ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে মেধার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেল ২৬ তরুণ-তরুণী Logo এআই চিপের ব্যাপক চাহিদায় প্রথম প্রান্তিকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সিঙ্গাপুরের Logo সোমবারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি : আশাবাদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরাইলের Logo জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন Logo ঈদে উপকূলজুড়ে কোস্ট গার্ডের হাই প্রোফাইল নিরাপত্তা বলয় Logo হিলি স্থলবন্দর ঈদুল আযহায় ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo যুদ্ধ অবসানে চুক্তি চূড়ান্তের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

দিল্লিতে আমার বোন অক্সিজেনের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে: শবনম ফারিয়া

প্রতিনিধির নাম :

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে অক্সিজেন সংকটে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বড় বোন বন্যার জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বুধবার (৫ মে) মধ্যরাতে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে তার বড় বোন করোনায় আক্রান্ত নাকি অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন সে সম্পর্কে কিছু জানাননি ফারিয়া।

শবনম ফারিয়ার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমার বড় বোন আমার ১৬ বছর আর মেজো বোন প্রায় ১২ বছরের বড়! আমার সারাজীবন কষ্ট ছিল, অন্যদের বোনদের সাথে যেমন বন্ডিং থাকে আমার নাই! ইনফ্যাক্ট আমার বড় দুইবোনের নিজেদের মধ্যে যেই বন্ডিং সেটা আমার সাথে নাই! আমার বয়স যখন সাড়ে তিন বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে, ৫ বছর বয়সে ছোট আপু পড়াশুনার জন্য বাসার বাইরে, তারপরতো বিয়েই হয়ে গেল আপুর! আমি সেভাবে কখনো আমার বোনদের সাথে থাকি নাই। বরং আমার ভাগ্না-ভাগ্নি আমার বন্ধু!

বয়সে যুগের পার্থক্য থাকায় আমার সাথে ওদের একটা জেনারেশন গ্যাপ সব সময়ই প্রকট! তার উপর তাদের সব সময় মনে হতো ‘ভাল ফ্যামিলির মেয়েরা মিডিয়াতে কাজ করে না’, এইটা নিয়ে আমার দুঃখের সীমা-পরিসীমা নাই! কখনো উৎসাহ দূরের কথা, পারলে দুই-চারটা কথা শোনানোর সুযোগ পেলে মিস করে না! কষ্টের উপর ডাবল কষ্ট!

কিন্তু পরশু আমার বড় আপু যখন বললো, ‘তৃপ্তি আমার খুব কষ্ট হচ্ছে’ আমি জানি ফোনটা রেখে আমি কতক্ষণ হাউ-মাউ করে কাঁদছি! আমার মেজোবোন কল করে কাঁদতে কাঁদতে যখন বললো- ‘তৃপ্তি আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি এতো মানুষকে খাওয়াই, আমার বোন বিদেশে শুয়ে খাওয়ার কষ্ট পাচ্ছে’ কি বলে আমার বোনকে সান্তনা দিবো!

আমার বাবা ডাক্তার ছিলো। সবার সব অসুস্থতায় বাবার কাছে আসতো! আজকে দিল্লিতে আমার বোন অক্সিজেন এর অভাবে কষ্ট পাচ্ছে! আমরা হেল্পলেস, কিছু করার নাই।

আমরা পরশু পর্যন্ত মার কাছ থেকে পুরা বিষয়টা গোপন করে রেখেছি। কালকে মেজোবোন বললো, ‘তৃপ্তি আম্মু দোয়া করলে যদি বন্যা ভাল হয়ে যায়, চল আমরা আম্মুকে জানাই। গত দুইদিন আমার মার মুখের দিকে তাকানো যায় না। তার বড় মেয়ে, ১৮ বছর বয়সে তার মেয়ে হইসে। যখন সে নিজেই বাচ্চা…। সেই মেয়ের এই অবস্থা তো তার সহ্য হয় না। তাও এতো দূরে এখন!

আমরা আসলে কাছের মানুষদের উপরই বেশি অভিমান করি, কষ্ট পাই, রাগ করি। আর সম্ভবত সেজন্যেই তারা কাছের মানুষ! দূরের মানুষের সাথে আর কিসের রাগ! কিন্তু কিছু ঘটনা আসে, তখন বুঝতে পারি আমাদের জীবনে তারা কত স্পেশাল, তাদের আমরা কত ভালবাসি, তারা কত কিছু করে আমাদের জন্য…।

সবার কাছে একটা অনুরোধ, আপনার দোয়ার সময় আমার বড় আপুর কথা একটু স্মরণ করবেন। ঢাকায় বসে আসলে দোয়া করা বা দোয়া চাওয়া ছাড়া আমাদের কিছু করার নাই।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১
৬ বার পঠিত হয়েছে

দিল্লিতে আমার বোন অক্সিজেনের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে: শবনম ফারিয়া

আপডেট এর সময় : ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে অক্সিজেন সংকটে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বড় বোন বন্যার জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বুধবার (৫ মে) মধ্যরাতে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে তার বড় বোন করোনায় আক্রান্ত নাকি অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন সে সম্পর্কে কিছু জানাননি ফারিয়া।

শবনম ফারিয়ার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমার বড় বোন আমার ১৬ বছর আর মেজো বোন প্রায় ১২ বছরের বড়! আমার সারাজীবন কষ্ট ছিল, অন্যদের বোনদের সাথে যেমন বন্ডিং থাকে আমার নাই! ইনফ্যাক্ট আমার বড় দুইবোনের নিজেদের মধ্যে যেই বন্ডিং সেটা আমার সাথে নাই! আমার বয়স যখন সাড়ে তিন বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে, ৫ বছর বয়সে ছোট আপু পড়াশুনার জন্য বাসার বাইরে, তারপরতো বিয়েই হয়ে গেল আপুর! আমি সেভাবে কখনো আমার বোনদের সাথে থাকি নাই। বরং আমার ভাগ্না-ভাগ্নি আমার বন্ধু!

বয়সে যুগের পার্থক্য থাকায় আমার সাথে ওদের একটা জেনারেশন গ্যাপ সব সময়ই প্রকট! তার উপর তাদের সব সময় মনে হতো ‘ভাল ফ্যামিলির মেয়েরা মিডিয়াতে কাজ করে না’, এইটা নিয়ে আমার দুঃখের সীমা-পরিসীমা নাই! কখনো উৎসাহ দূরের কথা, পারলে দুই-চারটা কথা শোনানোর সুযোগ পেলে মিস করে না! কষ্টের উপর ডাবল কষ্ট!

কিন্তু পরশু আমার বড় আপু যখন বললো, ‘তৃপ্তি আমার খুব কষ্ট হচ্ছে’ আমি জানি ফোনটা রেখে আমি কতক্ষণ হাউ-মাউ করে কাঁদছি! আমার মেজোবোন কল করে কাঁদতে কাঁদতে যখন বললো- ‘তৃপ্তি আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি এতো মানুষকে খাওয়াই, আমার বোন বিদেশে শুয়ে খাওয়ার কষ্ট পাচ্ছে’ কি বলে আমার বোনকে সান্তনা দিবো!

আমার বাবা ডাক্তার ছিলো। সবার সব অসুস্থতায় বাবার কাছে আসতো! আজকে দিল্লিতে আমার বোন অক্সিজেন এর অভাবে কষ্ট পাচ্ছে! আমরা হেল্পলেস, কিছু করার নাই।

আমরা পরশু পর্যন্ত মার কাছ থেকে পুরা বিষয়টা গোপন করে রেখেছি। কালকে মেজোবোন বললো, ‘তৃপ্তি আম্মু দোয়া করলে যদি বন্যা ভাল হয়ে যায়, চল আমরা আম্মুকে জানাই। গত দুইদিন আমার মার মুখের দিকে তাকানো যায় না। তার বড় মেয়ে, ১৮ বছর বয়সে তার মেয়ে হইসে। যখন সে নিজেই বাচ্চা…। সেই মেয়ের এই অবস্থা তো তার সহ্য হয় না। তাও এতো দূরে এখন!

আমরা আসলে কাছের মানুষদের উপরই বেশি অভিমান করি, কষ্ট পাই, রাগ করি। আর সম্ভবত সেজন্যেই তারা কাছের মানুষ! দূরের মানুষের সাথে আর কিসের রাগ! কিন্তু কিছু ঘটনা আসে, তখন বুঝতে পারি আমাদের জীবনে তারা কত স্পেশাল, তাদের আমরা কত ভালবাসি, তারা কত কিছু করে আমাদের জন্য…।

সবার কাছে একটা অনুরোধ, আপনার দোয়ার সময় আমার বড় আপুর কথা একটু স্মরণ করবেন। ঢাকায় বসে আসলে দোয়া করা বা দোয়া চাওয়া ছাড়া আমাদের কিছু করার নাই।’