
ক্রিকেটের সঙ্গে কিছু বিষয় ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে গেছে। মাঠে ক্রিকেটারদের আচরণ, বল টেম্পারিং করে অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করে নেওয়া। কিংবা ম্যাচে ভালো অবস্থানে থেকেও বৃষ্টি আইনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে হেরে যাওয়া। আর তাই ক্রিকেটের এই জায়গাগুলোতে নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি। নতুন এই নিয়ম চালুও হয়ে গেছে।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে নির্ধারিত ওভারের পরে বৃষ্টি বাগড়া দিলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শুরু করতে না পারলে শেষমেশ ম্যাচ অফিসিয়ালরা ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতির সহায়তা নেন। যেটা বৃষ্টি আইন নামে পরিচিত। ক্রিকেটের এই আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া বল টেম্পারিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন শাস্তির বিধান চালু করেছে আইসিসি।
দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ দিয়ে গত রোববার কার্যকর করা হয়েছে নতুন এই নিয়ম। এতদিন ডার্কওয়ার্থ পদ্ধতিতে ম্যাচ নিষ্পত্তি করার হতো বল বাই বল বিশ্নেষেণ করে। সঙ্গে পাওয়ার প্লের-হিসেবে রাখা হতো। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী শেষ ২০ ওভারের রানরেটকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেটা কেবল ওয়ানেডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে বলা হয়েছে।
ফলে এখন থেকে ইনিংসের শেষ দিকে যে দল রান বেশি জমা করতে পারবে তারাই বাড়তি সুবিধা পাবে। নারী-পুরুষ উভয় ক্রিকেটে এই নিয়ম বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এদিকে বল টেম্পারিংয়ে আরও কঠোর হয়েছে আইসিসি। আগে বল টেম্পারিং করলে লেভেল ‘টু’ অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। এখন থেকে এই অপরাধকে লেভেল ‘থ্রি’তে নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বল টেম্পারিং প্রমাণিত হলে ১২টি ডিমেরিট পয়েন্ট পাবেন একজন।
টেম্পারিং অপরাধের শাস্তি হিসিবে টেস্টে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকতে হবে। আর ওয়ানডেতে টেম্পারিং করলে ১২ ওয়ানডে ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এছাড়া ক্রিকেটের কোড অব কন্ডাক্টে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে লেভেল ‘থ্রি’ অপরাধের জন্য আট থেকে সাসপেনশন পয়েন্ট বাড়িয়ে ১২ করা হয়েছে। আর লেভেল ১, ২ ও ৩ এর শাস্তি ম্যাচ রেফারি হাতে রাখা হয়েছে। কেউ লেভেল ‘ফোর’ অপরাধের কাতারে পড়লে জুডিশিয়াল কমিশনে শুনানী হবে তার।