
রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়াম হয়তো স্পেনের খেলোয়াড়দের কাছে ‘ভুতের বাড়ির’ মতো। ভালো খেলে কিন্তু জিততে পারে না। বিশ্বকাপে রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়াম কারভাহাল, ন্যাচো, অ্যাসেনসিওদের হতাশ করেছে। রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের কথা মনে আছে? স্পেন রেকর্ড সংখ্যক পাস করেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। বরং ট্রাইব্রেকারে হার হয় সঙ্গী। এবার আবর চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে গিয়ে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হার সঙ্গী হয়েছে তাদের। রুশ ক্লাব সিএসকে মস্কোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হন বর্তমান রিয়াল কোচ হুলেন লোপেতেগুই। অনেকের হা-হুতাশ ছিল লোপেতেগুই স্পেনের কোচ থাকলে বিশ্বকাপে স্পেনের দুর্দশা হতো না। কিন্তু রুশ ফুটবল প্রমাণ করে দিয়েছে লোপেতেগুইয়ের কৌশল ধরে ফেলেছে তারা। বিশ্বকাপে কোচ না থাকলেও স্পেন তার ধাঁচেই খেলেছে। রিয়ালও তার ধরণেই খেলছে। তাতে খুব সুবিধা করতে পারছে না লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচে রিয়াল যখন গোল খেয়েছে সেটাও একটা রেকর্ড। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের তখন মাত্র ৬৫ সেকেন্ড। খেলা দেখতে আসা দর্শকরাও ঠিক মতো জায়গা নিয়ে বসতেও পারেননি। এর মধ্যে গোল দিয়ে দিল মস্কো। রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগে গেল ১০ বছরে এতো দ্রুত আর গোল হজম করেনি। এর আগে ২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের আসরে শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোল খেয়েছিল রিয়াল।
এ হারে অবশ্য রোনালদোবিহীন রিয়ালের দুর্বলতা বেশ ধরা পড়েছে। দারুণ এক মৌসুম শুরু করেন রিয়াল কোচ লোপেতেগুই। কিন্তু শেষ তিন ম্যাচে জয় পায়নি তার দল। লিগে সেভিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় হার। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে গোল শূন্য সমতা। এরপর মস্কোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগেও জয় খরা কাটাতে পারেনি রিয়াল। মাঠ ছেড়েছে হেরে।
রিয়ালের হয়ে অবশ্য এ ম্যাচে মাঠে নামেননি চোটে থাকা গ্যারেথ বেল। ছিলেন না রামোস, ইসকো এবং মার্সেলো। তারপরও অবশ্য খারাপ দল বলা চলে না রিয়ালের। বেনজেমা, অ্যাসেনসিও, লুকা মডরিচ, টনি ক্রুস, মারিয়ানো ডিয়াজরা তো ছিলেন রিয়াল একাদশে। গোলের মুখে অবশ্য রিয়াল বেশ কিছু আক্রমণও করেছে। ডিয়াজ মাঠে নেমে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন। কিন্তু রোনালেদো গোলের মুখে যতটা ভয়ঙ্কর রিয়ালের নতুন নাম্বার সেভেন তো আর ততটা না। ম্যাচ শেষে সেটাই প্রমাণ পেয়েছে।