ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: তিতুমীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ Logo স্বাস্থসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার Logo পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর Logo সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস Logo চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন, উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ

তুষার-রাজ্জাকে প্রেরণা মেলে মিঠুনের

প্রতিনিধির নাম :
বাংলাদেশ টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন মিঠুন। অনেক দিনের একটা স্বপ্ন পূরণ হলো তাঁর। যদিও আলাদা কোনো রোমাঞ্চ কাজ করছে না তাঁর।

বাংলাদেশ দলের আজ ছুটি। অনুশীলন যখন নেই, একটু ঘুরে আসা যাক—এ ভাবনায় সকালেই নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ও দলের লজিস্টিক ম্যানেজার দেবব্রত পালকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন কোচ স্টিভ রোডস। দুপুরে টিম হোটেলের লবিতে দেখা গেল নাজমুল ইসলাম ও শফিউল ইসলামকে। খানিক পরে সেখানে এলেন আবু জায়েদ ও মোহাম্মদ মিঠুন।

নাজমুল-শফিউল কোথায় যেন বেরিয়ে পড়লেন। মিঠুন-আবু জায়েদ এলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। বাংলাদেশ টেস্ট দলে এবার প্রথমবারের মতো যে চারজন সুযোগ পেয়েছেন, মিঠুন তাঁর একজন। অথচ তাঁকে দেখলে মনে হয় না নতুন মুখ। মনে হবেই বা কেন! যাওয়া-আসা না করলে এত দিনে বাংলাদেশ দলে টানা চার বছর খেলা হয়ে যেত। এই এশিয়া কাপ থেকে মিঠুনের ভাগ্যটা বদলেছে। ভালো খেলছেন, টানা সুযোগ পাচ্ছেন একাদশে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাঁর কাছে নতুন কিছু না হলেও, টেস্ট খেলবেন এই স্বপ্ন বুকে লালন করছেন বহুদিন। সেই স্বপ্ন পূরণটা এভাবে হয়ে যাবে মিঠুন নিজেও ভাবতে পারেননি, `স্বপ্ন ছিল টেস্ট ম্যাচ খেলব। এভাবে সুযোগটা আসবে আমিও আশা করিনি। পত্রিকা খুব একটা পড়া হয় না। একজন সাংবাদিকই আমাকে ফোন করে খবরটা দেন যে টেস্ট স্কোয়াডে আছি। খুব ভালো লাগছে যখন শুনলাম যে টেস্ট দলে আছি। আমার মনে হয় যে যখন টেস্ট খেলতে পারব তখনই খেলোয়াড় হিসেবে আমার পূর্ণতা আসবে। টেস্ট ক্রিকেটে যখন সফল হব তখনই মনে হবে ক্রিকেটের জন্য যথার্থ। আমার স্বপ্ন ছিল, যদি সুযোগ পাই, চেষ্টা করব এটি কাজে লাগানোর।’

একটা স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে, অথচ মিঠুনের কোনো রোমাঞ্চই অনুভব করছেন না! কেন করছেন না, বাংলাদেশ দলের এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সেটির ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, `না আসলে আমার জীবনে কখনো এমন হয়নি। হয়তো এটাই আমার স্বভাব। বাদ পড়লেও ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করি। সুযোগ পেলে সেটাও স্বাভাবিক ভাবে নেই।’

মিঠুন এমনই, আলাদা উত্তেজনা কিংবা রোমাঞ্চ খুব একটা স্পর্শ করে না। তাঁর অভিব্যক্তি, চলাফেরা সবকিছুতেই আশ্চর্য শীতলতা। তবে দিন শেষে রক্তমাংসের মানুষ তো! তিনিও আবেগতাড়িত হন, অপ্রত্যাশিত চাপ তাঁকেও জেঁকে ধরে। তবে মিঠুন ঠিক করেছেন, অহেতুক চাপ নেবেন না, ‘যদি চাপ নেই সেটা আমার কোনো উপকারে আসবে না, ক্ষতিই হবে! চাপ কিছুটা থাকে। চেষ্টা করি যতটা সেটা সামলানো যায়। ব্যাটিংয়ে যখন তখন মাঠে প্রতিপক্ষ দলের ১১জন থাকে, আমার একজন সঙ্গী থাকে। চাপ থাকবেই, সেখান থেকে সফল হওয়াই একজন ব্যাটসম্যানের কাজ।’

টেস্টে নতুন হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে মিঠুন পুরোনো মুখ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন খুলনা কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে। এই দলেই খেলেন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুই সফল ক্রিকেটার তুষার ইমরান ও আবদুর রাজ্জাক। দুই এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছে থেকে অনেক কিছু শিখেছেন মিঠুন। সেটিই তিনি কাজে লাগাতে চান টেস্টে, ‘তাঁদের কাছ থেকে কটা জিনিস শিখেছি। দুজনেই আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক সফল। একজন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, আরেকজন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। প্রতি ম্যাচেই তাদের ভালো করার তাগিদ থাকে। তুষার ভাই যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, যত কঠিন পরিস্থিতি থাকুক তিনি কোনো না কোনোভাবে মানিয়ে নেন। রাজ ভাইও একই।’

মোটকথা মাঠে তুষার, রাজ্জাকের শতভাগ দেওয়ার বিষয়টাই মিঠুর অনুসরণ করেন, ‘যেদিন সাহায্য পান না (উইকেট থেকে) সেদিনও অনেক চেষ্টা করেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে শতভাগ চেষ্টা করার বিষয়টা হাতে আছে। তবে সব সময় যে সফল হতে পারব সেটা হাতে নাই। একটা ভালো বলে আউট হয়ে যেতে পারি। তুষার ও রাজ ভাইদের মধ্যে যে চেষ্টা দেখেছি, ওটা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করে।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৮
৬ বার পঠিত হয়েছে

তুষার-রাজ্জাকে প্রেরণা মেলে মিঠুনের

আপডেট এর সময় : ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৮
বাংলাদেশ টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন মিঠুন। অনেক দিনের একটা স্বপ্ন পূরণ হলো তাঁর। যদিও আলাদা কোনো রোমাঞ্চ কাজ করছে না তাঁর।

বাংলাদেশ দলের আজ ছুটি। অনুশীলন যখন নেই, একটু ঘুরে আসা যাক—এ ভাবনায় সকালেই নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ও দলের লজিস্টিক ম্যানেজার দেবব্রত পালকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন কোচ স্টিভ রোডস। দুপুরে টিম হোটেলের লবিতে দেখা গেল নাজমুল ইসলাম ও শফিউল ইসলামকে। খানিক পরে সেখানে এলেন আবু জায়েদ ও মোহাম্মদ মিঠুন।

নাজমুল-শফিউল কোথায় যেন বেরিয়ে পড়লেন। মিঠুন-আবু জায়েদ এলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। বাংলাদেশ টেস্ট দলে এবার প্রথমবারের মতো যে চারজন সুযোগ পেয়েছেন, মিঠুন তাঁর একজন। অথচ তাঁকে দেখলে মনে হয় না নতুন মুখ। মনে হবেই বা কেন! যাওয়া-আসা না করলে এত দিনে বাংলাদেশ দলে টানা চার বছর খেলা হয়ে যেত। এই এশিয়া কাপ থেকে মিঠুনের ভাগ্যটা বদলেছে। ভালো খেলছেন, টানা সুযোগ পাচ্ছেন একাদশে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাঁর কাছে নতুন কিছু না হলেও, টেস্ট খেলবেন এই স্বপ্ন বুকে লালন করছেন বহুদিন। সেই স্বপ্ন পূরণটা এভাবে হয়ে যাবে মিঠুন নিজেও ভাবতে পারেননি, `স্বপ্ন ছিল টেস্ট ম্যাচ খেলব। এভাবে সুযোগটা আসবে আমিও আশা করিনি। পত্রিকা খুব একটা পড়া হয় না। একজন সাংবাদিকই আমাকে ফোন করে খবরটা দেন যে টেস্ট স্কোয়াডে আছি। খুব ভালো লাগছে যখন শুনলাম যে টেস্ট দলে আছি। আমার মনে হয় যে যখন টেস্ট খেলতে পারব তখনই খেলোয়াড় হিসেবে আমার পূর্ণতা আসবে। টেস্ট ক্রিকেটে যখন সফল হব তখনই মনে হবে ক্রিকেটের জন্য যথার্থ। আমার স্বপ্ন ছিল, যদি সুযোগ পাই, চেষ্টা করব এটি কাজে লাগানোর।’

একটা স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে, অথচ মিঠুনের কোনো রোমাঞ্চই অনুভব করছেন না! কেন করছেন না, বাংলাদেশ দলের এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সেটির ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, `না আসলে আমার জীবনে কখনো এমন হয়নি। হয়তো এটাই আমার স্বভাব। বাদ পড়লেও ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করি। সুযোগ পেলে সেটাও স্বাভাবিক ভাবে নেই।’

মিঠুন এমনই, আলাদা উত্তেজনা কিংবা রোমাঞ্চ খুব একটা স্পর্শ করে না। তাঁর অভিব্যক্তি, চলাফেরা সবকিছুতেই আশ্চর্য শীতলতা। তবে দিন শেষে রক্তমাংসের মানুষ তো! তিনিও আবেগতাড়িত হন, অপ্রত্যাশিত চাপ তাঁকেও জেঁকে ধরে। তবে মিঠুন ঠিক করেছেন, অহেতুক চাপ নেবেন না, ‘যদি চাপ নেই সেটা আমার কোনো উপকারে আসবে না, ক্ষতিই হবে! চাপ কিছুটা থাকে। চেষ্টা করি যতটা সেটা সামলানো যায়। ব্যাটিংয়ে যখন তখন মাঠে প্রতিপক্ষ দলের ১১জন থাকে, আমার একজন সঙ্গী থাকে। চাপ থাকবেই, সেখান থেকে সফল হওয়াই একজন ব্যাটসম্যানের কাজ।’

টেস্টে নতুন হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে মিঠুন পুরোনো মুখ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন খুলনা কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে। এই দলেই খেলেন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুই সফল ক্রিকেটার তুষার ইমরান ও আবদুর রাজ্জাক। দুই এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছে থেকে অনেক কিছু শিখেছেন মিঠুন। সেটিই তিনি কাজে লাগাতে চান টেস্টে, ‘তাঁদের কাছ থেকে কটা জিনিস শিখেছি। দুজনেই আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক সফল। একজন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, আরেকজন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। প্রতি ম্যাচেই তাদের ভালো করার তাগিদ থাকে। তুষার ভাই যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, যত কঠিন পরিস্থিতি থাকুক তিনি কোনো না কোনোভাবে মানিয়ে নেন। রাজ ভাইও একই।’

মোটকথা মাঠে তুষার, রাজ্জাকের শতভাগ দেওয়ার বিষয়টাই মিঠুর অনুসরণ করেন, ‘যেদিন সাহায্য পান না (উইকেট থেকে) সেদিনও অনেক চেষ্টা করেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে শতভাগ চেষ্টা করার বিষয়টা হাতে আছে। তবে সব সময় যে সফল হতে পারব সেটা হাতে নাই। একটা ভালো বলে আউট হয়ে যেতে পারি। তুষার ও রাজ ভাইদের মধ্যে যে চেষ্টা দেখেছি, ওটা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করে।’