে আমাদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য,সমাজ-সংস্কৃতির অংশ ঢেঁকির ব্যবহার হারিয়ে যাচ্ছে।আর এর ব্যবহার হারিয়ে গিয়ে ঢেঁকি এখন বিলুপ্ত। বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের প্রান্তিক চাষী আব্বাছ উদ্দিন বলেন,”আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে এখন ঢেঁকিশিল্প বিলুপ্ত।ব্যবহার না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।আমাদের ছেলেমেয়েরা ঢেঁকি চিনেনা।নতুন প্রজন্ম এই প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে তেমন জানেনা।তৎকালীন সময়ে আমরা জমি থেকে পাকা ধান কেটে এনে ঢেঁকিতে মাড়াই করতাম।এখন এই কাজটা মেশিনে সেরে নেই।মূলত ঢেঁকির ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণে এটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।