ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল Logo ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ’ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী Logo সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী Logo গোমেজের চোটে দুশ্চিন্তায় লিভারপুলের নতুন কোচ ইরাওলা Logo অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী/// Logo টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া Logo টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

৫ শতাংশ না দিলে হয়রানি, প্রশ্নের মুখে অফিসের স্বচ্ছতা

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আওতাধীন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর অভিজাত এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়মিত আনাগোনায় ব্যস্ত থাকা এই সরকারি দপ্তরকে ঘিরে এবার উঠেছে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসের এক নকল নবীশ কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি অনিয়মের চক্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদমর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও অফিসের কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব অনেক বেশি। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করেন, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি শতাংশ কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হয় এবং কাজ বিলম্বিত করা হয়। এতে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

একজন দলিল লেখক বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিলের প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে কাজ শেষ করতে হয়।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব শুধু অফিসের কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তাঁর জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন? এর পেছনে কোনো শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি সেবা খাতে অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব ও অভিযোগের নেপথ্যে কারা— তা জানতে চলছে অনুসন্ধান। বিস্তারিত থাকছে আগামী প্রতিবেদনে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
৪৫ বার পঠিত হয়েছে

৫ শতাংশ না দিলে হয়রানি, প্রশ্নের মুখে অফিসের স্বচ্ছতা

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আওতাধীন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর অভিজাত এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়মিত আনাগোনায় ব্যস্ত থাকা এই সরকারি দপ্তরকে ঘিরে এবার উঠেছে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসের এক নকল নবীশ কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি অনিয়মের চক্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদমর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও অফিসের কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব অনেক বেশি। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করেন, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি শতাংশ কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হয় এবং কাজ বিলম্বিত করা হয়। এতে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

একজন দলিল লেখক বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিলের প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে কাজ শেষ করতে হয়।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব শুধু অফিসের কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তাঁর জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন? এর পেছনে কোনো শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি সেবা খাতে অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব ও অভিযোগের নেপথ্যে কারা— তা জানতে চলছে অনুসন্ধান। বিস্তারিত থাকছে আগামী প্রতিবেদনে।