ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:

পুলিশের কাছ থেকে লাশ চুরি ঠেকাতে কবর পাহারায় গ্রামবাসী

প্রতিনিধির নাম :

পুলিশের গুলিতে নিহত দুই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর লাশের চুরি ঠেকাতে কবর পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে।সেখানে দাড়িভিট বিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে গুলিতে মৃত্যু হয় দুই কলেজ ছাত্র রাজেশ ও তাপস বর্মণের।

রীতি অনুযায়ী লাশ দাহ করার নিয়ম থাকলেও নিহতদের পরিবার তাদের লাশ কবর দিয়েছেন। কারণ একটাই নিহতদের পরিবার চায় সিবিআই তদন্ত। সেই তদন্তের স্বার্থেই তাদের লাশ না পুড়িয়ে কবর দেয়া হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দাড়িভিট হাইস্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষককে স্কুলে দেখেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। পুলিশ বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে গুলি ছোড়ে। এতে ওই দুই ছাত্র নিহত হয়। তবে পুলিশের দাবি তারা বহিরাগতদের গুলিতে নিহত হয়েছে।

এতেই পুলিশি তদন্তে আস্থা হারিয়েছে মৃত দুই ছাত্রের পরিবার এবং গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুলিশ হেনস্থা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নিহত রাজেশের কাকা সুভাষ সরকার বলেন, রাজ্য সরকারের উপরে আমাদের আর ভরসা নেই। আমরা সিবিআই তদন্ত চাই। তাই ভাইপোর দেহ না পুড়িয়ে সমাহিত করেছি। যাতে প্রয়োজনে ফের ময়নাতদন্ত করা যায়।

স্থানীয় নদীর পাড়েই লাশ দুটি কবর দেয়া হয়েছে। সেখানেই এখন কবর পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। তাদের আশঙ্কা, সুযোগ পেলেই লাশ তুলে নিয়ে যাবে পুলিশ। তদন্তের মোড় অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
১৯ বার পঠিত হয়েছে

পুলিশের কাছ থেকে লাশ চুরি ঠেকাতে কবর পাহারায় গ্রামবাসী

আপডেট এর সময় : ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পুলিশের গুলিতে নিহত দুই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর লাশের চুরি ঠেকাতে কবর পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে।সেখানে দাড়িভিট বিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে গুলিতে মৃত্যু হয় দুই কলেজ ছাত্র রাজেশ ও তাপস বর্মণের।

রীতি অনুযায়ী লাশ দাহ করার নিয়ম থাকলেও নিহতদের পরিবার তাদের লাশ কবর দিয়েছেন। কারণ একটাই নিহতদের পরিবার চায় সিবিআই তদন্ত। সেই তদন্তের স্বার্থেই তাদের লাশ না পুড়িয়ে কবর দেয়া হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দাড়িভিট হাইস্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষককে স্কুলে দেখেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। পুলিশ বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে গুলি ছোড়ে। এতে ওই দুই ছাত্র নিহত হয়। তবে পুলিশের দাবি তারা বহিরাগতদের গুলিতে নিহত হয়েছে।

এতেই পুলিশি তদন্তে আস্থা হারিয়েছে মৃত দুই ছাত্রের পরিবার এবং গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুলিশ হেনস্থা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নিহত রাজেশের কাকা সুভাষ সরকার বলেন, রাজ্য সরকারের উপরে আমাদের আর ভরসা নেই। আমরা সিবিআই তদন্ত চাই। তাই ভাইপোর দেহ না পুড়িয়ে সমাহিত করেছি। যাতে প্রয়োজনে ফের ময়নাতদন্ত করা যায়।

স্থানীয় নদীর পাড়েই লাশ দুটি কবর দেয়া হয়েছে। সেখানেই এখন কবর পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। তাদের আশঙ্কা, সুযোগ পেলেই লাশ তুলে নিয়ে যাবে পুলিশ। তদন্তের মোড় অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হবে।