ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন শফিক ও শাকিল Logo স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল Logo ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ’ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী Logo সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী Logo গোমেজের চোটে দুশ্চিন্তায় লিভারপুলের নতুন কোচ ইরাওলা Logo অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ইমরুলের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ে শুরু টাইগারদের

প্রতিনিধির নাম :
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ২৮ রানের জয় পেয়েছে তারা। এতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাশরাফি বাহিনী। রবিবার দুপুরে শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৭১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৪৩ রানে থেমেছে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নামা জিম্বাবুয়েকে চাপে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। ৪৮ রান করা সিন উইলিয়ামস একাই কিছুটা লড়াই করেছন। বাকিদের কেউ বড় স্কোর গড়তে পারেননি। দলীয় ৪৮ রানে নাজমুল ইসলাম অপু ওপেনিং জুটি ভেঙে দেয়ার পর বদলাতে থাকে চিত্র। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন হতে থাকে। অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কাইল জার্ভিস ৩৭, কেপাস জুয়াও ৩৫, পিটার মুর ২৬, ক্রেইগ এরভিন ২৪ ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ২১ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদি হাসান মিরাজ ৪৬ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। এছাড়া নাজমুল ইসলাম অপু দুটি এবং মাহমুদউল্লাহ ও মুস্তাফজুর রহমান একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে বাংলাদেশ। ইমরুল করেছেন ১৪৪ রান। এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিমের করা ১৫৪ রানের পর এটিই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেই সুবাদে হয়েছেন ম্যাচসেরাও। তাকে শেষ দিকে সঙ্গ দেয়া সাইফ উদ্দিনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে আউট হয়েছেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম থেকেই চাপে ছিল টাইগাররা। বলা যায়, একক প্রচেষ্টায় বারবার সেই চাপ কাটিয়ে দলকে খেলায় ফেরান ইমরুল। সেই চেষ্টায় কখনও সঙ্গী হয়েছেন মুশফিক, আবার কখনও মিঠুন-সাইফ। অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মহড়ার মধ্যে ১৪৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের মাধ্যমে নিজেকে আবারও প্রমাণ করছেন ইমরুল কায়েস। ১৪০ বল থেকে ১৩টি চার ও ছয়টি ছক্কার মারে এ রান করেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
সাকিব-তামিম বিহীন ম্যাচে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে শুরুতে নেমেছিলেন ইমরুল ও লিটন দাস। তবে দলীয় ১৬ রানেই লিটন আউট হয়ে যান। এরপর মাঠে নামেন অভিষিক্ত ফজলে মাহমুদ রাব্বি। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান তিনি। মাত্র ১৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে সেই চাপ কাটাতে খেলছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি। দলীয় ৬৬ রানে ফিরে যান দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিক (১৫)।
এরপর ইমরুলের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মিঠুন। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন ৭৩ রান যোগ করেন। এরপর মিঠুন আউট হয়ে যান ব্যক্তিগত ৩৭ রানে। তাকে অনুসরণ করেন মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ। ১৩৯ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে একপাশে অবিচল ছিলেন ইমরুল। তার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে জুটি বাঁধেন সাইফ উদ্দিন। তারা দু’জন এই জুটিতে করেন ১২৭ রান। এটি ওয়ানডেতে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
মূলত এখান থেকেই লড়াই করার মতো স্কোর পায় মাশরাফি বাহিনী। পরে ইমরুল ও সাইফ দুজনই আউট হলেও বাংলাদেশ ২৭১ রান করতে সক্ষম হয়। জিম্বাবুয়ের কাইল জার্ভিস চারটি এবং টেন্ডাই চাতারা তিনটি করে উইকেট নেন।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ২৪ ও ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।
Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮
১৩ বার পঠিত হয়েছে

ইমরুলের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ে শুরু টাইগারদের

আপডেট এর সময় : ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ২৮ রানের জয় পেয়েছে তারা। এতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাশরাফি বাহিনী। রবিবার দুপুরে শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৭১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৪৩ রানে থেমেছে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নামা জিম্বাবুয়েকে চাপে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। ৪৮ রান করা সিন উইলিয়ামস একাই কিছুটা লড়াই করেছন। বাকিদের কেউ বড় স্কোর গড়তে পারেননি। দলীয় ৪৮ রানে নাজমুল ইসলাম অপু ওপেনিং জুটি ভেঙে দেয়ার পর বদলাতে থাকে চিত্র। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন হতে থাকে। অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কাইল জার্ভিস ৩৭, কেপাস জুয়াও ৩৫, পিটার মুর ২৬, ক্রেইগ এরভিন ২৪ ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ২১ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদি হাসান মিরাজ ৪৬ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। এছাড়া নাজমুল ইসলাম অপু দুটি এবং মাহমুদউল্লাহ ও মুস্তাফজুর রহমান একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে বাংলাদেশ। ইমরুল করেছেন ১৪৪ রান। এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিমের করা ১৫৪ রানের পর এটিই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেই সুবাদে হয়েছেন ম্যাচসেরাও। তাকে শেষ দিকে সঙ্গ দেয়া সাইফ উদ্দিনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে আউট হয়েছেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম থেকেই চাপে ছিল টাইগাররা। বলা যায়, একক প্রচেষ্টায় বারবার সেই চাপ কাটিয়ে দলকে খেলায় ফেরান ইমরুল। সেই চেষ্টায় কখনও সঙ্গী হয়েছেন মুশফিক, আবার কখনও মিঠুন-সাইফ। অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মহড়ার মধ্যে ১৪৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের মাধ্যমে নিজেকে আবারও প্রমাণ করছেন ইমরুল কায়েস। ১৪০ বল থেকে ১৩টি চার ও ছয়টি ছক্কার মারে এ রান করেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
সাকিব-তামিম বিহীন ম্যাচে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে শুরুতে নেমেছিলেন ইমরুল ও লিটন দাস। তবে দলীয় ১৬ রানেই লিটন আউট হয়ে যান। এরপর মাঠে নামেন অভিষিক্ত ফজলে মাহমুদ রাব্বি। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান তিনি। মাত্র ১৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে সেই চাপ কাটাতে খেলছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি। দলীয় ৬৬ রানে ফিরে যান দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিক (১৫)।
এরপর ইমরুলের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মিঠুন। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন ৭৩ রান যোগ করেন। এরপর মিঠুন আউট হয়ে যান ব্যক্তিগত ৩৭ রানে। তাকে অনুসরণ করেন মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ। ১৩৯ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে একপাশে অবিচল ছিলেন ইমরুল। তার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে জুটি বাঁধেন সাইফ উদ্দিন। তারা দু’জন এই জুটিতে করেন ১২৭ রান। এটি ওয়ানডেতে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
মূলত এখান থেকেই লড়াই করার মতো স্কোর পায় মাশরাফি বাহিনী। পরে ইমরুল ও সাইফ দুজনই আউট হলেও বাংলাদেশ ২৭১ রান করতে সক্ষম হয়। জিম্বাবুয়ের কাইল জার্ভিস চারটি এবং টেন্ডাই চাতারা তিনটি করে উইকেট নেন।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ২৪ ও ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।