ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে উৎসাহ দেবে পাকিস্তান Logo কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার Logo সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন Logo নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জোরালো সমর্থন চেয়েছেন উপদেষ্টা তিতুমীর Logo বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ভীষণ হতাশ : বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আক্ষেপ এমবাপ্পের Logo স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ Logo ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি Logo দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

প্রতিনিধির নাম :

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারের মধ্যকার ভালোবাসা, সম্মান ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। আমাদের সমাজে বিয়ের সময় বর বা জামাইকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে স্বর্ণের আংটিও উপহার দিয়ে থাকেন। তবে প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, তাহলে তিনি কি সেটি ব্যবহার করতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ?

ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার পরিধান করা হারাম। তবে স্বর্ণের মালিক হওয়া হারাম নয়। অর্থাৎ কোনো পুরুষকে স্বর্ণ উপহার হিসেবে দেওয়া এবং তার সেই উপহার গ্রহণ করা বৈধ।

সুতরাং বিয়ের সময় শ্বশুর-শাশুড়ি যদি ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে জামাইকে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেন, তাহলে এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে উপহার গ্রহণ করার পর জামাই নিজে সেই আংটি পরতে পারবেন না। তিনি চাইলে সেটি নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন কিংবা সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ?

রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ

‘এক ব্যক্তি হাতে স্বর্ণের আংটি পরেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধারণ করতে চায়?’ (মুসলিম ২০৯০)

আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَلْبَسْ حَرِيرًا وَلَا ذَهَبًا

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার না করে।’ (মুসনাদে আহমদ ২২২৪৮)

বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবহারের অনুমতি

সাধারণ অবস্থায় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও চিকিৎসাগত বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু ব্যতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে।

সাহাবি হজরত আরফাজা ইবন আসআদ (রা.)-এর নাক যুদ্ধের সময় কেটে গেলে প্রথমে তিনি রূপার নাক ব্যবহার করেন। পরে তা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে স্বর্ণের নাক ব্যবহার করার অনুমতি দেন। (মুসনাদে আহমদ ১৮৫২৭, আবু দাউদ ৪২৩২)

বিয়ের সময় জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ পুরুষের জন্য স্বর্ণের মালিক হওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে তিনি নিজে সেই আংটি পরিধান করতে পারবেন না। চাইলে স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্যকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

একজন মুসলিমের জন্য প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারে নয়; বরং আল্লাহর বিধান মেনে চলা, তাকওয়া অর্জন করা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। তাই বিয়ের উপহার নির্বাচন ও ব্যবহার— উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুমিনের উত্তম পরিচয়।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
৩২ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

আপডেট এর সময় : ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারের মধ্যকার ভালোবাসা, সম্মান ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। আমাদের সমাজে বিয়ের সময় বর বা জামাইকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে স্বর্ণের আংটিও উপহার দিয়ে থাকেন। তবে প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, তাহলে তিনি কি সেটি ব্যবহার করতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ?

ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার পরিধান করা হারাম। তবে স্বর্ণের মালিক হওয়া হারাম নয়। অর্থাৎ কোনো পুরুষকে স্বর্ণ উপহার হিসেবে দেওয়া এবং তার সেই উপহার গ্রহণ করা বৈধ।

সুতরাং বিয়ের সময় শ্বশুর-শাশুড়ি যদি ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে জামাইকে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেন, তাহলে এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে উপহার গ্রহণ করার পর জামাই নিজে সেই আংটি পরতে পারবেন না। তিনি চাইলে সেটি নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন কিংবা সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ?

রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ

‘এক ব্যক্তি হাতে স্বর্ণের আংটি পরেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধারণ করতে চায়?’ (মুসলিম ২০৯০)

আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَلْبَسْ حَرِيرًا وَلَا ذَهَبًا

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার না করে।’ (মুসনাদে আহমদ ২২২৪৮)

বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবহারের অনুমতি

সাধারণ অবস্থায় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও চিকিৎসাগত বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু ব্যতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে।

সাহাবি হজরত আরফাজা ইবন আসআদ (রা.)-এর নাক যুদ্ধের সময় কেটে গেলে প্রথমে তিনি রূপার নাক ব্যবহার করেন। পরে তা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে স্বর্ণের নাক ব্যবহার করার অনুমতি দেন। (মুসনাদে আহমদ ১৮৫২৭, আবু দাউদ ৪২৩২)

বিয়ের সময় জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ পুরুষের জন্য স্বর্ণের মালিক হওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে তিনি নিজে সেই আংটি পরিধান করতে পারবেন না। চাইলে স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্যকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

একজন মুসলিমের জন্য প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারে নয়; বরং আল্লাহর বিধান মেনে চলা, তাকওয়া অর্জন করা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। তাই বিয়ের উপহার নির্বাচন ও ব্যবহার— উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুমিনের উত্তম পরিচয়।