ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে উৎসাহ দেবে পাকিস্তান Logo কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার Logo সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন Logo নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জোরালো সমর্থন চেয়েছেন উপদেষ্টা তিতুমীর Logo বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ভীষণ হতাশ : বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আক্ষেপ এমবাপ্পের Logo স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ Logo ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি Logo দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

৫ শতাংশ না দিলে হয়রানি, প্রশ্নের মুখে অফিসের স্বচ্ছতা

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আওতাধীন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর অভিজাত এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়মিত আনাগোনায় ব্যস্ত থাকা এই সরকারি দপ্তরকে ঘিরে এবার উঠেছে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসের এক নকল নবীশ কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি অনিয়মের চক্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদমর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও অফিসের কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব অনেক বেশি। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করেন, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি শতাংশ কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হয় এবং কাজ বিলম্বিত করা হয়। এতে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

একজন দলিল লেখক বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিলের প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে কাজ শেষ করতে হয়।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব শুধু অফিসের কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তাঁর জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন? এর পেছনে কোনো শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি সেবা খাতে অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব ও অভিযোগের নেপথ্যে কারা— তা জানতে চলছে অনুসন্ধান। বিস্তারিত থাকছে আগামী প্রতিবেদনে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
৩৭ বার পঠিত হয়েছে

৫ শতাংশ না দিলে হয়রানি, প্রশ্নের মুখে অফিসের স্বচ্ছতা

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আওতাধীন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর অভিজাত এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়মিত আনাগোনায় ব্যস্ত থাকা এই সরকারি দপ্তরকে ঘিরে এবার উঠেছে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসের এক নকল নবীশ কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি অনিয়মের চক্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদমর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও অফিসের কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব অনেক বেশি। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করেন, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি শতাংশ কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হয় এবং কাজ বিলম্বিত করা হয়। এতে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

একজন দলিল লেখক বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিলের প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে কাজ শেষ করতে হয়।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব শুধু অফিসের কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তাঁর জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন? এর পেছনে কোনো শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি সেবা খাতে অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব ও অভিযোগের নেপথ্যে কারা— তা জানতে চলছে অনুসন্ধান। বিস্তারিত থাকছে আগামী প্রতিবেদনে।