ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন শফিক ও শাকিল Logo স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান Logo যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল Logo ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ’ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী Logo সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী Logo গোমেজের চোটে দুশ্চিন্তায় লিভারপুলের নতুন কোচ ইরাওলা Logo অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২ মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ Logo জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জনগণকে খোয়াড়ে আটকাচ্ছে সরকার : রিজভী

প্রতিনিধির নাম :

ষমতাসীন সরকার প্রণীত বিভিন্ন আইনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে জনগণকে গবাদি পশুর খোয়াড়ে আটকে রাখছেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের পর এবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে আরেকটি ভয়ঙ্কর আইন করতে যাচ্ছে সরকার।

আজ বুধবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মিথ্যা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই সরকারের হুকুমে আরেকটি ‘ফরমায়েসী’ রায়ের দিন ধার্য করেছেন নি¤œ আদালত। যেটি সম্পূর্ণরূপে বেআইনী ও নি¤œ আদালতে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, অসুস্থ ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য চলার বিধান পৃথিবীর দেশগুলোতে নেই। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বেআইনী খারাপ নজীর সৃষ্টিকারী সরকার। তারা জিঘাংসার নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, এটিও তার একটি।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে এবং মানুষকে বোবা বানিয়ে দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের পর এবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে আরেকটি ভয়ঙ্কর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপারে বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রকাশ করলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা। টকশোতে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচার করলেও একই সাজা। নীতিমালায় আরো বলা আছে- কমিশন গঠন করে রেডিও-টেলিভিশন-অনলাইনসহ সব মিডিয়ার লাইসেন্স দেয়া হবে এবং যেকোনো কারণে তাদের লাইসেন্স তারা বাতিল করতেও পারবে।

রিজভী বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার ছিনতাই করে গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গায়েবী মামলা, কবরে শায়িত লাশের বিরুদ্ধে মামলা, হাসপাতালে শায়িত অশীতিপর বৃদ্ধ ও পবিত্র হজ¦ পালনরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় বাছ-বিচারহীন গ্রেফতারের মাধ্যমে দেশটাকে নৈরাজ্যে ভরিয়ে দিয়েও স্বস্তি পাচ্ছে না। দুর্নীতির খবর চেপে রেখে নিজেদেরকে নিরাপদ করার জন্যই কি মিডিয়ার মুখ বন্ধ করতে একের পর এক ভয়ংকর কালো আইন করে যাচ্ছে সরকার?

তিনি বলেন, সরকারের করা একেকটা কালো আইন দেখে মানুষ এখন ৭২ থেকে ৭৫-এর কথাই বলাবলি করছে। ’৭৫-এ বাকশাল গঠনের পর সরকারের অনুগত ৪টি পত্রিকা রেখে সব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছিল। সে সময় গণমাধ্যমের লোকজনদেরকে চাকরি হারিয়ে হকারগিরি করতে হয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, এবার যেসব ভয়ঙ্কর নিবর্তনমূলক আইন করা হচ্ছে তাতে গণমাধ্যমের মালিকরাই গণমাধ্যম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। মানুষ ভয়ে কথা না বলে নিজে নিজে বোবা হয়ে যাবেন। টকশোতে কথা বলা দূরে থাক, এখনই বলতে শোনা যাচ্ছে, আর টকশোতে যাওয়া যাবে না। কারণ কোন কথাটা সরকারের কাছে মিথ্যা বলে বিবেচিত হবে আর মাথায় নিতে হবে জেল জরিমানা।

তিনি বলেন, মুক্ত গণমাধ্যমের দাবিতে সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এখন যুথবদ্ধ সোচ্চার। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে কালো আইন সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮
১১ বার পঠিত হয়েছে

জনগণকে খোয়াড়ে আটকাচ্ছে সরকার : রিজভী

আপডেট এর সময় : ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

ষমতাসীন সরকার প্রণীত বিভিন্ন আইনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে জনগণকে গবাদি পশুর খোয়াড়ে আটকে রাখছেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের পর এবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে আরেকটি ভয়ঙ্কর আইন করতে যাচ্ছে সরকার।

আজ বুধবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মিথ্যা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই সরকারের হুকুমে আরেকটি ‘ফরমায়েসী’ রায়ের দিন ধার্য করেছেন নি¤œ আদালত। যেটি সম্পূর্ণরূপে বেআইনী ও নি¤œ আদালতে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, অসুস্থ ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য চলার বিধান পৃথিবীর দেশগুলোতে নেই। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বেআইনী খারাপ নজীর সৃষ্টিকারী সরকার। তারা জিঘাংসার নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, এটিও তার একটি।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে এবং মানুষকে বোবা বানিয়ে দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের পর এবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে আরেকটি ভয়ঙ্কর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপারে বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রকাশ করলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা। টকশোতে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচার করলেও একই সাজা। নীতিমালায় আরো বলা আছে- কমিশন গঠন করে রেডিও-টেলিভিশন-অনলাইনসহ সব মিডিয়ার লাইসেন্স দেয়া হবে এবং যেকোনো কারণে তাদের লাইসেন্স তারা বাতিল করতেও পারবে।

রিজভী বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার ছিনতাই করে গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গায়েবী মামলা, কবরে শায়িত লাশের বিরুদ্ধে মামলা, হাসপাতালে শায়িত অশীতিপর বৃদ্ধ ও পবিত্র হজ¦ পালনরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় বাছ-বিচারহীন গ্রেফতারের মাধ্যমে দেশটাকে নৈরাজ্যে ভরিয়ে দিয়েও স্বস্তি পাচ্ছে না। দুর্নীতির খবর চেপে রেখে নিজেদেরকে নিরাপদ করার জন্যই কি মিডিয়ার মুখ বন্ধ করতে একের পর এক ভয়ংকর কালো আইন করে যাচ্ছে সরকার?

তিনি বলেন, সরকারের করা একেকটা কালো আইন দেখে মানুষ এখন ৭২ থেকে ৭৫-এর কথাই বলাবলি করছে। ’৭৫-এ বাকশাল গঠনের পর সরকারের অনুগত ৪টি পত্রিকা রেখে সব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছিল। সে সময় গণমাধ্যমের লোকজনদেরকে চাকরি হারিয়ে হকারগিরি করতে হয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, এবার যেসব ভয়ঙ্কর নিবর্তনমূলক আইন করা হচ্ছে তাতে গণমাধ্যমের মালিকরাই গণমাধ্যম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। মানুষ ভয়ে কথা না বলে নিজে নিজে বোবা হয়ে যাবেন। টকশোতে কথা বলা দূরে থাক, এখনই বলতে শোনা যাচ্ছে, আর টকশোতে যাওয়া যাবে না। কারণ কোন কথাটা সরকারের কাছে মিথ্যা বলে বিবেচিত হবে আর মাথায় নিতে হবে জেল জরিমানা।

তিনি বলেন, মুক্ত গণমাধ্যমের দাবিতে সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এখন যুথবদ্ধ সোচ্চার। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে কালো আইন সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।